লোককাহিনি
FREE SHIPPING IN INDIA
লোককাহিনি
তখন অনেক রাত। হঠাৎ একটা ভয়ংকর শব্দে ধড়মড় করে জেগে উঠল জোজি। মনে হল, কে যেন খুব কাছেই গড়ড়ড়ড় গড়ড়ড়ড় শব্দ করছে। ঘরের ভেতর একটা বিশাল, হিংস্র জন্তুর আওয়াজের মতো শোনাল যেন! এই এখন জোজি বুঝতে পারল, কেন রাত্তির বেলায় এই মঠের ভেতর কেউ ছিল না। জোজি ভীষণ পস্তাতে লাগল— ‘ইস্ রে, কোন কুক্ষণে যে এই অলুক্ষুণে মঠের ভেতর ঢুকেছিলাম!’
রাখি পুরকায়স্থ
এক ছিল ছেলে। ছবি আঁকতে সে খুব ভালোবাসত। তার নাম ছিল জোজি।
জোজি একটি খামারবাড়িতে তার মা-বাবা ও ভাইবোনেদের সঙ্গে থাকত। ওর ভাইবোনেরা সব কাজে-কর্মে মা-বাবাকে সাহায্য করত। কিন্তু জোজি একেবারেই তেমনটি ছিল না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কোনও কাজ না করে সে কেবল একটি কাঠি দিয়ে মাটিতে ছবি আঁকত। তবে অদ্ভুত ব্যাপার হল, জোজির যত আঁকাআঁকি তা কেবল ওই একটি বিষয়েই—বিড়াল।
বিড়াল, বিড়াল—আর কেবলই বিড়াল। ছোটো বিড়াল, বড়ো বিড়াল; রোগা বিড়াল, মোটা বিড়াল। বিড়াল, বিড়াল, বিড়াল, বিড়াল— আর শুধুই বিড়াল।
জোজির বাবা একদিন রেগেমেগে তাকে ডেকে বললেন, “জোজি, এখনও সময় আছে, নিজেকে শুধরে ফেলো। বিড়ালের ছবি আঁকা তোমায় বন্ধ করতেই হবে। তা না হলে তুমি একজন ভালো কৃষক হবে কী করে, বলো তো?”
জোজি প্রতিবাদ করল না মোটেই। বাধ্য ছেলের মতো উত্তর দিল, “আমাকে ক্ষমা করো, বাবা। আমি চেষ্টা করব ছবি আঁকা বন্ধ করতে।”
সত্যি কথা বলতে কী, জোজি সে-চেষ্টাও করেছিল। কিন্তু যখনই সে দেখত খামারের কোনও বিড়াল পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে, সে তার সমস্ত কাজকর্মের কথা ভুলে গিয়ে চটজলদি আর একটি বিড়ালের ছবি আঁকতে বসে পড়ত।
জোজির কীর্তিকলাপ দেখে ওর বাবা একদিন দুঃখ ভারাক্রান্ত গলায় জোজির মাকে ডেকে বললেন, “জোজিকে দিয়ে ক্ষেতখামার কিছুই হবে না, বুঝলে গিন্নি।”
“হতাশ হোয়ো না। কে বলতে পারে, ওর মধ্যে হয়তো পুরোহিত হওয়ার সকল গুণ লুকিয়ে রয়েছে।” জোজির মা পরামর্শ দিলেন, “ওকে মঠে নিয়ে যাও না!”
জোজির বাবা তাই ওকে নিয়ে গেলেন গ্রামের মঠের প্রধান পুরোহিতের কাছে। পুরোহিত খুশি হয়ে বললেন, “বেশ, ওকে পাঠদান করব আমি।”
সেদিন থেকে জোজি মঠেই বাস করতে লাগল। প্রধান পুরোহিত ওকে লেখাপড়া শেখাতে শুরু করলেন। জোজির নিজস্ব একটি লেখার সরঞ্জাম রাখার বাক্স ছিল। তাতে ছিল একটি তুলি, একটি কালির কাঠি এবং একটি গর্তওয়ালা পাথর।
কালি তৈরি করতে খুব ভালো লাগত জোজির। সে ওই পাথরের গর্তে জল ঢালত। তারপর কালির কাঠিটি সেই জলে ডুবিয়ে ভিজিয়ে নিত। এরপর সে পাথরটির ওপর কাঠিটি ঘষত। আর অমনি তার তুলির জন্য তৈরি হয়ে যেত কালি।
মঠের অন্য ছাত্ররা পড়াশোনার পেছনে কঠোর পরিশ্রম করত। কিন্তু জোজির বেলায় ব্যাপারটা ছিল একেবারেই আলাদা। তুলি আর একটুকরো কাগজ নিয়ে সে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেবল ছবিই এঁকে যেত, আর অন্য কোনও কাজই করত না। আর জোজির আঁকার বিষয়বস্তু ছিল মাত্র একটিই— বিড়াল।
বিড়াল, বিড়াল—আর কেবলই বিড়াল। ছোটো বিড়াল, বড়ো বিড়াল; রোগা বিড়াল, মোটা বিড়াল। বিড়াল, বিড়াল, বিড়াল, বিড়াল— আর শুধুই বিড়াল।
“জোজি,” প্রধান পুরোহিত একদিন বিরক্ত মুখে তাকে ডেকে বললেন, “তোমাকে এইসব বিড়ালের ছবি আঁকা বন্ধ করতেই হবে। তা না হলে তুমি ভালো পুরোহিত হবে কী করে, বলো তো?”
জোজি নতজানু হয়ে বলল, “আমি দুঃখিত, শ্রদ্ধেয় গুরুমশাই। ছবি আঁকা বন্ধ করতে চেষ্টা করব আমি।”
সত্যি কথা বলতে কী, জোজি এবারেও সে-চেষ্টা করেছিল। কিন্তু যখনই জোজি দেখত মঠের কোনও একটি বিড়াল পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে, অমনি সে তার লেখালেখির কথা বেমালুম ভুলে যেত এবং ঝটপট আর একটি বিড়ালের ছবি আঁকতে বসে পড়ত।
জোজি অবশ্য এখানেই থেমে থাকল না। মঠের বিভিন্ন ঘরের ভাঁজ করা যায় এমন অনেক কাঠের ঘর-বিভাজকের কাগজের ফলকগুলির ওপর ছবি আঁকা শুরু করল। অচিরেই কাঠের ঘর-বিভাজকগুলির কাগজের ফলকগুলিতে একের পর এক বিভিন্ন আকৃতির বিড়ালের ছবি ফুটে উঠতে লাগল। বিড়াল যেন সব জায়গায়—সর্বত্রই বিড়াল।
“জোজি, তুমি কখনোই একজন পুরোহিত হতে পারবে না।” প্রধান পুরোহিত একদিন তাকে বিষণ্ণ গলায় বললেন, “যা বুঝতে পারছি, তোমাকে বাড়িই ফিরে যেতে হবে।”
বাধ্য ছেলের মতো একদিকে মাথা হেলাল জোজি। তারপর চুপচাপ তার ঘরে চলে গেল নিজের জিনিসপত্র গুছিয়ে নিতে। কিন্তু বাড়ি ফিরতে তার ভীষণ ভয় করছিল। সে জানত, তার বাবা খুব রেগে যাবেন।
ঠিক তক্ষুনি জোজির মনে পড়ে গেল, পাশের গ্রামে আর একটি মঠ রয়েছে। ‘হয়তো আমি সেখানকার প্রধান পুরোহিতের কাছে আশ্রয় নিতে পারব।’ মনে মনে বলল সে। তারপর পায়ে হেঁটে সেই মঠের উদ্দেশে রওনা দিল।
জোজি যখন পাশের গ্রামে পৌঁছল তখন অনেক রাত। সে পা টিপে টিপে মঠের সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠল। মঠের দরজা বন্ধ। খানিক ইতস্তত করে সে দরজার কড়া নাড়ল। ভেতর থেকে কোনও সাড়া এল না। খানিকক্ষণ অপেক্ষা করে জোজি ভারী দরজাটার কড়া ধরে জোরে টান দিল। দরজাটা ভেতর থেকে আটকানো ছিল না, খুলে গেল সহজেই। ভেতরে তখন ঘুটঘুটে অন্ধকার।
“কী অদ্ভুত ব্যাপার!” জোজি ফিসফিস করে বলল, “এখানে কেউ নেই কেন?”
দরজার পাশে একখানা পেতলের প্রদীপ রাখা ছিল। জোজি সেটি জ্বালাল। সেই আলোয় জোজি যা দেখতে পেল তাতে খুশিতে হাততালি দিয়ে নেচে উঠল সে। সেই বিশাল ঘরটির চারপাশ জুড়ে ছিল ভাঁজ করা যায় এমন অনেক কাঠের ঘর-বিভাজক—আর সেগুলোর কাগজের ফলকগুলো একেবারেই সাদা!
জোজির মনে আর আনন্দ ধরছিল না। তড়িঘড়ি সে তার লেখার বাক্সটি বের করল আর খানিকটা কালি তৈরি করে নিল। তারপর সে তুলিটি কালিতে ডুবিয়ে ছবি আঁকা শুরু করল। আর জোজি যা আঁকছিল, তা ছিল কেবল ওই একটিই বস্তু— বিড়াল।
বিড়াল, বিড়াল আর কেবলই বিড়াল। ছোটো বিড়াল, বড়ো বিড়াল; রোগা বিড়াল, মোটা বিড়াল। বিড়াল, বিড়াল, বিড়াল, বিড়াল— আর শুধুই বিড়াল।
সবশেষে যে কাগজের ফলকে জোজি আঁকছিল, সেটা প্রায় ঘরটার সমান লম্বা ছিল। জোজি সেটাতে একটা বিশাল বিড়াল আঁকল— তখন অবধি তার আঁকা সবচেয়ে বড়ো আর সুন্দর বিড়াল।
আঁকা শেষ হলে বড্ড ক্লান্ত লাগছিল জোজির। শুয়ে পড়তে ইচ্ছে করছিল। তবে এত বড়ো একখানা ঘরে খোলা জায়গায় ঘুমোতে তার কেমন যেন অস্বস্তি হচ্ছিল। ‘ঘুমোবার জন্যে এর চাইতে ছোটো কোনও জায়গা খুঁজে নিতে হবে।’ নিজের মনেই বলল সে। ঘুরতে ঘুরতে জোজি একটা আরামদায়ক দেরাজ খুঁজে পেল। আলমারির ভেতরে গুছিয়ে বসল সে। তারপর দেরাজের দরজাটা ভেতর থেকে টেনে বন্ধ করে গুটিসুটি মেরে ঘুমিয়ে পড়ল।
তখন অনেক রাত। হঠাৎ একটা ভয়ংকর শব্দে ধড়মড় করে জেগে উঠল জোজি। মনে হল, কে যেন খুব কাছেই গড়ড়ড়ড় গড়ড়ড়ড় শব্দ করছে। ঘরের ভেতর একটা বিশাল, হিংস্র জন্তুর আওয়াজের মতো শোনাল যেন! এই এখন জোজি বুঝতে পারল, কেন রাত্তির বেলায় এই মঠের ভেতর কেউ ছিল না। জোজি ভীষণ পস্তাতে লাগল— ‘ইস্ রে, কোন কুক্ষণে যে এই অলুক্ষুণে মঠের ভেতর ঢুকেছিলাম!’
জোজি স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছিল, জন্তুটার শ্বাসের শোঁ শোঁ শব্দ। বড়ো ঘরটার চারপাশে ওটা শুঁকে বেড়াচ্ছে, হয়তো শিকারের খোঁজে। এবার ওটা ঠিক দেরাজের সামনে এসে থামল। জোজি আর জন্তুটার মাঝখানে কেবল দেরাজটার দুটো বন্ধ পাল্লা।
তারপর হঠাৎ করেই— মিয়াঁও!
পরক্ষণেই প্রবল ধস্তাধস্তির শব্দ, ভয়ংকর গর্জন আর তীব্র আর্তনাদ শোনা গেল। তারপর একটা বিরাট ধপাস করে শব্দ। থরথর করে কেঁপে উঠল ঘরের মেঝে।
খানিক পরেই শোনা গেল, নরম পায়ে কী যেন একটা হেঁটে চলে গেল দূরে। ক্রমশ মিলিয়ে গেল তার পায়ের আওয়াজ। তারপর অপার নিস্তব্ধতা।
দেরাজের ভেতর অন্ধকারে শুয়ে শুয়ে কাঁপছিল জোজি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেখানেই কাঠের মতো শক্ত হয়ে পড়ে রইল সে। দেরাজের পাল্লা সামান্য ফাঁক করে বাইরে তাকাবার সাহসটুকুও সে জোগাড় করতে পারছিল না। অবশেষে, দেরাজের পাল্লার কোনায় দিনের আলোর সরু রেখা দেখা গেল। জোজি সাবধানে পাল্লাটা ঠেলে খুলে বাইরে উঁকি দিল।
ঘরের মাঝখানে পড়ে ছিল একটা দৈত্যাকার ইঁদুর, প্রায় একটা গোরুর মতো বড়ো! ওটা মরে পড়ে ছিল। দেখে মনে হচ্ছিল, যেন কিছু একটা ওকে মেঝেতে আছড়ে ফেলেছে।
জোজি ঘরের চারপাশে তাকাল। সেখানে আর কেউ বা কিছু ছিল না—শুধু কাঠের ঘর-বিভাজকের কাগজের ফলকগুলোতে ওর আঁকা একটার পর একটা বিড়ালের ছবি। দেখতে দেখতে নিজের আঁকা সেই বিশাল বিড়ালটার ওপর নজর পড়ল জোজির। সে বিড়বিড় করে নিজেকেই জিজ্ঞেস করল, “আমি কি বিড়ালের মাথাটা বাঁদিকে আর লেজটা ডানদিকে আঁকিনি?”
হ্যাঁ, সে নিশ্চিত, এমনটাই এঁকেছিল। কিন্তু এখন বিড়ালটা অন্যদিকে মুখ করে আছে, লেজটা আর একদিকে বেঁকে রয়েছে—যেন কাগজের ফলক থেকে নেমে, ঘুরেফিরে বিড়ালটা আবার ওপরে উঠে গেছে। কিন্তু এ কীভাবে সম্ভব!
আচমকা জোজির চোখ দুটো বড়ো বড়ো হয়ে গেল। সে যেন কিছু একটা বুঝতে পেরেছে। “তবে কি আমার আঁকা এই বিড়ালটাই…” অস্ফুটে তার মুখ থেকে বেরিয়ে এল। দু-হাত জোড় করে ঘরজোড়া কাগজের ফলকে আঁকা বিশাল বিড়ালের দিকে তাকিয়ে মাথা নত করল সে। তারপর মুখ তুলে হেসে বলল, “ধন্যবাদ, শ্রদ্ধেয় বিড়াল। তুমি আমাকে বাঁচিয়েছ। যতদিন আমি বেঁচে থাকব, বিড়ালের ছবি আঁকা থেকে কেউ আমাকে আটকাতে পারবে না।
গ্রামবাসীরা যখন জানতে পারলেন, সেই দৈত্যাকার ইঁদুরটি মারা গেছে, তখন তাঁদের চোখে জোজি বীরের মর্যাদা লাভ করল। এই অসাধ্য সাধন করবার জন্যে ওই গ্রামের মঠের প্রধান পুরোহিত তাকে যতদিন ইচ্ছে ততদিন মঠে থাকবার অনুমতি দিলেন।
তবে কি শেষমেশ জোজি পুরোহিত হল? না, জোজি পুরোহিত হল না। ওর বাবার মতো কৃষকও হল না। সে একজন শিল্পী হল। এক মহান শিল্পী। সারা দেশজুড়ে সমাদৃত এক শিল্পী। এমন এক শিল্পী, যে কেবল একটিই বিষয়ে আঁকত— বিড়াল।
বিড়াল, বিড়াল আর কেবলই বিড়াল। ছোটো বিড়াল, বড়ো বিড়াল; রোগা বিড়াল, মোটা বিড়াল। বিড়াল, বিড়াল, বিড়াল, বিড়াল— আর শুধুই বিড়াল।
(জাপানি লোককথা অবলম্বনে)
শুভাঞ্জন ব্যানার্জী ▪ প্রবাহনীল দাস
লিও তলস্তয় ▪ নলিনাক্ষ ভট্টাচার্য
তাপস মৌলিক ▪ অংশু পাণিগ্রাহী ▪ বাণীব্রত গোস্বামী ▪অরিন্দম ঘোষ ▪ রঞ্জন দাশগুপ্ত ▪ সিদ্ধার্থ দাশগুপ্ত ▪শাশ্বত কর ▪ রাজীব রায় গোস্বামী ▪ সায়নদীপা পলমল ▪ প্রদীপ কুমার দাস
বদ্রীনাথ পাল ▪ তাপস বাগ ▪ বসন্ত পরামানিক ▪ গোবিন্দ মোদক ▪ সুব্রত দাস ▪ অর্ণব ভট্টাচার্য ▪ সুজাতা চ্যাটার্জী ▪ মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় দাস ▪ মধুমিতা ভট্টাচার্য ▪ ড. রমলা মুখার্জী ▪ সনৎকুমার ব্যানার্জী ▪ বিদ্যুৎ মিশ্র ▪ রাজর্ষি মণ্ডল ▪ রূপালী মুখোপাধ্যায় ▪ শক্তিপদ পণ্ডিত ▪ শম্ভু সরকার ▪ সুব্রত চৌধুরী
অদিতি ভট্টাচার্য ▪ দীপঙ্কর চৌধুরী ▪ মৌসুমী রায় ▪ সবিতা রায় বিশ্বাস ▪ সহেলী রায় ▪ কিশোর ঘোষাল
অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় ▪ অরিন্দম দেবনাথ ▪ কমলবিকাশ বন্দ্যোপাধ্যায় ▪ দীপক দাস ▪ ড. উৎপল অধিকারী ▪ চন্দ্রানী মজুমদার
সায়ন্তনী পলমল ঘোষ ▪ সোমা দে ▪ শংকর লাল সরকার ▪ সন্দীপন সাহা
অলংকরণ
মায়াসখা নন্দী ▪ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ▪ একপর্ণিকা ক্রিয়েটিভস
হেরম্বপুর থানার দোর্দণ্ডপ্রতাপ দারোগা দিগম্বর দিকপতি। রগচটা, বদমেজাজি, কিন্তু কর্মনিষ্ঠ। যাঁর দাপটে অপরাধ-জগৎ কম্পমান! সেই দিকপতিকে তিষ্ঠোতে দেয় না ধুরন্ধর চোর সনাতন। নানান ভাবে, নানান ফিকিরে নাস্তানাবুদ করে তোলে দাপুটে এই বড়োবাবুকে। অকুতোভয় বড়োবাবু বাইরে প্রকাশ না করলেও মনে মনে সনাতনকে খুবই ভয় পান। কী জানি কখন কী করে ব্যাটাচ্ছেলে তাঁর মানসম্মান সব ধুলোয় মেশায়! সবসময়ই বাছাধনের মাথায় শুধু বুদ্ধির মারপ্যাঁচ! তাই সর্বদাই তাকে সমঝে চলতে হয়।
অপরদিকে সনাতনেরও দারোগাবাবুর ভয়ংকর বদমেজাজি রাগটাকে ভয়। কে জানে কবে তাকে মিথ্যে কেসে ফাঁসিয়ে যাবজ্জীবন সাজায় না জেলে পাঠান! সমস্ত বই জুড়ে শুধু এই দুই মহারথীর দ্বৈরথ।
কখনও সনাতন শেষ হাসি হাসলে কখনও দিকপতিও জয়ী হন। শুরু থেকে শেষ অবধি এই সংকলনের কুড়িটি গল্পে শুধু অত্যন্ত মজাদার এই দুই চরিত্রের অদম্য লড়াই। পাঠক হাসিতে লুটিয়ে পড়বেন কাহিনির বিন্যাসে। সঙ্গে সনাতনী সংলাপ আর দিগম্বরী প্রত্যাঘাত।
কুড়ি জন দিকপাল বিজ্ঞানীর অসাধারণ কর্মকাণ্ড আর জীবনের গল্প। যে বিজ্ঞানীদের হাত ধরে সভ্যতা এগিয়ে গিয়েছে, কুসংস্কার আর অন্ধবিশ্বাসের ঢাকনা খুলে অনাবৃত হয়েছে বিজ্ঞানের সৌন্দর্য, যাঁদের আপসহীন জীবন সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে বিজ্ঞানের জয়ধ্বজা উড়েছে, তাঁদের জীবনের অন্যান্য দিকগুলোও তুলে ধরা হয়েছে এই বইতে।