ছোটো গল্প
FREE SHIPPING IN INDIA
ছোটো গল্প
বাবাকে বলেছি, আমাকে রথের মেলায় দু-খাঁচা ভরতি সব দামি পাখি কিনে দেবে। আমি সেগুলোকে গাড়ি করে নিয়ে গিয়ে হাইওয়ের ধারে ছেড়ে দেব। ওদের মুক্তি দেব। স্বাধীনতা দেব। এইসব ভিডিওতে প্রচুর লাইক পড়ে, স্যার!
বাণীব্রত গোস্বামী
পশুপতিবাবুর আসল অভিসন্ধিটা প্রথমে কেউ আঁচই করতে পারেনি। সেটাই স্বাভাবিক। শিক্ষিত অধ্যাপক মানুষ। বুদ্ধিও তাই তুখোড়। পড়ান বালিগঞ্জ সায়েন্স কলেজে। বিষয় জুলজি, মানে প্রাণীবিদ্যা। তবে উনি কিন্ত ওই আর পাঁচজন পেশাদার শিক্ষকের মতো নন। বিষয়টিকে উনি গভীরভাবে ভালোবাসেন। রীতিমতো গবেষণা করেন প্রাণীদের নিয়ে। এক-এক সময় এমন অবাক করা কথা বলেন, বিশ্বাসই হয় না। বলেন, পাখিদের নাকি ভাষা আছে। আমরা সেই ভাষা বুঝি না, সেটা আমাদের অজ্ঞতা। পাখিরা কিন্তু নিজেদের মধ্যে কথা বলে, গল্প করে, ঝগড়াও করে। তাদেরও নাকি আড়ি-ভাব আছে। আবার পশুদের মধ্যে নেকড়ে নাকি মানুষের মতোই সমাজবদ্ধ জীব। বুড়ো বয়সে বাবা-মাকে শিকার করে খাওয়ায়। তাই অনেকেই পাড়ায় তাঁকে আড়ালে পশুপতি মিত্রের বদলে ‘পশুপাখি মিত্র’ বলে ডাকে। এবার তাঁর অভিসন্ধিটার কথায় আসি।
পশুপতিবাবুর পাশেই হল নেপাল ঘোষের বাড়ি। নেপাল আগে জমি-বাড়ির দালালি করত। তখন ওদের টালির চালের বাড়ি। তারপর ইমারতি দ্রব্যের ব্যাবসা ধরল। পাড়ার কিছু রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা হল। তার ফলে জুটে গেল কিছু সরকারি কাজের বরাত। দেশটা যে আমাদের, সরকারটা যে জনগণের—এই বোধ খুব কম দেশবাসীরই থাকে। ফলে লোকে সরকারি যে-কোনো কাজে সবচেয়ে বেশি চুরি করে। কোনও ব্যক্তিগত বাড়ির কাজে ইমারতি মালপত্তর দেওয়ার সময় যেটুকু মান বজায় রাখে, সরকারি কাজে তাও বজায় রাখে না। সবচেয়ে নিম্নমানের দ্রব্য দিয়ে সস্তার খারাপ কাজ করে। কারণ, সরকারকে কেউ দেখতে পায় না। সেটাই সবচেয়ে বড়ো মূর্খামি। সে যে নিজেই সরকারের একটা অংশ, এটা তখন ভুলে যায়। এ সেই অনেকটা মন্দিরের থালায় অচল পয়সা দেওয়ার মতো। ভগবান বুঝতেও পারবে না, প্রতিবাদও করতে পারবে না। অথচ যে পয়সাটা কোথাও চলছে না, তা দিয়ে সস্তায় কিছুটা পুণ্য কিনে নেওয়া যাবে। মুহূর্তের জন্য মানুষ ভুলে যায় যে সে নিজেই ভগবানের একটা ক্ষুদ্র অংশ। আসলে সে নিজেকেই নিজে ঠকাল। এইভাবে সরকারকে ঠকিয়েই বেশ কালো টাকা করে ফেলেছে নেপাল। অল্প ক’দিনের মধ্যেই। দোতলা বাড়িও একটা হাঁকিয়েছে। তবে সেই শ্বেতপাথর মোড়া বাড়িতে লক্ষ্মী ঢুকলেও, সরস্বতী পাশ কাটিয়ে চলে গেছে। নেপালের একটি মাত্র ছেলে দুলাল। মানে সত্যিই একেবারে আলালের ঘরের দুলাল। তার নিজেরই একখান সবসময়ের চাকর আছে। দীনুকাকা। দুলাল মুখ থেকে কথা খসানো মাত্র সে সবকিছু জোগান দেয়। জল কোনোদিন দুলাল গড়িয়ে খায়নি। সবকিছুই সে হুকুম করে চালায়। স্কুলে যায়-আসে গাড়ি করে। বইয়ের ব্যাগ বয়ে নিয়ে যায় ক্লাস অবধি দীনুকাকা। আবার স্কুল ছুটির পর ক্লাস থেকে গাড়ি অবধি ব্যাগ বয়ে নিয়ে আসে সেই চাকরে। বাপের বয়সি দীনুকাকাকে পাড়ার সবাই কাকা বললেও দুলাল তাকে দীনু বলেই ডাকে। এই শিক্ষা তার বাপ নেপালের দেওয়া। চাকরকে কাকা বললে নাকি সে মাথায় উঠে বসবে। দুলাল এভাবেই পরজীবী হয়ে আদরের সোনার খাঁচায় বড়ো হতে লাগল।
নেপালের জীবনে আর কোনও আপশোশ নেই, শুধু একটা ছাড়া। লেখাপড়াকে যেভাবেই হোক করায়ত্ব করতেই হবে। নিজের তো আর হবে না। তবুও বংশের মধ্যে সরস্বতী তাকে ঢোকাতেই হবে। মানে দুলালের ভেতর দিয়ে। তাতে যত টাকা লাগে লাগুক। টাকা তার প্রচুর আছে এখন। প্রতিপত্তি অনেক। কিন্তু সম্মান নেই। আসলে পেটে বিদ্যে না থাকলে লোকে ভক্তি করে না, সেটা বুঝে গেছে ওই পশুপতিবাবুকে দেখে। ওর পাশেই ওঁর রঙচটা পলেস্তরা খসা বাড়ি। গাড়ি নেই। অথচ পাড়ার সবাই ওঁকে কত শ্রদ্ধা করে! এইটাই নেপালের সবচেয়ে বড়ো কষ্ট। তবে বিদ্যে পেটে না থাকলেও, ব্যাবসা যখন করে, তখন ঘটে বুদ্ধি কিছুটা নিশ্চয়ই আছে। তাই আন্দাজ করতে পারে যে, লোকে আড়ালে তার নামে কানাঘুষো করে। ব্যাটার ব্যাংকে যত টাকাই থাক, সই করতে কলম ভেঙে যায়। তাই ওই পাড়ায় নেপাল যত সুন্দরই হোক, ভক্তি পুরো কেড়ে নেন পশুপতি।
বর্ষায় নদী বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইলে যেভাবে বাঁধ খুলে জল ছাড়া হয়, ঠিক সেরকম ঝেঁটিয়ে এখন মাধ্যমিকে পাশ করিয়ে দেওয়া হয়। তাই মাধ্যমিকের গাঁটে আটকাল না দুলাল। যা হোক করে উতরে গেল। কিন্তু উচ্চমাধ্যমিক আর মাধ্যমিক তো হিমালয় আর জাম্পুই পাহাড়ের যা তফাত। এবার কী করবে দুলাল! তার ওপর আবার ডাক্তারি পড়বে বলে বিজ্ঞান নিয়েছে। নেপাল বাধ্য হয়ে এসে পশুপতিবাবুর দ্বারস্থ হল শলাপরামর্শ করবে বলে। প্রতিবেশী বলে পশুপতিবাবু মুখের ওপর না বলতে পারলেন না। বাধ্য হয়ে একদিন দুলালকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিতে বললেন। দুলাল পরদিন পশুপতিবাবুর বাড়ি এসে একটা হাঁটু-প্রণাম সারল। মানে হাঁটুর কাছাকাছি হাতটা এনে, পায়ে হাত দিয়ে নয়। পশুপতি বললেন, “বিজ্ঞান পড়তে ভালো লাগে?”
“কিছু পড়তেই আমার ভালো লাগে না।”
“তাহলে তুমি বড়ো হয়ে কী করবে? ব্যাবসা? কিন্তু আজকাল ব্যাবসা করলেও তো শিক্ষিত হতে হয়!”
“না, আমি ইউটিউবার হব।”
“ইউটিউবার! সেটা কি একজনের পেশা হতে পারে?”
“স্যার, আপনি জানেন না, এই লাইনে এত পয়সা যে আপনার ব্যাংকে ধরবে না।”
“যে-কোনো কাজেই সফল হতে পারলে উন্নতি। যে-কোনো কাজের চূড়ায় পৌঁছতে পারলেই প্রতিষ্ঠা। কিন্তু মুশকিল হল কী জানো, আমরা যে-কোনো কাজেই ঝাঁপাই শুধু তার চূড়াটা দেখে। কিন্তু চূড়ায় উঠতে গেলে যে কতটা কাঠখড় পোড়াতে হয়, সেটা একবারও ভেবে দেখি না।”
“স্যার, দেখবেন আমি এই লাইনে ঠিক দাঁড়িয়ে যাব। আমরা চ্যানেলকে কীভাবে বিখ্যাত করতে হবে, আমি জানি স্যার।”
“তা একটা আইডিয়া শুনি কীভাবে বিখ্যাত করবে তোমার চ্যানেল!”
“একটা উদাহরণ আপনাকে বলি। এই যেমন বাবাকে বলেছি, আমাকে রথের মেলায় দু-খাঁচা ভরতি সব দামি পাখি কিনে দেবে। আমি সেগুলোকে গাড়ি করে নিয়ে গিয়ে হাইওয়ের ধারে ছেড়ে দেব। ওদের মুক্তি দেব। স্বাধীনতা দেব। এইসব ভিডিওতে প্রচুর লাইক পড়ে, স্যার!”
“তা কী কী পাখি কিনবে শুনি?”
“সব দামি পাখি, স্যার! ককাটেল, লাভ বার্ড, ফ্রিঞ্চ, বদরিকা এইসব।”
“আচ্ছা, তুমি এদের খাঁচার জীবন থেকে মুক্তি দেবে, তাই তো? কিন্তু এরা তো একটাও বাঁচবে না, বাবা। না খুঁটে খেতে পারবে, না বানাতে পারবে বাসা। সবক’টা কাক, চিল, বাজের পেটে যাবে।”
“কেন, স্যার? ওরা যা খায় মানে ঘাসের দানা, শাক, পাতা, ফল সবই তো প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। আর ওরা তো উড়তেও পারে। তাহলে ওদের শিকারি পাখি ধরবে কী করে!”
“শোনো, ওরা তো বংশপরম্পরায় খাঁচায় বড়ো হয়ে অভ্যস্ত, ওরা অন্যান্য পাখির সঙ্গে লড়াই করে প্রকৃতিতে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারবে না। সদ্য ধরা পড়া টিয়া, চন্দনা, ময়না, কোকিল—মানে আমাদের দেশি পাখি যদি তুমি আবার উড়িয়ে দাও, তাহলে ওরা বহাল তবিয়তে আবার বেঁচে যাবে।”
“কিন্তু সেসব পাখি তো এখন আর সেভাবে পাখির বাজারে পাওয়া যায় না। বনদপ্তর ধরপাকড় করে। ওসব পাখি খাঁচায় রাখা তো এখন অপরাধ। আমি তাই ওই বিদেশি পাখিই ছাড়ব। তাতে যা হয় হবে। অনেক লাইক তো পাব!”
পশুপতিবাবু বুঝলেন, ছেলেটি পাখিদের প্রকৃত ভালোবাসে না। পাখিদের ওপর কোনও মায়া নেই। শুধু সস্তায় হাততালি কুড়োনোর লোভ। উনি তাই এবার সেই মোক্ষম বুদ্ধিটা খাটালেন।
“শোনো বাবা, এখন তো বর্ষাকাল, মাঝে-মধ্যেই ঝড়বৃষ্টি হচ্ছে। তাই আমার একটা অনুরোধ রাখো। আমি বলি কী, তুমি বরং ছ’মাস পরে ওইসব পাখি কিনে এনে ছাড়ো। ঠিক আছে? আর বাবাকে একবার বোলো আমার সঙ্গে দ্যাখা করতে।”
ছেলের কাছে খবর পেয়ে নেপাল একদিন এল পশুপতিবাবুর কাছে। পশুপতিবাবুই প্রথমে নেপালকে জানালেন, “তোমাকে ছেলে বলেছে ও বড়ো হয়ে কী হতে চায়।”
“কী একটা বলছিল, ইউটিউবার না কী একটা যেন!”
“ওসব ভূত ছেলের মাথা থেকে তাড়াতে হবে। ওসব টিউব, টায়ার দু-দিনে লিক হয়ে যাবে। ভবিষ্যৎ জীবনের সব হাওয়া বেরিয়ে যাবে। ভালো চাও তো ছেলেকে কোনও মিশনের বোর্ডিংয়ে দিয়ে দাও।”
“হ্যাঁ, ঠিক বলেছেন, স্যার! দুলাল ক’দিন আগেই বলছিল বটে, যে বাবা কিছু দামি, বিদেশি, দেখতে সুন্দর পাখি কিনে দেবে আমায়! ও নাকি কোনও ফাঁকা জায়গায় নিয়ে গিয়ে ওগুলো ছেড়ে দেবে আর তার ভিডিও করবে। তাতে নাকি ওর অনেক পরিচিতি বাড়বে চারদিকে। আমি ভাবলাম যে আমার কিছু পয়সা খরচা হলেও বনের পাখি যদি খাঁচা থেকে মুক্তি পায়, তাতে আমারও তো কিছু পুণ্যি লাভ হবে। ওরা বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে খোলা আকাশে ছাড়া পেলে যে আনন্দ পাবে, তাতে আমায় আশীর্বাদ করবে ওরা। আসলে সবাই তো স্বাধীনভাবে বাঁচতে চায়। আমিও তাই পুণ্যের লোভে রাজি হয়ে যাই।”
“তোমার পুণ্য হবে না ছাই! কচুপোড়া হবে। উলটে এই কাজে তোমার পাপ আরও বাড়বে।”
“সে কি, স্যার! কেন?”
“ওইসব পাখি একটাও ছাড়ার পর আর বাঁচবে না। কেন, সে তুমি বুঝবে না। তার চেয়ে যদি ছেলেকে ঠিকমতো মানুষ করতে চাও, বরং একটা ভালো বোর্ডিংয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করো।”
“কোনটা ভালো, কোনটা মন্দ আমি কি বুঝি নাকি, স্যার! আপনিই না-হয় তাহলে একটা কিছু ব্যবস্থা করে দিন। যা টাকাপয়সা লাগে আমি দিয়ে দেব। কিন্তু স্যার, ওই একটা কথা, তাহলে ওই পাখি কিনে খোলা আকাশে কি ছাড়া যাবে না?”
“আচ্ছা ঠিক আছে, আমি একটা ভালো বোর্ডিংয়ের খোঁজ করছি। তারপর ছেলে যখন শীতের ছুটিতে আসবে, তখন না-হয় ওই পাখির ব্যাপারটা ভাবা যাবে।”
নেপাল কপালে প্রণাম ঠেকিয়ে চলে গেল। পশুপতিবাবু সত্যিই একটা ভালো মিশনের ব্যবস্থা করলেন দুলালের জন্য। তবে ভরতির খরচ ছাড়াও একটু অতিরিক্ত টাকা, মানে ডোনেশন লাগবে। নেপালের তাতে বিন্দুমাত্র কোনও আপত্তি নেই। ফলে দুলাল অবলীলায় সেই মিশনে পড়ার সুযোগ পেয়ে গেল।
কিন্তু সমস্যার শুরু সেখান থেকেই। দুলাল তো দুটো ট্রলি বোঝাই করে তল্পিতল্পা সব গুছিয়ে সেই আবাসিক মিশনে চলে গেল। নেপালও নিশ্চিন্ত। কিন্তু কিছুদিন পর থেকেই তার কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ। প্রথমটায় নিজেই বিষয়টা সমাধান করার চেষ্টা করছিল। ফোনে নানারকম কথা বোঝাচ্ছিল দুলালকে। এইভাবে তো যা হোক করে ছ’মাস কাটাল। তারপর শীতের ছুটিতে দুলাল আসার পর নেপাল বাধ্য হল দুলালকে নিয়ে পশুপতিবাবুর বাড়ি আসতে।
বাড়িতে ঢুকেই নেপালের পশুপতিবাবুর পায়ে পড়ার উপক্রম।— “স্যার, যেভাবেই হোক আমাদের বাঁচান!”
“আরে দাঁড়াও! আগে তো শান্ত হয়ে বোসো। কী নতুন সমস্যা হল আবার?”
“আজ্ঞে স্যার, সমস্যা একটাই। দুলাল তো কিছুতেই ওই বোর্ডিংয়ে আর থাকতে চাইছে না!”
“কেন? বোর্ডিংটা ভালো নয় বুঝি?”
“না, স্যার! দুলালের নাকি ওই বোর্ডিংয়ে থাকতে খুব অসুবিধে হচ্ছে।”
“কেন? ওই বোর্ডিংয়ে তো অত ছেলে রয়েছে। কারও তো কোনও অসুবিধে হচ্ছে না, শুধু দুলালেরই যত অসুবিধে হচ্ছে কেন?”
“না, স্যার! দুলাল কোনোমতেই ওই পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছে না। ও কিছুতেই আর ওখানে ফিরে যেতে চাইছে না। বলছে, ওখানে ফিরে গেলে ও নাকি মরে যাবে!”
“সে কি! এ তো সাংঘাতিক সমস্যা! কিন্তু কারণটা জানতে পারা যাবে কি?”
“সে লজ্জার কথা আর কী বলব স্যার! ওখানে সব নিজের কাজ নিজেকে হয়। মানে কাপড় কাচা, নিজের বাসন ধোয়া, বিছানা করা, বই গোছানো, স-ব!”
“সে তো ভালো ব্যবস্থা। ছাত্ররা সাবলম্বী হবে।”
“কিন্তু দুলাল তো জন্ম থেকে কোনোদিনই কিছু করেনি। ওকে তো আমরা কিছু করতে দিইনি। তাই ও কেমন করে পারবে ওসব!”
“ভুল করেছ নেপাল, মারাত্মক অপরাধ করেছ। ছেলেকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে শেখাওনি। একটা আস্ত পরজীবী তৈরি করেছ।”
“ভুল হয়ে গেছে, স্যার! মাপ করে দিন। ও আর বোর্ডিংয়ে ফিরে যাবে না। এখন বছরের মাঝখানে কোনও একটা আপনার জানাশোনা স্কুলে ওকে ভরতি করে দিন না। নইলে ওর ছাত্রজীবনটাই তো শেষ হবে যাবে, স্যার!”
“ঠিক আছে, সে না-হয় দেখছি। কিন্তু এবার বুঝতে পেরেছ তো বাপ-ব্যাটায়, যে বংশপরম্পরায় খাঁচায় বেড়ে ওঠা পাখিগুলোকে খোলা আকাশে ছাড়লে তাদের কী দশা হত? কথা দাও, ওসব ভূত এবার মাথা থেকে চিরকালের মতো তাড়াবে!”
“ঠিক আছে স্যার, সবটাই মোক্ষম বুঝে গেছি। আর কোনোদিন ওরকম ভুলেও ভাবব না।”
নিশ্চিন্ত হলেন পশুপতিবাবু। আসলে ওঁর গবেষণায় একটি তথ্য উঠে এসেছিল যে এই রিলস বানাবার দৌলতে ইদানীং কালে বেশ কিছুদিন ধরে প্রায় কয়েক হাজার বিদেশি পাখি খাঁচা থেকে খোলা আকাশে মুক্তি পেয়ে মারা গেছে। সেটাই উনি যতটা সম্ভব মানুষকে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে বন্ধ করতে চান। কারণ, আসলে তো উনি অন্তরে ‘পশুপাখি’ বাবু।
শুভাঞ্জন ব্যানার্জী ▪ প্রবাহনীল দাস
লিও তলস্তয় ▪ নলিনাক্ষ ভট্টাচার্য
তাপস মৌলিক ▪ অংশু পাণিগ্রাহী ▪ বাণীব্রত গোস্বামী ▪অরিন্দম ঘোষ ▪ রঞ্জন দাশগুপ্ত ▪ সিদ্ধার্থ দাশগুপ্ত ▪শাশ্বত কর ▪ রাজীব রায় গোস্বামী ▪ সায়নদীপা পলমল ▪ প্রদীপ কুমার দাস
বদ্রীনাথ পাল ▪ তাপস বাগ ▪ বসন্ত পরামানিক ▪ গোবিন্দ মোদক ▪ সুব্রত দাস ▪ অর্ণব ভট্টাচার্য ▪ সুজাতা চ্যাটার্জী ▪ মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় দাস ▪ মধুমিতা ভট্টাচার্য ▪ ড. রমলা মুখার্জী ▪ সনৎকুমার ব্যানার্জী ▪ বিদ্যুৎ মিশ্র ▪ রাজর্ষি মণ্ডল ▪ রূপালী মুখোপাধ্যায় ▪ শক্তিপদ পণ্ডিত ▪ শম্ভু সরকার ▪ সুব্রত চৌধুরী
অদিতি ভট্টাচার্য ▪ দীপঙ্কর চৌধুরী ▪ মৌসুমী রায় ▪ সবিতা রায় বিশ্বাস ▪ সহেলী রায় ▪ কিশোর ঘোষাল
অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় ▪ অরিন্দম দেবনাথ ▪ কমলবিকাশ বন্দ্যোপাধ্যায় ▪ দীপক দাস ▪ ড. উৎপল অধিকারী ▪ চন্দ্রানী মজুমদার
সায়ন্তনী পলমল ঘোষ ▪ সোমা দে ▪ শংকর লাল সরকার ▪ সন্দীপন সাহা
অলংকরণ
মায়াসখা নন্দী ▪ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ▪ একপর্ণিকা ক্রিয়েটিভস
শিবশঙ্কর ভট্টাচার্যের অসামান্য লেখায় ও আঁকায় কিশোর গল্প সংকলন।
গুণময় রায় বিজ্ঞানী মানুষ। নিজের পরিচয় দেন ‘ইনভেনটর’ বলে। বিজ্ঞানের সঙ্গে সঙ্গে ইঞ্জিনিয়ারিংয়েও তুখোড়। আবার ভারতীয় পুরাণ, ইতিহাস এবং পুরাতাত্ত্বিক বিষয়েও তাঁর গভীর জ্ঞান। কখনও নিজের মনোজগত, কখনো-বা প্রজন্মবাহিত স্মৃতির সরণিতে অক্লেশে ঘুরে বেড়ান ‘গুণময় দ্য গ্রেট’, আর পাঠকেরাও সুযশ মিশ্রের জবানিতে স্বাদ পায় সেই অতুলনীয় অ্যাডভেঞ্চারগুলির।