প্রবন্ধ
FREE SHIPPING IN INDIA
প্রবন্ধ
দেখতে একই হলে কী হবে, চাষিদের টুপি নানা নামে পরিচিত। আমাদের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের জেলায় জেলায় আলাদা নাম। এই তো দাদুর বাড়ির ‘দেশ’ বর্ধমান জেলায়, টোকা। আবার নদিয়ায় এর নাম মাথাল। কেউ বলেন মাথলা। অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটা গল্প আছে ‘ফকরা নিশি’ নামে। এই গল্পে মাথলার কথা আছে। চাষিরা মাথলা মাথায় নিড়েন দিচ্ছিল ধানজমিতে। মাথলা বা মাথাল আবার মুর্শিদাবাদে হয়ে যাবে মাথালি। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় একটা টুপির যদি এত নাম হয়, দেশে দেশে তবে কত ধরনের নাম হতে পারে!
দীপক দাস
কোথায় যে প্রথম দেখেছিলাম, মনে নেই। দাদুর বাড়িতে, নাকি ‘চাঁদমামা’ পত্রিকায়? দাদুর বাড়িতেই হবে। তখন গরমের ছুটি মানেই দাদুর বাড়ি। বর্ধমান জেলায়। চারদিকে গাছগাছালি ঘেরা বাড়ি। দাদু প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। চাষবাসও ছিল। নিজেও মাঠে চাষ করতেন। বড়ো বড়ো কোদাল নিয়ে হুপহাপ করে মাটি কোপাতেও দেখেছি। চাষবাসের জন্যই নানা যন্ত্রপাতি থাকত দাদুর বাড়িতে। নিড়ানি, ছোটো কোদাল, মাঝারি কোদাল, বড়ো কোদাল, দা, হাঁসুয়া। ওইসব চাষবাসের যন্ত্রপাতির মাঝেই একদিন দেখেছিলাম টুপিটা। বেশ বড়োসড়ো, গোল। মাঝখানটায় একটু ওঠামতো। চাগিয়ে দেখেছিলাম। তখন বোধ হয় প্রাথমিক স্কুলের ছাত্র। বেশ ভারীই লেগেছিল।
কী এটা? কী হয় এটা দিয়ে? দিদা বলেছিল, এর নাম টোকা। গরমে চাষিরা পরে। ওদের সকাল থেকে বেলা পর্যন্ত ঝাঁ ঝাঁ রোদে কাজ করতে হয় তো, তাই। টুপির নাম টোকা শুনে আশ্চর্য হয়েছিলাম ছোটোবেলায়।
আশ্চর্য হয়েছিলাম ‘চাঁদমামা’ দেখেও। আরে! সেই টোকার মতো টুপি পরে ঘুরছে চিনের একটা লোক। আমরা দুই ভাই তখন প্রাথমিক স্কুলে পড়ি। বাড়িতে ‘চাঁদমামা’ নেওয়া শুরু হয়েছিল। এখন আর পত্রিকাটা পাওয়া যায় না। অনেক বছর আগেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। খুব সুন্দর পত্রিকা ছিল। কী সুন্দর সুন্দর সব আঁকা! গল্পগুলোও সুন্দর। ভালো লাগত বিভিন্ন দেশের লোককথাগুলো। চিনদেশের এক লোককথার গল্পে কাঁধে বাঁক নিয়ে একজনের ছবি ছিল। সেই বাঁকওয়ালার মাথায় ছিল টোকার মতো টুপিটা। দুই ভাই তো খুব অবাক। দাদুর বাড়ির টোকার মতো টুপি পরে চিনের লোকেরাও!
ঘরে কয়েকটা ‘চাঁদমামা’ এখনও রয়েছে। এই লেখাটা তৈরির করার আগে সেগুলো ঘাঁটছিলাম। চিনদেশের লোককথার গল্পটা পেলাম না। বদলে পেয়ে গেলাম জাপানের এক লোককথার গল্প। এই বড়ো বয়সেও আশ্চর্য হয়ে গেলাম। গল্পটা ওটোকো নামে একটা কুঁড়ে ছেলে আর টেঙ্গু ভূতের। ভূতকে বোকা বানাতে গিয়ে ওটোকো কীভাবে ফাঁদে পড়েছিল, তা নিয়ে। গল্পের শুরুতেই দেখি, ওটোকোর মাথায় একটা টুপি। ওই চিনদেশের বাঁক বওয়া লোকটার মতো। জাপানের গল্পটার কথা ভুলে গিয়েছিলাম তো!
ভুলে যাওয়ার কারণও ছিল। একসময় চিনের শাওলিন মার্শাল আর্টের সিনেমা দেখতে শুরু করি। সেখানে তো বহু চরিত্রের মাথায় ওই টুপি দেখেছি। তাই বোধ হয় ‘চাঁদমামা’র চিনদেশের লোককথাই মনে ছিল।
প্রশ্ন হল, চিন বা জাপানের পোশাক আলাদা, খাবারদাবারেও তফাত আছে, তা হলে সে-দেশের লোক কেন আমাদের দেশের চাষিদের মতো টুপি পরে ঘুরে বেড়ায়? চাষ করে? বাঁক বয়?
আসলে টুপিগুলো শুধু চাষিরা ব্যবহার করেন না। মৎস্যজীবী, রাস্তায় কাজ করা শ্রমিকেরাও ব্যবহার করেন। এইগুলো সবই অনেক পুরোনো দিন থেকে ব্যবহার হয়ে আসছে। সম্ভবত এই টুপিগুলোর ব্যবহার ছাতা আবিষ্কারের আগে থেকেই। মানে আমরা এখন যেগুলোকে ছাতা বলি। তবে অতি প্রাচীনকালেও ছাতা ছিল। অন্য রূপে। আর তা সম্ভবত অভিজাতদের জন্যই তৈরি হত। রাজছত্র শব্দটা তো অনেক পুরোনো। শ্রমজীবী মানুষদের দুটো হাতই কাজে ব্যবহার করতে হয়। ছাতা নিয়ে কাজ করা মুশকিল। তাছাড়া তখন ছাতা সকলে ব্যবহারও করতে পারতেন না। দামের বা এলাকার বাজারে কিনতে না পাওয়ার ব্যাপার ছিল। সেই সঙ্গে সামাজিক বিধিনিষেধ থাকাও অসম্ভব নয়। এরকম বিধিনিষেধের নানা কাণ্ড কিন্তু শুনেছি। ঘুরতে ঘুরতে একজায়গায় গিয়ে জেনেছিলাম, সেখানকার জমিদারেরা বাড়ির সামনে দিয়ে প্রজাদের জুতো পরে যেতে দিত না। জুতো পরা দেখলে মারধর করত। ছাতাতেও সেরকম কিছু আপত্তি থাকতেও পারে, বা বাবুয়ানার ব্যাপারও হতে পারে। সেসব যদি না-ও থেকে থাকে, ছাতা নিয়ে কাজ করার অসুবিধাটাই মুখ্য।
এই অসুবিধার সুবিধায় কোনও এক চাষি কোনও এক দেশে চিন্তাশক্তির জোরে এমন টুপি তৈরি করে ফেলেছিলেন। এক দেশ নাও হতে পারে। অনেক দেশেই অনেকে এরকম একটা টুপি হলে ভালো হয় ভেবে নিয়েছিলেন। তৈরি করতে তো আহামরি কিছু লাগে না। বাঁশের চেঁচারি, তালপাতা বা খড় দিয়েই বুনে নেওয়া যায় এমন টুপি। আর এই গাছগুলো পৃথিবীর সব দেশে মেলে। হাতের কাছেই। বিনা খরচেই মেলে। কিনতে হলেও খরচ তেমন নয়। শুধু বুনে নিতে হবে।
কিন্তু একরকম দেখতে হল কেন? তার কারণ, টুপিটা এমনভাবে তৈরি করতে হত যাতে শুধু মাথা নয়, শরীরের ওপরের অংশেও যেন ছায়া পড়ে। তাই আকারটা বড়ো আর গোল হয়। আর মাথায় এঁটে বসার জন্য টুপির ওপরের অংশটা একটু উঁচুমতো করা হয়। ফলে কমবেশি একইরকম দেখতে হয়। ইংরেজিতে এই টুপিগুলোকে ‘কনিক্যাল হ্যাট’ বলে। ওপরের দিকটা উঁচু বলে কিছুটা শঙ্কু আকৃতির দেখতে হয়। তাই এমন নাম।
দেখতে একই হলে কী হবে, চাষিদের টুপি নানা নামে পরিচিত। আমাদের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের জেলায় জেলায় আলাদা নাম। এই তো দাদুর বাড়ির ‘দেশ’ বর্ধমান জেলায়, টোকা। আবার নদিয়ায় এর নাম মাথাল। কেউ বলেন মাথলা। অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটা গল্প আছে ‘ফকরা নিশি’ নামে। এই গল্পে মাথলার কথা আছে। চাষিরা মাথলা মাথায় নিড়েন দিচ্ছিল ধানজমিতে। মাথলা বা মাথাল আবার মুর্শিদাবাদে হয়ে যাবে মাথালি। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় একটা টুপির যদি এত নাম হয়, দেশে দেশে তবে কত ধরনের নাম হতে পারে!
মায়ানমারের ইনলে হ্রদের মৎস্যজীবীরা অদ্ভুত কায়দায় মাছ ধরেন। ছোটো ডোঙার মতো নৌকায় এক পা রেখে আর এক পা দিয়ে বৈঠা টানেন। দারুণ ভারসাম্যের খেলা। ইনথা জনজাতির মানুষ এঁরা। ছোটো থেকেই শিখে যান এই কায়দায় মাছ ধরা। হ্রদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর ইনথাদের মাছ ধরার এমন কৌশল দেখতে বহু বিদেশি পর্যটক আসতেন। এখন নানা কারণে সংখ্যাটা কমেছে (তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা)। ইনথা মৎস্যজীবীরাও মাছ ধরার সময় একধরনের টুপি পরেন। এই টুপির নাম খামাউক। বাঁশ, তালগাছের পাতা আর রাতান নামে একধরনের পাম, অর্থাৎ তালজাতীয় গাছের পাতা দিয়ে তৈরি হয় টুপিগুলো। দেখতে আমাদের দেশের টোকা বা মাথালের মতোই।
ইনথা টুপি
কৃষিবিজ্ঞানী অংশুমান দাশ অনেক দেশে ঘুরেছেন। কৃষকদের সঙ্গে তাঁর সখ্য বেশ। আফ্রিকা-এশিয়ার বিভিন্ন দেশের খাবারদাবার নিয়েও খুব ঝোঁক। এ নিয়ে লেখালেখিও করেন। বইও রয়েছে একটা। তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, লাওসের চাষিরা একধরনের টুপি পরেন, কী নাম? জানালেন, লাও টুপির নাম ‘কু’। নামটা দেখে আন্তর্জালে খুঁজলাম। মিলিয়ে দেখলাম, কিছুটা দেখতে আলাদা হলেও একইরকম টুপি। আর তৈরির উপকরণও এক।
এই যে চিন নিয়ে এত কথা লেখা হল, ও-দেশের শ্রমজীবী মানুষদের টুপি কী নামে পরিচিত? আন্তর্জালে দেখলাম, চিনের মান্দারিন ভাষায় এই টুপির নাম দৌলি। বাঁশ বা খড় দিয়ে তৈরি এই টুপি চিনের শ্রমজীবী মানুষ কয়েকশো বছর ধরে ব্যবহার করছেন। চিনের কথা যখন এল, একবার টিনটিনের অভিযানের কথাও বলে নেওয়া যাক। ‘ফারাওয়ের চুরুট’ চিনের গল্প। কিন্তু কমিকসে একবারও দৌলির দেখা পাইনি। সমাজের সব স্তরের মানুষের ছবি এঁকেছেন হার্জ। কিন্তু কারও মাথায় দৌলির মতো টুপি দেখিনি। টুপি ছিল, তবে অন্যরকম। এর কারণ কী? পরে খুঁজে দেখতে হবে।
জাপানের টুপিটার নাম হল কাসা। আমাদের পশ্চিমবঙ্গে ততটা নয়, চিন, জাপান, লাওসে কিন্তু এই টুপি ঐতিহ্যবাহী। মানে বহুকাল ধরে ব্যবহার হচ্ছে। আর তা সংস্কৃতির অঙ্গ হয়ে গিয়েছে। তাই শুধু চাষি, মৎস্যজীবী বা শ্রমিকেরা নন, অনেকে এমনিও পরেন। আমাদের বাংলায় মূলত চাষিরাই টোকা বা মাথাল ব্যবহার করেন।
তবে চাষের জমি ছাড়াও টোকা-পরা লোক দেখেছি। একবার দল বেঁধে ঘুরতে গিয়েছিলাম নদিয়ার বিল্বগ্রামে। মদনমোহন তর্কালঙ্কারের বাড়ি ছিল এখানে। সেই ‘পাখি সব করে রব’ লিখেছিলেন যিনি, তাঁর বাড়ি। ফেরার সময় বেথুয়াডহরি স্টেশনের কাছে বাজারে হেঁটে যেতে দেখেছিলাম এক বৃদ্ধকে। তিনি টোকা পরে হাঁটছিলেন। জমির কাজ করতে-করতেও কোনও দরকারে বাজারে আসতে পারেন। নিশ্চিত নই।
এখন টোকা বা মাথালির ব্যবহার কমেছে। প্রথমত, নানাধরনের হালকা টুপি পাওয়া যায়। জমিতে কিছু কাজ বসে করতে হয়। সেইরকম সুবিধাজনক ছোটোখাটো ছাতাও মেলে। তবে চাষিদের টুপি, ছাতা ব্যবহার করতে কমই দেখেছি। দ্বিতীয় কারণ হল, এই টুপি তৈরিতে অনেক সময় লাগে। তৈরি করার মতো লোকজনও কমে গিয়েছেন।
লাও টুপি 'কু'
টোকা বা মাথাল শুধু রোদের হাত থেকে বাঁচায় না। বৃষ্টি থেকেও মাথা রক্ষা করে। তবে বৃষ্টির সময় গ্রামাঞ্চলে আর একটি জিনিস ব্যবহার করতে দেখেছি। তালপাতার তৈরি পেখে বা পেকে। অনেকে পাখিয়াও বলেন। টোকার মতোই অনেক নাম এরও। এটা অনেকটা আধখানা নৌকার মতো দেখতে হয়। বড়োসড়ো পেখে মাথা থেকে কোমর পর্যন্ত নেমে আসে। পাখা থেকে পেখে শব্দটা এসেছে। আসলে এর ভিতরটা পাখির ডানার মতো দেখতে হয়। তালপাতা দিয়ে বুনে তৈরি হয় পেখে।
হাওড়া জেলাতেই দেখেছি পেখের ব্যবহার। আমাদের গ্রামে চাষিদের তুলনায় বাড়ির মেয়ে-বউয়েরা পেখে বেশি ব্যবহার করতেন। তখন তো ঘরে ঘরে নলকূপের ব্যবস্থা ছিল না, পুকুরের জলেই সবকিছু। বৃষ্টির মধ্যে পুকুরে যেতে হলে পেখে মাথায় দিয়ে যেতেন। কেউ কেউ বৃষ্টির মধ্যে মাঠ থেকে গোরু-ছাগল আনতে যেতেন পেখে মাথায় দিয়ে। পরে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারি, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামেও পেখে তৈরি হত। পুরুলিয়ায় আর এক ধরনের পেখে পাওয়া যায়। সেগুলো তালপাতার তৈরি নয়। তৈরি হয় চিহড় পাতা দিয়ে। নাম তার ঘঙ। টোকাকে পিছন দিকে বাড়িয়ে দিলে যেমন দেখতে হয়, ঘঙের আকার সে-রকম।
টোকার বেলায় দেখেছি, বিভিন্ন দেশে এর ব্যবহার রয়েছে। পেখের ব্যবহার বিদেশে আছে কি না জানি না। তবে অন্য রাজ্যে আছে। কেউ যদি অভিষেক বচ্চন ও ঐশ্বর্য রাই অভিনীত ‘গুরু’ সিনেমার ‘বরসো রে মেঘা মেঘা’ গানটা দেখে থাকেন, পেখে দেখতে পাবেন। গাছের নীচে একটা বাচ্চা পরেছিল। ওই গানে গোরুর গাড়ির চালকের মাথাতেও দেখা গিয়েছে। নায়িকা ঐশ্বর্য রাই যখন নৌকা বাইছিলেন, তখনও মাথায় পেখে পরেছিলেন। শুধু পেখে নয়, এই গানে টোকাও দেখা গিয়েছে। এক চাষি জমিতে মই দেওয়ার সময় টোকা পরেছিলেন। গানে দেখে যেটুকু মনে হল, এগুলো বাঁশের তৈরি।
‘গুরু’ সিনেমার গল্প গুজরাটের। মানে সে-রাজ্যেও বাংলার মতো টোকা ও পেখের ব্যবহার রয়েছে বা ছিল।
টোকার ব্যবহার কিন্তু আরও দুটো রাজ্যে রয়েছে। ত্রিপুরা ও অসমে। ত্রিপুরায় এর নাম পাথলা। কিন্তু সংস্কৃতি মন্ত্রকের একটি তথ্যে এই পাথলাকে ‘রেন শিল্ড’ বলা হচ্ছে। মানে বর্ষাতি। অর্থাৎ, পেখে। কিন্তু পাথলা দেখতে একেবারে টোকার মতো। তৈরি হয় বাঁশ থেকেই। ত্রিপুরার গ্রামের দিকে এখনও কিছু ব্যবহার রয়েছে পাথলার।
অসমের টোকার নাম জাপি। ঐতিহ্যবাহী টুপি। রাজ্যটির লোকসংস্কৃতি থেকে জাপিকে আলাদা করা যায় না। অসমের পঞ্চায়েত ও গ্রামীণ দফতরের তথ্য অনুযায়ী, জাপি তৈরি হয় বাঁশ দিয়েই। অসমে জাপি তৈরি কুটিরশিল্প। সামাজিক-সংস্কৃতির পরিচয় চিহ্ন। জাপি একই সঙ্গে রোদ-বৃষ্টি আটকাতে ব্যবহার হয়। তাই বিপুল জনপ্রিয়। নানাধরনের জাপি রয়েছে। যেমন, বড়ো জাপি, টুপি জাপি, উকা জাপি বা হালুয়া জাপি, সরুদায়া জাপি বা ফুলম জাপি। প্রতিটির ব্যবহারও আলাদা।
অহোম রাজাদের আমল থেকে সম্ভবত বড়ো জাপির প্রচলন শুরু হয়। উৎসব বা গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে পরা হত। সমাজের উঁচু স্তরের মানুষেরা ব্যবহার করতেন। সামাজিক মর্যাদা অনুযায়ী জাপিতে অলংকার ব্যবহার হত। যাঁদের উপাধি ছিল বড়গোঁহাঞি, তাঁরা জাপির চুড়োয় সোনা পরতেন। আর বড়ফুকন উপাধিধারীরা পরতেন রুপোর চুড়োর জাপি। উকা জাপি ব্যবহার করেন কৃষক ও শ্রমিকেরা। রোদ ও জল থেকে বাঁচতে। উকাকে অনেকে গোরখিয়া বা হালুয়া জাপিও বলেন। এই জাপির ব্যবহার অসমে ক্রমশ কমছে।
জাপির মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ফুলম জাপি বা সোরুদিয়া জাপি। বিহু উৎসবের সময়ে অসমে ফুলম জাপির ব্যাপক ব্যবহার হয়। বেশ নকশাদার, রঙিন হয় ফুলম জাপি। বর্তমানে বিশ্বের কাছে ফুলম জাপিই অসমের সংস্কৃতির প্রতীক হয়ে গিয়েছে।
দুঃখ হয় এখানেই। একই ধরনের এবং একই উপকরণ দিয়ে তৈরি টুপি অসমে সংস্কৃতির প্রতীক। অথচ আমরা হারিয়ে ফেলেছি প্রায়। চাহিদা কমেছে। শিল্পীদের সংখ্যাও কমেছে। প্রয়োজনের জন্যই তৈরি হয়েছিল টুপিগুলো। ফুলম জাপি এখন ঘর সাজাতেও ব্যবহার হয়। রাজ্যের নামি অতিথিদের উপহার দেওয়া হয়।
আর বাংলায়! প্রবীণ-প্রবীণাদের হাতে কোনোরকমে টিকে আছে টোকা-পেখেগুলো।
শুভাঞ্জন ব্যানার্জী ▪ প্রবাহনীল দাস
লিও তলস্তয় ▪ নলিনাক্ষ ভট্টাচার্য
তাপস মৌলিক ▪ অংশু পাণিগ্রাহী ▪ বাণীব্রত গোস্বামী ▪অরিন্দম ঘোষ ▪ রঞ্জন দাশগুপ্ত ▪ সিদ্ধার্থ দাশগুপ্ত ▪শাশ্বত কর ▪ রাজীব রায় গোস্বামী ▪ সায়নদীপা পলমল ▪ প্রদীপ কুমার দাস
বদ্রীনাথ পাল ▪ তাপস বাগ ▪ বসন্ত পরামানিক ▪ গোবিন্দ মোদক ▪ সুব্রত দাস ▪ অর্ণব ভট্টাচার্য ▪ সুজাতা চ্যাটার্জী ▪ মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় দাস ▪ মধুমিতা ভট্টাচার্য ▪ ড. রমলা মুখার্জী ▪ সনৎকুমার ব্যানার্জী ▪ বিদ্যুৎ মিশ্র ▪ রাজর্ষি মণ্ডল ▪ রূপালী মুখোপাধ্যায় ▪ শক্তিপদ পণ্ডিত ▪ শম্ভু সরকার ▪ সুব্রত চৌধুরী
অদিতি ভট্টাচার্য ▪ দীপঙ্কর চৌধুরী ▪ মৌসুমী রায় ▪ সবিতা রায় বিশ্বাস ▪ সহেলী রায় ▪ কিশোর ঘোষাল
অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় ▪ অরিন্দম দেবনাথ ▪ কমলবিকাশ বন্দ্যোপাধ্যায় ▪ দীপক দাস ▪ ড. উৎপল অধিকারী ▪ চন্দ্রানী মজুমদার
সায়ন্তনী পলমল ঘোষ ▪ সোমা দে ▪ শংকর লাল সরকার ▪ সন্দীপন সাহা
অলংকরণ
মায়াসখা নন্দী ▪ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ▪ একপর্ণিকা ক্রিয়েটিভস