ভ্রমণকথা
FREE SHIPPING IN INDIA
ভ্রমণকথা
তবে এই ভ্রমণের সবচেয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা হয়েছিল ফেরার পথে। ট্রেকিং শেষে নামার সময় আমি পরিবারের সবার থেকে একটু আগে নেমে পড়েছিলাম। ধীরে ধীরে নামতে নামতে একসময় বুঝতে পারলাম আমি সবার থেকে অনেকটা দূরে চলে এসেছি। চারপাশে তখন ঘন পাহাড়ি জঙ্গল, একধারে গভীর খাদ আর ভয়ানক নীরবতা। কিছুটা ক্লান্ত হয়ে আমি পথের একধারে বসে পরিবারের জন্য অপেক্ষা করছিলাম।
সন্দীপন সাহা
গত বছরের গ্রীষ্মের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে উত্তরাখণ্ডের তুঙ্গনাথ ভ্রমণে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। পাহাড় সবসময়ই আমার খুব প্রিয়। তাই তুঙ্গনাথ যাওয়ার কথা শুনেই মনে এক অন্যরকম আনন্দ জেগে উঠেছিল। তুঙ্গনাথ পৃথিবীর অন্যতম উচ্চতম শিবমন্দির হিসেবে পরিচিত। প্রকৃতির সৌন্দর্য আর পাহাড়ি পরিবেশ কাছ থেকে দেখার স্বপ্ন নিয়েই আমরা যাত্রা শুরু করি।
প্রথমে ট্রেনে করে হরিদ্বার পৌঁছাই। সেখান থেকে গাড়িতে দীর্ঘ পাহাড়ি পথ পেরিয়ে আমরা চোপতা নামের ছোট্ট সুন্দর জায়গায় আসি। চারদিকে সবুজ পাহাড়, ঠান্ডা বাতাস আর মেঘে ঢাকা প্রকৃতি দেখে মনে হচ্ছিল যেন ছবির কোনও দেশে চলে এসেছি। পাহাড়ের বুকজুড়ে সারি সারি গাছ আর নীল আকাশের নীচে সেই পরিবেশ সত্যিই মনকে মুগ্ধ করেছিল।
পরদিন খুব ভোরে আমরা তুঙ্গনাথের উদ্দেশে ট্রেকিং শুরু করি। পথটি ছিল বেশ খাড়া ও আঁকাবাঁকা। তবে চারপাশের অপরূপ সৌন্দর্য সব ক্লান্তি দূর করে দিচ্ছিল। কোথাও সবুজ ঘাস, কোথাও রঙিন ফুল, আবার কোথাও দূরের বরফে ঢাকা পাহাড় যেন প্রকৃতির এক অনন্য সৃষ্টি। মাঝে মাঝে মেঘ এসে পুরো রাস্তা ঢেকে দিচ্ছিল। ঠান্ডা হাওয়ায় শরীর কাঁপছিল, তবুও মন ছিল আনন্দে ভরা।
পথে ছোটো ছোটো চায়ের দোকানে বসে গরম চা আর ম্যাগি খাওয়ার আনন্দ ছিল অন্যরকম। পাহাড়ের কোলে বসে গরম ধোঁয়া-ওঠা চা খেতে খেতে চারপাশের দৃশ্য উপভোগ করা সত্যিই এক অসাধারণ অনুভূতি। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবার হাঁটা শুরু করি। দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে অবশেষে আমরা তুঙ্গনাথ মন্দিরে পৌঁছাই। পাহাড়ের কোলে দাঁড়িয়ে থাকা সেই প্রাচীন মন্দির দেখে মন ভরে গিয়েছিল। মন্দিরের চারপাশে ছিল এক অদ্ভুত শান্ত পরিবেশ। সেখানে পূজা দিয়ে আমরা কিছুক্ষণ পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করি।
তবে এই ভ্রমণের সবচেয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা হয়েছিল ফেরার পথে। ট্রেকিং শেষে নামার সময় আমি পরিবারের সবার থেকে একটু আগে নেমে পড়েছিলাম। ধীরে ধীরে নামতে নামতে একসময় বুঝতে পারলাম আমি সবার থেকে অনেকটা দূরে চলে এসেছি। চারপাশে তখন ঘন পাহাড়ি জঙ্গল, একধারে গভীর খাদ আর ভয়ানক নীরবতা। কিছুটা ক্লান্ত হয়ে আমি পথের একধারে বসে পরিবারের জন্য অপেক্ষা করছিলাম।
হঠাৎ পিছনে শব্দ শুনে ঘুরে তাকাতেই দেখি, কোথা থেকে একটি বড়ো কালো ভাল্লুক বেরিয়ে এসেছে। মুহূর্তের মধ্যে সে আমার দিকে এগিয়ে এসে থাবা দিয়ে ধরতে চাইল। সেই দৃশ্য দেখে আমি ভয়ে জমে গিয়েছিলাম। হাতে শুধু একটি লাঠি ছিল, যেটি পাহাড়ে হাঁটার জন্য ব্যবহার করছিলাম। আমি লাঠিটা শক্ত করে ধরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। মনে হচ্ছিল হয়তো আর বাঁচব না। কিন্তু ভাগ্যের জোরে ভাল্লুকটি হঠাৎ অন্যদিকে চলে যায়। হয়তো কোনও শব্দ শুনে সে সরে গিয়েছিল। সেই মুহূর্তে মনে হয়েছিল যেন মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলাম।
পরে পরিবারের লোকজন সেখানে পৌঁছলে আমি পুরো ঘটনাটি বলি। সবাই খুব ভয় পেয়ে যায়। তারপর আমরা সাবধানে নীচে নেমে আসি। আজও সেই ঘটনার কথা মনে পড়লে শরীর শিউরে ওঠে। পাহাড়ের সৌন্দর্যের পাশাপাশি প্রকৃতির ভয়ংকর রূপও যে কতটা শক্তিশালী হতে পারে, তা আমি সেদিন খুব কাছ থেকে অনুভব করেছিলাম।
তুঙ্গনাথ ভ্রমণ আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। পাহাড়ের সৌন্দর্য, ঠান্ডা হাওয়া আর সেই ভয়ংকর ভাল্লুকের মুহূর্ত আজও আমার মনে গেঁথে আছে। জীবনের কিছু অভিজ্ঞতা কখনও ভোলা যায় না, আর এই ভ্রমণ ঠিক তেমনই এক অবিস্মরণীয় স্মৃতি।
শুভাঞ্জন ব্যানার্জী ▪ প্রবাহনীল দাস
লিও তলস্তয় ▪ নলিনাক্ষ ভট্টাচার্য
তাপস মৌলিক ▪ অংশু পাণিগ্রাহী ▪ বাণীব্রত গোস্বামী ▪অরিন্দম ঘোষ ▪ রঞ্জন দাশগুপ্ত ▪ সিদ্ধার্থ দাশগুপ্ত ▪শাশ্বত কর ▪ রাজীব রায় গোস্বামী ▪ সায়নদীপা পলমল ▪ প্রদীপ কুমার দাস
বদ্রীনাথ পাল ▪ তাপস বাগ ▪ বসন্ত পরামানিক ▪ গোবিন্দ মোদক ▪ সুব্রত দাস ▪ অর্ণব ভট্টাচার্য ▪ সুজাতা চ্যাটার্জী ▪ মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় দাস ▪ মধুমিতা ভট্টাচার্য ▪ ড. রমলা মুখার্জী ▪ সনৎকুমার ব্যানার্জী ▪ বিদ্যুৎ মিশ্র ▪ রাজর্ষি মণ্ডল ▪ রূপালী মুখোপাধ্যায় ▪ শক্তিপদ পণ্ডিত ▪ শম্ভু সরকার ▪ সুব্রত চৌধুরী
অদিতি ভট্টাচার্য ▪ দীপঙ্কর চৌধুরী ▪ মৌসুমী রায় ▪ সবিতা রায় বিশ্বাস ▪ সহেলী রায় ▪ কিশোর ঘোষাল
অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় ▪ অরিন্দম দেবনাথ ▪ কমলবিকাশ বন্দ্যোপাধ্যায় ▪ দীপক দাস ▪ ড. উৎপল অধিকারী ▪ চন্দ্রানী মজুমদার
সায়ন্তনী পলমল ঘোষ ▪ সোমা দে ▪ শংকর লাল সরকার ▪ সন্দীপন সাহা
অলংকরণ
মায়াসখা নন্দী ▪ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ▪ একপর্ণিকা ক্রিয়েটিভস