ছোটো গল্প
FREE SHIPPING IN INDIA
ছোটো গল্প
ছুঁচোর বর্ণনা দিতে গিয়ে বলা হয়েছিল, এটি নাকি রকেটের থেকেও নিরাপদ। রকেট খানিক এগিয়ে যাওয়ার পর আওয়াজ করে ফাটে। কিন্তু এই মহার্ঘ্য বস্তুটিতে ফাটাফাটির কোনও ভয়ই নেই। শুধু সাঁই সাঁই করে এগিয়ে যাবে আর যাওয়ার পথে ফেলে রেখে যাবে দেদার হলুদ আলোর ফুলকি।
রাজীব রায় গোস্বামী
এ তো দেখা যাচ্ছে মহাবিপদ! ডানদিক কমালে বাঁদিক বেড়ে যাচ্ছে, আবার বাঁদিক কমালে ডানদিক! এমনিতেই কেমিস্ট্রির চিহ্নগুলো দেখলে মনে হয় গজদন্ত বার করে তেড়ে আসছে, তার ওপর আবার এই সমীকরণ! ধুস, ঘোড়ার ডিম। শাপশাপান্ত করতে করতে খাতাপত্তর ছুড়ে ফেলে উঠে পড়ে পিংলে।
জানালায় গিয়ে দাঁড়াতেই ফকফকে নীল আকাশ হাতছানি দিয়ে ডাকে। তিড়িংবিড়িং লাফাতে লাফাতে এগিয়ে যায় দরজার দিকে। সুড়ুৎ করে মুণ্ডুখানা বার করে দেয় বকের মতো। বাইরে পা রাখার আগে একবার বুঝে নিতে হবে পিতৃদেব অফিসে বেরিয়ে গেছেন কিনা।
হুম, মায়ের হাতা-খুন্তির আওয়াজ ছাড়া আর কোনও আওয়াজ নেই। গতিক তো বেশ সুবিধেরই মনে হচ্ছে। খুশিতে ডগমগ পিংলে, খানকয়েক উচ্চিংড়ে লাফ দিয়ে সোজা ছাদে। বাব্বা, এতক্ষণে যেন হাইড্রোজেন আর অক্সিজেনের ভূত ঘাড় থেকে নামল।
সাবেক কালের বনেদি বাড়ি। ছাদের বেশ খানিকটা ভিতরে একটা আমগাছের ডাল ঝুঁকে এসে পড়েছে। পাতার ফাঁকে ঝলমলে রোদ্দুর। দেখলেই বোঝা যায়, কালীপুজোর আর বেশি দেরি নেই। আর কালীপুজো মানেই সরকারবাড়িতে উৎসবের আমেজ।
বাড়ির পিছন দিকে শান-বাঁধানো পুকুর। ঘাটলা থেকে জ্যাঠামশাইয়ের গলা কানে এলে সেই দিকে উঁকি মারে পিংলে। ঘাটের পাশেই তৈরি হচ্ছে মণ্ডপ। ডেকোরেটরের লোকজনদের সবকিছু ভালো করে বুঝিয়ে দিচ্ছেন মণিজ্যাঠা।
ফি বছর সরকারবাড়িতে কালীপুজো হয়। একান্নবর্তী পরিবার ভেঙে সবাই নানাদিকে ছড়িয়ে পড়লেও, এই সময়টায় হাজির হয় প্রত্যেকে। বন্ধ হয়ে পড়ে থাকা ঘরগুলো গমগম করে ওঠে তখন।
পুকুরঘাটের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে হঠাৎ একটা পোড়া গন্ধ নাকে এসে ঝাপটায়। ঘাড় ঘোরালে ধোঁয়ার কুণ্ডুলী চোখে পড়ে। চিলেকোঠার আড়াল থেকে আসছে। নিশ্চয়ই ওইখানে বসে আগুন ধরিয়েছে কেউ। কিন্তু ওখানে কেন?
পায়ে পায়ে এগিয়ে গিয়ে যা দেখে, তাতে পিংলের ঘিলু পিড়িং পিড়িং নাচতে শুরু করে। সবার চোখের আড়ালে এইসব কী কাণ্ড রে বাওয়া! কিছু কুলকাঠ জোগাড় করে তাতে কেরোসিন সহকারে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
“এইখানে লুকিয়ে লুকিয়ে কী করছ গো ছোটকা?”
“অ্যাই, খবরদার বলছি বাজে কথা বলবি না। লুকিয়ে লুকিয়ে আবার কী, অ্যাঁ! লুকিয়ে লুকিয়ে আবার কী? তোর এই ছোটকা কাউকে ভয় পায় না, বুঝলি?”
পিংলে বোঝে, বেগতিক হয়ে গেছে।— “রাগ কচ্ছ কেন গো ছোটকা? আসলে সেইদিন মণিজ্যাঠা ওইরকম বলল কিনা, তাই জানতে চাইলুম আর কি।”
“কী বলল, অ্যাঁ? কী বলল শুনি? আর বলেছে বলেই ভয় পেয়ে আমি আমার কাজকম্মো সব বন্ধ করে দিয়েছি নাকি?”
কাজকম্মো যে বন্ধ হয়নি সে এখন ভালোই বোঝা যাচ্ছে। দু-এক মুহূর্ত বাদে একটু মুচকি হেসে ছোটকা বলে, “কাঠকয়লা তৈরি কচ্ছি, হে হে...”
“কী হবে?”
“ছুঁচোবাজির নাম শুনেছিস জীবনে?”
না, এইরকম বাজির কথা পিংলে কোনোদিনও শোনেনি।
“না তো!”
“যা শুনিসনি এইবার নিজের চোখে সেটা দেখতে পাবি।” কথাটা বলার পর হঠাৎ চোখ-মুখ পাকিয়ে কার উদ্দেশে কী একটা যেন বিড়বিড় করে ছোটকা, “তুমি ঘুঘু দেখেছ ফাঁদ দেখোনি, অ্যাঁ? এইবারে দেখাচ্ছি মজা।”
রহস্যের গন্ধ পেয়ে পিংলের দুই চোখ নাচতে শুরু করে।
একটা কুলগাছের ডালে আগুনে দিতে দিতে ছোটকা বলে, “কাঠকয়লা তৈরি করতে হলে কুলকাঠই সবথেকে ভালো। দুপরে খাওয়াদাওয়ার পর ছাদে আসিস একবার। আমি তোকে শিখিয়ে দেব ছুঁচোবাজি কী করে বানাতে হয়। কিন্তু একটা শর্ত আছে।”
“কী শর্ত?”
“ফাইনাল অ্যাকশনের আগে কোনও কথা পাঁচকান করা চলবে না।”
“সে তুমি নিশ্চিন্ত থাকো। কাকপক্ষীও কিছু টের পাবে না।”
২
পুজোর আগে প্রতিবারই একটা ফ্যামিলি মিটিং ডাকা হয়। এইবারও হয়েছিল। সেখানে ঠিক হয়েছে কোনও আতসবাজি চলবে না। তবে ছোটকা সেই শর্ত সহজে মেনে নেয়নি। রেগেমেগে বেশ খানিক বকবকম করেছিল। বলেছিল, “এটা কেমন হল, মণিদা! আমরা কখনও চকলেট বোম, দোদমা এইসব ফাটিয়েছি?”
উত্তরে মণিজ্যাঠা বলেন, “শুধু ওসব কেন, ফুলঝুরি, তারাবাজি, তুবড়ি কিছুই ফাটাবি না।”
“কেন!”
“গেল বার কী তুবড়ি বানিয়েছিলি আমাদের মনে নেই? আবার জিজ্ঞেস কচ্ছিস কেন! ভসভস করে খালি আওয়াজ করে আর নিভে যায়। শেষে একটা দাম করে ফেটে মণ্ডপে আগুন ধরার জোগাড়। মনে নেই ভেবেছিস?”
“সে না-হয় আমরা একটু দূরে গিয়ে...”
ছোটকার কথা শেষ হবার আগেই হুংকার দেন মণিজ্যাঠা, “কান খুলে শুনে রাখ ঘণ্টা, এই বাড়ির ত্রিসীমানায় ওই সব কাণ্ডকেত্তন করা যাবে না। বাড়িতে এতগুলো কচিকাঁচা। একজনকে দেখলেই আর একজন লাফালাফি শুরু করবে। সবগুলোকে কে সামলাবে! তুই, অ্যাঁ?”
একটু থেমে মণিজ্যাঠা আবার বলেন, “সারা পাড়ার মানুষজন আসেন পুজোর সময়। কোনও একটা অঘটন ঘটে গেলে আমি কিন্তু তোকে ছেড়ে কথা বলব না। মনে রাখিস সে-কথা।”
সিংহ গর্জনের সামনে বিড়ালের মিউমিউ উড়ে যায়। গাঁইগুঁই করতে করতে চুপ করে যায় ছোটকা। কিন্তু এখন, এই কাণ্ড দেখে বেশ বুঝতে পারা যাচ্ছে, সবার চোখের আড়ালে কিছু একটা ঘোঁট সে পাকাচ্ছে। আর একটু আগে, ওই মণিজ্যাঠার উদ্দেশেই বিড়বিড় করেছে সে।
৩
দুপুরে খাওয়ার পর পিংলেকে আবার পড়ার টেবিলে বসতে দেখে মা অবাক হয়ে যান। যে-ছেলে পড়ার সময়ই দু-দণ্ড স্থির হয়ে বসতে পারে না, সে আবার এই অসময়ে বই নিয়ে বসে পড়ল! অদ্ভুত কাণ্ড!
আসলে মক্কেল ঘাপটি মেরে ছিল। বাড়ি নিঝুম হতেই পা টিপে টিপে পৌঁছে গেল যথাস্থানে।
কার্তিকের দুপুরে ছায়া নামে তাড়াতাড়ি। ছাদের মাঝখানে, সেই ছায়ায় ভিতর যাবতীয় সরঞ্জাম ছড়িয়ে বসেছে ছোটকা। পুরোনো খবরের কাগজ, একটা প্রমাণ সাইজের কাঁচি আর ছোটো ছোটো ভাঁড়ে হরেকরকমের জিনিস।
“এগুলো কী গো?”
“কী আবার, মশলা!”
“মশলা?”
“ইয়েস। ছুঁচোর ম্যাটেরিয়াল। ঠিক করে মেশাতে হবে, তারপর ঠাসতে হবে, খুব সাবধানে। একটু এদিক-ওদিক হলেই আর দেখতে হবে না।”
“কী এদিক-ওদিক হলে?”
কাগজের আড়ালে ছোটো একটা দাঁড়িপাল্লা এতক্ষণ নজরে পড়েনি। ছোটকা হাতে নিয়ে দেখাতে দেখাতে বলে, “মাপ। বুঝলি? মাপ।”
দাঁড়িপাল্লার দু-দিকে ছোটো ছোটো দু-খানা বাটি বসানো। ছোটকা একটা বড়ো চামচে করে খানিক লোহাচুর নিয়ে একটা বাটিতে আর খানিক গন্ধক নিয়ে অন্য বাটিটায় রাখল। তারপর পাল্লা হাতে ঝুলিয়ে দেখতে লাগল কাঁটার সূক্ষ্ম নড়াচড়া। মাপ ঠিকঠাক হলে আলতো করে ঢেলে দিল সামনে টান টান করে পাতা কাগজটায়।
বার কয়েক এইরকম করার পর পিংলে বলে ওঠে, “এ আমিও পারব।”
“উঁহু, অত সহজ নয় হে। একটু গড়বড় করলে আর দেখতে হবে না।”
“আরে তুমি আমায় দিয়েই দেখো না।”
প্রথমটায় রাজি না হলেও শেষমেশ পিংলের পীড়াপীড়িতে রাজি হয়ে যায় ঘণ্টা ওরফে ছোটকা। কতটা লোহাচুরের সঙ্গে কতটা গন্ধক মেশাতে হবে বলে দেয় পইপই করে।
পিংলে মশলা মাপে এবং ঘণ্টা মনের সুখে কাগজ কাটে। কাঁচি চালাতে-চালাতেই বলে যায়, “মাপটাই কিন্তু আসল। তড়বড় করিস না মোটে।”
পিংলে অভয় দেয়, “হ্যাঁ হ্যাঁ, তুমি নিশ্চিন্ত থাকো, ছোটকা।”
ছুঁচোর খোল তৈরি হয়ে গেলে উঠে পড়ে ঘণ্টা। চিলেকোঠার আড়ালে একটা বোতল এনে রাখা হয়েছিল কখন যেন। নিয়ে এসে ছিপিটা খোলে। গন্ধেই বোঝা যায়, কেরোসিন। বেশ কিছুটা কাঠকয়লার সঙ্গে মিশিয়ে মাখতে শুরু করে।
“এইভাবে মাখছ কেন?”
“ওরে, কাঠকয়লাই তো আগুনটা জ্বালায়। সামান্য একটু কেরোসিন দিয়ে নিলে আর চট করে নেভে না, বুঝলি।”
হেমন্তের বিকেল। একটা শিরশিরে হাওয়া শীতের জানান দিচ্ছিল বেশ খানিকক্ষণ ধরে। হঠাৎ তেজ বাড়ে। খবরের কাগজগুলো লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। একজায়গায় জড়ো করতে করতে ছোটকা বলে, “নে পিংলে, এবার তুই ছাড়। বাকিটুকু আমি করে নিচ্ছি।”
হায়, সে কল্পনাও করতে পারেনি, এর মধ্যেই আক্কেল গুড়ুম হবার যাবতীয় বন্দোবস্ত করে দিয়েছে পিংলে।
৪
কালীপুজোর আগের দিন বিকেলবেলা সবাই মিলে কুমোরপাড়ায় যাওয়া হয় ঠাকুর আনতে। পিংলেও যায় প্রতিবছর। কিন্তু এইবার ফুটবল কোচ ছুটি দেননি। প্র্যাকটিসে যেতে হয়েছিল। যখন ফিরছে মাঠ থেকে, দেখতে পায় শুনশান পুকুরঘাটে একটা মোমবাতি জ্বালিয়েছে কেউ। এগিয়ে যায়।
ভক্তি আর আল্লাদে গদগদ হয়ে ছোটকা বলে, “হে হে, সবাই গেছে মাকে আনতে। ফাঁকা বাড়ি। এই সময়টাকেই বেছে নিলুম বুঝলি, ছুঁচোগুলোকে একটু টেস্ট করে নেওয়ার জন্য। হে হে।”
কথাটা বলেই একটা ছুঁচো ফতুয়ার পকেট থেকে বার করে মোমবাতির শিখায় ধরে ছোটকা। খানিকক্ষণ ধরে রাখার পর ফুসফুস করে কেমন যেন একটা আওয়াজ হয়। ব্যস, ওইটুকুই। যেখানে ফেলা হয়েছিল, সেইখানেই দেহ রাখে ছুঁচো।
ছুঁচোর বর্ণনা দিতে গিয়ে বলা হয়েছিল, এটি নাকি রকেটের থেকেও নিরাপদ। রকেট খানিক এগিয়ে যাওয়ার পর আওয়াজ করে ফাটে। কিন্তু এই মহার্ঘ্য বস্তুটিতে ফাটাফাটির কোনও ভয়ই নেই। শুধু সাঁই সাঁই করে এগিয়ে যাবে আর যাওয়ার পথে ফেলে রেখে যাবে দেদার হলুদ আলোর ফুলকি।
আরও বলেছিল ছোটকা, আজকাল শব্দবাজি যখন বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, তখন এই জিনিস একবার মার্কেটে ফিরিয়ে আনতে পারলে নাকি আর দেখতে হবে না। দু-খানা সিজন বিক্রি করতে পারলেই চোখ বুজে বেশ কয়েক লাখের আমাদানি।
লাভের অঙ্ক শুনে কয়েক মুহূর্তের মধ্যে পিংলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, এইবার ছুঁচোবাজি বানানোটাই ভালো করে শিখবে। যদি এই ব্যাবসা করেই ঠ্যাংয়ের ওপর ঠ্যাং তুলে জীবনটা কাটিয়ে দেওয়া যায়, তবে মিছিমিছি কেমিস্ট্রির ওইসব আগডুম বাগডুম নিয়ে মাথা ঘামায় কোন আহাম্মক! কিন্তু এখন ছুঁচোর এই হাল দেখে খানিক হতোদ্যম হয়ে পড়ে।
এইদিকে পরেরটা বার করে আগুন দেয় ছোটকা। এটা বেশ হয়েছে। এক্কেবারে মনের মতো। ধাঁ করে এগিয়ে যায় মাঝপুকুরের দিকে, যেন তারাবাজি বগলে দৌড়চ্ছে অদৃশ্য ভূতের খোকা। এর পরেরটাও কোনও বেগড়বাই করে না। ছোটে সাঁ সাঁ। এরপর দুজনে মহানন্দে ছুঁচোর পিছনে আগুন দিতে থাকে আর ছাড়তে থাকে। কিন্তু ওদের জন্য যে এমন একটা বিপদ অপেক্ষা করে ছিল, কে জানত!
ছুঁচোর ফুড়ুংফাড়ুংয়ে দুজনে এতটাই মত্ত হয়ে গিয়েছিল, যে খেয়ালই করেনি, ঠাকুর নিয়ে সবাই ফিরে এসেছে এবং শুধু তাই নয়, মণিজ্যাঠা কখন যেন বাঘের মতো পা টিপে টিপে ঠিক ওদের পিছনে এসে দাঁড়িয়েছেন। ছোটকা একটা ছুঁচোতে আগুন দিয়ে যেই না ছেড়েছে, অমনি কেলোর কীর্তি। হাত খানেক সামনে গিয়ে দুম করে এক রামগোঁত্তা মারে সেই ছুঁচো, আর তারপরই সোজা এগিয়ে যায় মণিজ্যাঠার দিকে।
জ্যাঠামশাই বিপদ বুঝে তিড়িং করে একটা লাফ দেন, কিন্তু ছুঁচো নাছোড়বান্দা। আগুন ছোটে, ধুতি পরা অবস্থায় মণিজ্যাঠাও ছোটেন। মনে হয় স্বয়ং হনুমান লেজে আগুন নিয়ে ছুটেছেন লঙ্কা পোড়াতে। জ্যাঠা ছুটতে ছুটতে বলতে থাকেন, “হতচ্ছাড়া! এই জন্যই আমি তোকে বারণ করেছিলুম রে ঘণ্টা। আজ তোর একদিন কি আমার একদিন।”
ঘণ্টা পিংলের দিকে তাকিয়ে কাঁচুমাচু মুখে একই কথা বলে, “এই জন্যই আমি তোকে বারণ করেছিলুম রে পিংলে! আজ তোর একদিন কি আমার একদিন।”
“কী বারণ করেছিলে?”
“মাপতে। বলেছিলুম না সোরা আর গন্ধকের মাপটাই আসল? এইবার মণিদাকে কে সামলাবে, তুই?”
পিংলের তো এই কাণ্ড দেখে চক্ষু ছানাবড়া। ছোটকা যে তবে বলেছিল, ছুঁচো খালি সাঁ সাঁ করে সামনের দিকে এগিয়ে যায়, কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, বেমক্কা গোঁত্তা মেরে পিছন দিকেও ধেঁয়ে আসতে পারে! এ তো বড়ো সাংঘাতিক জিনিস!
ফাইনাল অ্যাকশনের আগে কোনও কথা পাঁচকান না করার কথা হয়েছিল, কিন্তু এইরকম অ্যাকশন পিংলে কল্পনাও করেনি। তার মাথায় আবার কোত্থেকে যেন উদয় হয় কেমিস্ট্রির ইকুয়েশনগুলো। ধেই ধেই করে ভূতের মতো নাচতে শুরু করে।
বাব্বা, এখানেও সেই মাপের কারসাজি!
শুভাঞ্জন ব্যানার্জী ▪ প্রবাহনীল দাস
লিও তলস্তয় ▪ নলিনাক্ষ ভট্টাচার্য
তাপস মৌলিক ▪ অংশু পাণিগ্রাহী ▪ বাণীব্রত গোস্বামী ▪অরিন্দম ঘোষ ▪ রঞ্জন দাশগুপ্ত ▪ সিদ্ধার্থ দাশগুপ্ত ▪শাশ্বত কর ▪ রাজীব রায় গোস্বামী ▪ সায়নদীপা পলমল ▪ প্রদীপ কুমার দাস
বদ্রীনাথ পাল ▪ তাপস বাগ ▪ বসন্ত পরামানিক ▪ গোবিন্দ মোদক ▪ সুব্রত দাস ▪ অর্ণব ভট্টাচার্য ▪ সুজাতা চ্যাটার্জী ▪ মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় দাস ▪ মধুমিতা ভট্টাচার্য ▪ ড. রমলা মুখার্জী ▪ সনৎকুমার ব্যানার্জী ▪ বিদ্যুৎ মিশ্র ▪ রাজর্ষি মণ্ডল ▪ রূপালী মুখোপাধ্যায় ▪ শক্তিপদ পণ্ডিত ▪ শম্ভু সরকার ▪ সুব্রত চৌধুরী
অদিতি ভট্টাচার্য ▪ দীপঙ্কর চৌধুরী ▪ মৌসুমী রায় ▪ সবিতা রায় বিশ্বাস ▪ সহেলী রায় ▪ কিশোর ঘোষাল
অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় ▪ অরিন্দম দেবনাথ ▪ কমলবিকাশ বন্দ্যোপাধ্যায় ▪ দীপক দাস ▪ ড. উৎপল অধিকারী ▪ চন্দ্রানী মজুমদার
সায়ন্তনী পলমল ঘোষ ▪ সোমা দে ▪ শংকর লাল সরকার ▪ সন্দীপন সাহা
অলংকরণ
মায়াসখা নন্দী ▪ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ▪ একপর্ণিকা ক্রিয়েটিভস
আমরা ভারতবাসী কাব্য-মহাকাব্য লিখেছি। লিখেছি পুরাণের নামে কিছু অলীক গল্পকথা। কিন্তু ইতিহাস লিখতে শিখিনি। তার প্রয়োজনীয়তাও বোধ করিনি। তাই ঐশ্বর্যময় গরিমা সত্ত্বেও আমরা আমাদের উত্তরসূরিদের জন্য কিছুই রেখে যাইনি।
গিরিব্রজসিংহ এমনই এক অকথিত ঐতিহাসিক উপাখ্যান।
বহু কলমের গল্পে, প্রবন্ধে, সত্যি ঘটনায়, তথ্যে, গ্রাফিক নভেলে প্রাইমেটদের হাজারো কাণ্ড।
শিবশঙ্কর ভট্টাচার্য ▪️ অংশু পাণিগ্রাহী ▪️ রম্যাণী গোস্বামী ▪️ অরিন্দম দেবনাথ ▪️ সুব্রত দাস ▪️ বাণীব্রত গোস্বামী ▪️ এণাক্ষী কয়াল মণ্ডল ▪️ কিশোর ঘোষাল ▪️ মঞ্জুশ্রী ভাদুড়ি ▪️ সায়ন্তনী পলমল ঘোষ ▪️ সংঘমিত্রা রায়
হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ▪️ অমিত চট্টোপাধ্যায় ▪️ অর্ণব ভট্টাচার্য ▪️ বদ্রীনাথ পাল ▪️ স্বপনকুমার বিজলী ▪️ বসন্ত পরামাণিক ▪️ মলয় সরকার ▪️ মানস চক্রবর্তী ▪️ মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় দাস ▪️ নীলেশ নন্দী ▪️ পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায় ▪️ রানা জামান ▪️ রূপসা ব্যানার্জী ▪️ সজল বন্দ্যোপাধ্যায় ▪️ শক্তিপদ পণ্ডিত ▪️ সৌমেন দাস ▪️ সুজাতা চ্যাটার্জী ▪️ সুমিত্রা পাল ▪️ তাপস বাগ ▪️ আলমগীর কবির ▪️ রমিত চট্টোপাধ্যায়
বুমা ব্যানার্জী দাস ▪️ মেঘনা নাথ ▪️ শাশ্বত কর ▪️ সুমন সেন ▪️ রণিত ভৌমিক
অরিন্দম ঘোষ ▪️ অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় ▪️ রাখি পুরকায়স্থ
কেয়া চ্যাটার্জী ▪️ দীপক দাস ▪️ ড. উৎপল অধিকারী ▪️ সুদীপ ঘোষাল
প্রচ্ছদ ও অলংকরণ
বিশ্বদীপ পাল ▪️ অঙ্কিতা নন্দী ▪️ সুজাতা চ্যাটার্জী ▪️ বুমা ব্যানার্জী দাস ▪️ পুণ্ডরীক গুপ্ত ▪️ স্রবন্তী চট্টোপাধ্যায় ▪️ প্রবাহনীল দাস ▪️ সায়ন্তনী পলমল ঘোষ ▪️ সুমন দাস ▪️ সপ্তর্ষি চ্যাটার্জী