ছোটো গল্প
FREE SHIPPING IN INDIA
ছোটো গল্প
খামের ভেতর থেকে বেরোল দুটো ফুলস্কেপ কাগজ, স্টেপল করা। পাতা দুটোয় চোখ বুলিয়ে সবুজদার মুখটা দেখি গম্ভীর হয়ে গেছে। বসার ঘরের একটা সোফায় বসে পড়তে শুরু করল সে আর ধীরে ধীরে মুখটা ফের স্বাভাবিক হয়ে একটু হাসি ফুটে উঠল। দ্বিতীয় পাতায় পৌঁছেই সবুজদা হেসে উঠল হো হো করে, “রসিক আছেন তোমার মামা। নাও, পড়ে দেখো।”
তাপস মৌলিক
“পড়ছে বৃষ্টি ইলশেগুঁড়ি
আজকে ইলিশ আর খিচুড়ি
খাবই, খেয়ে বাড়লে ভুঁড়ি
তারপরে নয় হপ্তা কুড়ি
থাকব খেয়ে শুকনো মুড়ি।”
“হপ্তা কুড়ি? কুড়ি সপ্তাহ মুড়ি খেয়ে থাকা! অসম্ভব। পারবেই না তুমি।” বললাম গজুমামাকে।
“কেন পারবি না? নিশ্চয়ই পারবি। চেষ্টায় কী না হয়!”
“আমি চেষ্টা করতে যাব কোন দুঃখে? বয়েই গেছে আমার মুড়ি খেয়ে থাকতে, আমার তো আর ভুঁড়ি নেই তোমার মতো! বলছি তোমার কথা।”
“আমিও পারব।” বলল গজুমামা, তবে গলায় তেমন আত্মবিশ্বাস আছে বলে মনে হল না।
“কখনোই পারবে না, জানি আমি। তোমার যা নোলা! সবসময়ই তো খাই খাই করছ।”
“বলছিস? পারব না, না? ঠিক আছে, তাহলে ‘হপ্তা’ শব্দটা বদলে ‘ঘণ্টা’ করে দিই। ‘তারপরে নয় ঘণ্টা কুড়ি/ থাকব খেয়ে শুকনো মুড়ি।’ আমারই তো ছড়া, পালটে দিলে কারও কিছু বলার নেই। বরঞ্চ পালটানোর অধিকার একমাত্র আমারই আছে।
‘হপ্তা’-কে কেটে করো ‘ঘণ্টা’
দেখবে জুড়িয়ে গেছে মনটা
মেনে নিয়ে ভাগনের যুক্তি
শুধরে দিলাম আমি চুক্তি।”
“থাক, আর মুড়ি খেয়ে থাকতে হবে না। দু-দিনের জন্য তো এসেছিস দিদির বাড়ি। একটু ভালো-মন্দ খেলে কিছু দোষ হবে না এমন। দিল্লি ফিরে নয় ডায়েট করিস।” রান্নাঘর থেকে মায়ের গলা শোনা গেল।
“পদ্যগুলো কিন্তু খাসা হচ্ছে, চলুক চলুক।” সোফায় বসে খবরের কাগজ পড়তে পড়তে ফোড়ন কাটল বাবা।
মুখে মুখে এরকম ছড়া বানানো গজুমামার অভ্যেস। মামা থাকে দিল্লিতে, আপাতত কলকাতা এসেছে, আমাদের বাড়ি। আজ রথযাত্রা, ছুটির দিন। সকাল থেকে ঝমঝম করে বৃষ্টি পড়ছে। দুপুরে তাই ইলিশ মাছ ভাজা দিয়ে খিচুড়ি খাওয়া ঠিক হয়েছে।
“থ্যাংক ইউ, জাম্বুদা।” বাবাকে গজুমামা জাম্বুদা বলে, জামাইবাবু থেকে জাম্বু, তার থেকে জাম্বুদা (আড়ালে অবশ্য মজা করে জাম্বুবানও বলে মাঝে মাঝে),
“ছড়া কি কবিতা কিংবা পদ্য
আসে যা মগজে সদ্য সদ্য
খুঁজে খুঁজে মিল শব্দমিছিল
সাজাই পঙক্তি ছন্দবদ্ধ।”
“বাহ্ বাহ্, অনবদ্য।” খবরের কাগজ নামিয়ে বলে বাবা, “গজু আমাদের স্বভাবকবি।”
লুচি, আলুর দম দিয়ে জলযোগ সেরে খাওয়ার টেবিল থেকে আমি আর গজুমামাও এসে বসলাম সোফায়। রান্নাঘর থেকে উঁকি দিয়ে মা বলে, “আজ বুঝলে তুমি? গজু তো সেই কোন ছোটোবেলা থেকেই মুখে মুখে ছড়া বানায়। যখন ক্লাস থ্রি কি ফোরে পড়ে, তখনই একটা ছড়া বানিয়েছিল। এখনও মনে আছে আমার—
গিলব লুচি গণ্ডা গণ্ডা সঙ্গে মিঠাই মণ্ডা
গড়ব শরীর ষণ্ডামার্কা, মারব অ্যানাকোন্ডা।”
“চমৎকার!” বলল বাবা, “ছড়াগুলো লিখে ফেলো গজু, নইলে হারিয়ে যাবে।”
“দুর জাম্বুদা, এগুলো সব এমনি এমনি ছড়া, স্রেফ মজার জন্য। লিখে কী হবে?”
“লেখা থাকলে কোনও পত্রপত্রিকায় পাঠানো যায়।”
“পত্রিকা!” হা হা করে হেসে ওঠে গজুমামা, “কী যে বলো জাম্বুদা! এসব কি ছাপে কেউ?”
“আমার তো দিব্যি লাগছে, পাঠিয়ে দেখতে দোষ কী?” বলল বাবা, “মজা করছি না কিন্তু, ছোটোদের কোনও পত্রিকায় পাঠানো যেতেই পারে।”
“তুইও তো লিখে রাখতে পারিস।” রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এসে মা বলে আমায়, “সারাক্ষণ তো মামার ল্যাজে ল্যাজে ঘুরিস, মুখে মুখে যা বানাচ্ছে সব লিখে রাখলে তো একটা কাজের কাজ হয়।”
“দাঁড়াও, কাগজ কলম নিয়ে আসি।” তাড়াতাড়ি উঠে পড়ার ঘরের দিকে যাই আমি।
“দিদি, তুইও আমার পেছনে পড়লি?” বলে গজুমামা, “ছোটোদের কোনও পত্রিকা আমি পড়িও না, কোনও পত্রিকার কথা জানিও না। বেকার আমার ভাগনেটাকে খাটাস না তো।”
“একটা জিনিস মাথায় এল,” গজুমামার দিকে ফিরে বলে বাবা, “সবুজনীল নামে একটা ছেলে, কাছেই থাকে, এ-পাড়াতেই, ছোটোদের একটা পত্রিকা সম্পাদনা করে। বিকেলে যদি বৃষ্টিটা একটু ধরে তাহলে ডাকি এখানে, আলাপ করিয়ে দিই তোমার সঙ্গে।”
“ওরে বাবা, সম্পাদক!” আঁতকে উঠে বলে গজুমামা, “সম্পাদকদের আমি ভীষণ ভয় পাই।”
“ভয়ের কিছু নেই, রোগা-পটকা চেহারা, গায়ের জোরে পারবে না তোমার সঙ্গে।” বলি আমি।
সবুজদাকে আমিও চিনি। পাড়ার সরস্বতীপুজো, রবীন্দ্রজয়ন্তী—সমস্ত অনুষ্ঠানে থাকে। আমাদের বাড়িতেও এসেছে কয়েকবার, বাবাকে পত্রিকা বিক্রি করতে। ‘খেয়ালখুশি’ নামে একটা ছোটোদের পত্রিকা। পড়েছি কয়েকটা সংখ্যা, ভালোই। তবে সবুজদা যে তার সম্পাদক, সেটা জানতাম না।
বাবা সঙ্গে সঙ্গে ফোন লাগাল সবুজদাকে। আমিও খাতা-কলম নিয়ে তৈরি।
মা বলল, “অনেকদিন আগে কপিল দেবকে নিয়ে কী যেন একটা ছড়া লিখেছিলি তুই?—
সর্পিল কপিল আসে উইকেটে ক্ষত
কুঁজো হয়ে দুজোঁ তার অপেক্ষারত...”
ঝটপট লিখতে লিখতে আমি বলি, “তারপর?”
“দুত্তোর, সবাই মিলে আমার পেছনে পড়েছে।” রেগেমেগে উঠে পড়ল গজুমামা, “ছাদে চললাম আমি।”
“ছাদে যাবি কী রে! বৃষ্টি পড়ছে তো!” আঁতকে উঠে বলে মা।
“ছাতা নিয়ে যাব।” বলে হনহন করে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যায় মামা।
সন্ধেবেলা সবুজদা এসে হাজির। বৃষ্টি পুরো থামেনি, টিপটিপ করে পড়ছে তখনও। তার মধ্যেই ছাতা মাথায় দিয়ে চলে এসেছে।
আমি, গজুমামা, বাবা, মা সবাই বসার ঘরেই ছিলাম। চা-পর্ব চলছিল। সবুজদা ঢুকতেই বাবা বলল, “এসো এসো সবুজনীল, বোসো। তোমার পত্রিকার জন্য একজন লেখক জোগাড় করেছি।”
সবুজদার চেহারাটা বেশ বুদ্ধিদীপ্ত। রোগা, লম্বা, মুখে ছোটো করে ছাঁটা কালো দাড়ি, চোখে সরু ফ্রেমের চশমা। একটা সাদা পাঞ্জাবি আর জিনস পরে এসেছে।
আলাপ-পরিচয় শেষ হলে গজুমামাকে দেখিয়ে বাবা বলল, “আমার এই শালাবাবু, দুর্দান্ত ছড়া লেখে। তোমার পত্রিকার জন্য ছড়া লিখতে বলেছি।”
“তাই নাকি! খুব ভালো।” বলল সবুজদা। তারপর হঠাৎ গম্ভীর হয়ে বলল, “কিন্তু আমাদের পত্রিকায় তো ছড়া ছাপা হয় না।”
“আমি তো পড়েছি ছড়া তোমাদের পত্রিকায়।” বললাম আমি।
“আগে ছাপা হত, এখন বন্ধ হয়ে গেছে।” বলল সবুজদা।
“সে কি! কেন? ছড়া তো বেশ ভালো জিনিস। মজার মজার ছড়া ছোটোদের এখন ভালো লাগে না বুঝি?” জিজ্ঞেস করল বাবা।
“না, তা নয়।” বলল সবুজদা, “আসলে এত এত ছড়া আসে দপ্তরে, শয়ে শয়ে, পড়ে বাছাই করার লোক নেই। ছোটো পত্রিকা, লোকবল কম।”
“অ।” গম্ভীর হয়ে বলল বাবা।
“উফ্, বাঁচা গেল।” ফোঁস করে হাঁপ ছেড়ে সবুজদাকে বলল গজুমামা, “কত বলছি আমি ছড়া-টড়া লিখি না, স্রেফ মজার জন্য মুখে মুখে কিছু বানাই মাঝে-মধ্যে, তাও জামাইবাবু জোর করে তোমায় ধরে এনেছেন, আমায় দিয়ে নাকি পত্রিকায় ছড়া লেখাবেন! দেখলে তো? ছড়া ছাপাই হয় না!” শেষের কথা দুটো অবশ্য বাবা-মায়ের উদ্দেশে বলা।
“ছড়ার ব্যাপারটা তো আমার হাতে নেই, কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত।” বলল সবুজদা, “তবে তাতে কোনও অসুবিধে নেই। ছড়া নয় না-ই হল, গল্প লিখুন।”
“ওরে বাবা, গল্প!” আঁতকে উঠে বলে গজুমামা, “ছড়া তবু মুখে মুখে বানাতে পারি, গল্প আমি কস্মিনকালে লিখিনি।”
“লিখিসনি তো কী হয়েছে, লিখে ফেল একটা!” মা বলে ওঠে, “তুই ঠিক পারবি।”
“হ্যাঁ হ্যাঁ, তোমার এত অভিজ্ঞতা, এত দেশবিদেশ ঘুরেছ, মানুষজন দেখেছ, গল্প লিখতে পারবে না? একটা গল্পই লিখে ফেলো সবুজের পত্রিকার জন্য।” সায় দেয় বাবা।
“মুখে মুখে বলতেও পারো, আমি লিখে নেব।” তাল মেলাই আমি। মামা কটমট করে আমার দিকে তাকায় একবার।
“হ্যাঁ, একটা গল্প লিখে দিন।” বলল সবুজদা, “তবে আপনি যেহেতু গল্প কখনও লেখেননি, তাই কয়েকটা কথা বলি। গল্পটা যেন ছোটো হয়।”
“ছোটো মানে? কত ছোটো?” জিজ্ঞেস করে গজুমামা।
“যত ছোটো সম্ভব। বুঝতেই পারছেন, ছোটোদের পত্রিকা তো, এখনকার ছেলেমেয়েদের ধৈর্য বড়ো কম, গল্প বড়ো হলে এক-দু’পাতার বেশি এগোয় না তারা। অণুগল্প হলে সবচেয়ে ভালো।”
“শব্দসংখ্যা?”
“ছোটো গল্প দেড়-দু’হাজারের মধ্যে, অণুগল্প দেড়শো দুশো। আরও কিছু কথা, ভূতের গল্প আমরা ছাপি না। ছোটোদের মগজে ওইসব ভূতপ্রেত হাবিজাবি কুসংস্কার আমরা ঢোকাতে চাই না। খুনখারাপি, মৃত্যু, হিংসা, মারামারি যেন একদম না থাকে। ওতে ছোটোদের মনে খারাপ প্রভাব পড়ে। শিকার তো কবেই নিষিদ্ধ হয়ে গেছে, জানেন নিশ্চয়ই, তাই শিকার কাহিনি চলবে না। তাছাড়া জীবজন্তুর প্রতি নির্দয় আচরণ, তা সে পোষাই হোক কি বন্য, একদম চলবে না। গাছপালা কেটে ফেলা, পরিবেশ ধ্বংস করা এসব যেন গল্পে ঢুকে না পড়ে। শুঁড়ওলা ভিনগ্রহের প্রাণী কিংবা রোবটের মাথা ধরেছে ইত্যাদি আজগুবি কল্পবিজ্ঞানের গল্পও আমরা পছন্দ করি না। চুরি-ডাকাতি ইত্যাদি অপরাধ জগতের গল্প ছোটোদের না পড়াই ভালো। রহস্য, রোমাঞ্চ বা গোয়েন্দা কাহিনির নামে আজকাল যা চলছে অধিকাংশই গাঁজাখুরি অবাস্তব কল্পনা বা চর্বিতচর্বণ। ছোটোদের সেসব গেলানো মানে তাদের সময় নষ্ট করা, মগজের অপব্যবহার। ছোটোদের পত্রিকার একটা দায়িত্ব আছে, পড়ে যেন তাদের চরিত্র গড়ে ওঠে। এই অল্প কয়েকটা জিনিস মাথায় রাখলেই হবে।”
সবুজদার কথা শুনতে শুনতে প্রথমে গজুমামার চোখ দুটো গোল গোল হয়ে উঠলেও খানিক পরেই দেখি মামা মিটিমিটি হাসছে। সব শুনে মোলায়েম হেসে বলল, “আচ্ছা বেশ বেশ, লিখে দেব একটা গল্প।”
মামা যে এত সহজে রাজি হবে ভাবিনি। সবুজদা বলল, “ঠিক আছে, কবে পাব গল্পটা? তাড়াতাড়ি পেলে সামনের সংখ্যাতেই ছাপিয়ে দিতে পারি, অবশ্য যদি মনোনীত হয়।”
“কালকের দিনটা আছি আমি, পরশু ভোরবেলা চলে যাব দিল্লি। এর মধ্যে লিখে আমার এই ভাগনের কাছে দিয়ে যাব, ও তোমার কাছে পৌঁছে দেবে।” আমাকে দেখিয়ে বলল গজুমামা।
“বেশ, তাহলে চলি আমি এখন।” এই বলে সবুজদা উঠে দাঁড়াল।
“আর একটা জিনিস জানার আছে।” বলল গজুমামা, “শব্দসংখ্যার মধ্যে কি গল্পের নাম, লেখকের নাম এসবও ধরা হয়?”
“না না, ওগুলো আর কত শব্দ হবে? তবে গল্পের নামটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। এমন এমন গল্প আসে দপ্তরে, নামের সঙ্গে গল্পের কোনও সামঞ্জস্য নেই। হয়তো নাম দিয়েছে ‘কুম্ভীরাশ্রু’, অথচ গল্পে কোনও কুমিরই নেই, আর কুমির মোটে কাঁদেও না। একটু ভেবেচিন্তে দেবেন তাই।”
সবাইকে ‘আসি’ বলে ছাতাটা তুলে নিয়ে সবুজদা বেরিয়ে গেল।
পরদিন সকালবেলা স্কুলে বেরোনো অবধি দেখলাম গজুমামা মন দিয়ে খবরের কাগজ পড়ছে। ফিরে এসে দেখি মামা বাড়ি নেই, কোন এক বন্ধুর বাড়ি গেছে। ভেবেছিলাম মামার সঙ্গে ঘুরতে যাব কোথাও, তাই একটু মনখারাপ হয়ে গেল। রাত আটটায় ফিরল মামা। ফিরেই বলল, “চল ভাগনে, রাস্তায় একটু হেঁটে আসি। বন্ধুর বাড়ি প্রচুর খাইয়ে দিয়েছে, ক্যালোরি খরচ করতে হবে, নইলে রাত্রে খেতে পারব না।”
বেরোলাম। হাঁটতে হাঁটতে জিজ্ঞেস করলাম মামাকে, “লিখেছ গল্প?”
“গল্প? কীসের গল্প?” অবাক হয়ে বলল মামা।
“বাহ্, সবুজদার পত্রিকার জন্য? কাল যে বললে লিখে আমাকে দিয়ে যাবে?”
“ও হ্যাঁ হ্যাঁ, আজ রাত্রে লিখে ফেলব, কাল বেরোনোর আগে দিয়ে যাব তোকে।” বলল মামা।
অলিগলি দিয়ে প্রায় ঘণ্টা খানেক হাঁটার পর মামা হঠাৎ জিজ্ঞেস করল, “ভাগনে, পোড়া গন্ধ পাচ্ছিস?”
“পোড়া গন্ধ! কই না তো!” অবাক হয়ে বলি আমি। নাক দিয়ে জোরে জোরে শ্বাস টেনেও কোনও পোড়া গন্ধ পেলাম না।
“সে কি রে! পাচ্ছিস না? আমি কিন্তু পাচ্ছি।” বলল মামা।
“কীসের পোড়া গন্ধ?”
“ক্যালোরি পুড়ছে, গন্ধ পাচ্ছিস না? নে, অনেক হাঁটা হয়েছে, প্রচুর ক্যালোরি বার্ন করে ফেলেছি, এবার ফেরা যাক। খিদেটাও ফের চনমন করে উঠেছে।”
বাড়ি ফিরে খাওয়াদাওয়া সেরে মামা বলল, “তুই শুয়ে পড়, আমি গল্পটা লিখে ফেলি।”
পরদিন ভোরবেলা মামার ফ্লাইট। বেরোনোর আগে আমার হাতে ব্রাউন রঙের বড়ো একটা খাম ধরিয়ে দিয়ে মামা বলল, “এই নে গল্প, তোর সবুজদাকে দিয়ে দিস। খবরদার, কেউ যেন না খোলে, পত্রিকায় ছাপা হলে তারপর পড়িস।”
স্কুল থেকে ফিরে সন্ধেবেলা গেলাম সবুজদার বাড়ি। খামটা পেয়ে সবুজদা একটু অবাকই হল।— “বাহ্, এর মধ্যে লিখে দিয়ে গেছেন তোমার মামা! এসো, ভেতরে বোসো।”
খামের ভেতর থেকে বেরোল দুটো ফুলস্কেপ কাগজ, স্টেপল করা। পাতা দুটোয় চোখ বুলিয়ে সবুজদার মুখটা দেখি গম্ভীর হয়ে গেছে। বসার ঘরের একটা সোফায় বসে পড়তে শুরু করল সে আর ধীরে ধীরে মুখটা ফের স্বাভাবিক হয়ে একটু হাসি ফুটে উঠল। দ্বিতীয় পাতায় পৌঁছেই সবুজদা হেসে উঠল হো হো করে, “রসিক আছেন তোমার মামা। নাও, পড়ে দেখো।”
উলটোদিকে একটা চেয়ারে বসেছিলাম আমি। আমার হাতে কাগজ দুটো ধরিয়ে দিল সবুজদা। দেখি প্রথম পাতার একেবারে ওপরে লেখা আছে ‘গল্পের নাম’, আন্ডারলাইন করা। তার নীচে লেখা—
‘শোনো বলি তোমাদের ছোটো এক গল্প
জানি তোমাদের কাছে ফুরসত অল্প
এই কাহিনিতে নেই ভূত প্রেত দত্যি
খুনোখুনি মারামারি নেই একরত্তি
নেই শিকারের কথা, গুলি বন্দুক নেই
পরিবেশ ধ্বংস কি গাছপালা কাটা নেই
জীবজন্তুর প্রতি নির্দয় আচরণ
গল্পে পাবে না খুঁজে, সেসব লেখা বারণ
নেই কোনও রহস্য রোমাঞ্চ অভিযান
নেই রোবো, ভিনগ্রহী কি কল্পবিজ্ঞান
নেই কোনও গোয়েন্দা, নেই চুরি ডাকাতি
হিংসা কি হানাহানি, যুদ্ধ প্রাণঘাতী
এ-গল্পে নেই কোনও বাক্য কি শব্দ
নেই কোনও অক্ষরও! কী, কেমন জব্দ?’
ছড়াটার শেষে পাতার একদম নীচে গজুমামার ভালো নাম লেখা। কাগজ উলটে দ্বিতীয় পাতায় গিয়ে দেখি একেবারে মাঝখানে বড়ো বড়ো করে লেখা ‘সমাপ্ত’। তার নীচে ছোটো করে লেখা— ‘শব্দসংখ্যা: শূন্য’।
শুভাঞ্জন ব্যানার্জী ▪ প্রবাহনীল দাস
লিও তলস্তয় ▪ নলিনাক্ষ ভট্টাচার্য
তাপস মৌলিক ▪ অংশু পাণিগ্রাহী ▪ বাণীব্রত গোস্বামী ▪অরিন্দম ঘোষ ▪ রঞ্জন দাশগুপ্ত ▪ সিদ্ধার্থ দাশগুপ্ত ▪শাশ্বত কর ▪ রাজীব রায় গোস্বামী ▪ সায়নদীপা পলমল ▪ প্রদীপ কুমার দাস
বদ্রীনাথ পাল ▪ তাপস বাগ ▪ বসন্ত পরামানিক ▪ গোবিন্দ মোদক ▪ সুব্রত দাস ▪ অর্ণব ভট্টাচার্য ▪ সুজাতা চ্যাটার্জী ▪ মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় দাস ▪ মধুমিতা ভট্টাচার্য ▪ ড. রমলা মুখার্জী ▪ সনৎকুমার ব্যানার্জী ▪ বিদ্যুৎ মিশ্র ▪ রাজর্ষি মণ্ডল ▪ রূপালী মুখোপাধ্যায় ▪ শক্তিপদ পণ্ডিত ▪ শম্ভু সরকার ▪ সুব্রত চৌধুরী
অদিতি ভট্টাচার্য ▪ দীপঙ্কর চৌধুরী ▪ মৌসুমী রায় ▪ সবিতা রায় বিশ্বাস ▪ সহেলী রায় ▪ কিশোর ঘোষাল
অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় ▪ অরিন্দম দেবনাথ ▪ কমলবিকাশ বন্দ্যোপাধ্যায় ▪ দীপক দাস ▪ ড. উৎপল অধিকারী ▪ চন্দ্রানী মজুমদার
সায়ন্তনী পলমল ঘোষ ▪ সোমা দে ▪ শংকর লাল সরকার ▪ সন্দীপন সাহা
অলংকরণ
মায়াসখা নন্দী ▪ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ▪ একপর্ণিকা ক্রিয়েটিভস