ছোটো গল্প
FREE SHIPPING IN INDIA
ছোটো গল্প
স্কুলের পশ্চিমদিকেই খেলার মাঠ। জানুয়ারি মাসে বিভিন্ন ক্লাসের মধ্যে ক্রিকেট লিগ হত। আমি ভালো খেলতে পারতাম না। এই গাছের তলায় বসে খেলা দেখতাম আর পাঁচিল টপকে বাইরে বল চলে গেলে… আরে হ্যাঁ, তাই তো! হঠাৎ যেন শরীরে বিদ্যুতের ঝটকা অনুভব করলাম! বেড়ে গেল হৃদস্পন্দনের বেগ। রাক্ষস সম্পর্কিত ঘটনাটা তো এখানেই ঘটেছিল। পাঁচিলের ও-পারে, রাস্তার মাঝখানে। আমি শিরদাঁড়া সোজা করে বসলাম।
অংশু পাণিগ্রাহী
ঘুম ভাঙতেই টের পেলাম, পেটের মধ্যে সেই পরিচিত তীব্র ব্যথাটা শুরু হয়েছে।
প্রথমে হালকা চিনচিনে অনুভূতি, সামান্য মোচড়, তার পর দ্রুতগতিতে ব্যথার প্রভাবটা ছড়িয়ে পড়বে পেট জুড়ে। মাথা ঝিমঝিম করবে। সারা শরীরে অস্বস্তি, পেশিতে টান, অচল হাত-পা। হাঁটতে গেলেই টলমল করবে শরীর। চোখের সামনে নেমে আসবে কালো পর্দা।
লাফিয়ে খাট থেকে নামলাম আমি। খাদ্য চাই। একমাত্র উপযুক্ত খাবারই আমার শারীরিক সমস্যাগুলো দূর করতে পারে।
রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে পঁচিশটা ডিম সেদ্ধ করে রেখেছিলাম। এখন সেগুলো গলাধঃকরণ করতে পেটের চিনচিনে অস্বস্তির ভাবটা সামান্য কমল। তবে শুধু ডিমে হবে না, আরও কিছু প্রয়োজন।
বাড়িতে এখন বিপুল পরিমাণে খাদ্য মজুত রাখি আমি। কিলো তিনেক পেয়ারা আর দু-কেজি বেদানা খেয়ে কিছুটা সুস্থির হলাম। এতে ঘণ্টা খানেক চলে যাবে। কিন্তু, তার পর? আবার তো খিদে পাবে! সর্বগ্রাসী খিদে। শরীরকে শক্তি জোগাতেই হবে। নইলে বাস্তব বুদ্ধি হারিয়ে ফেলব আমি। লণ্ডভণ্ড হয়ে যাবে সব।
নাহ্, মানুষের সাধারণ খাবার দিয়ে এই খিদে মেটানো সম্ভব নয়। আমাকে বিকল্প ব্যবস্থা দেখতেই হবে। এমন কিছু খেতে হবে, যা আমাকে দীর্ঘমেয়াদি আরাম দেবে।
মোবাইলের ঘড়িতে দুটো তেত্রিশ। সেপ্টেম্বর চলছে। আজ বৃষ্টি হয়নি। প্যাচপ্যাচে গরম। কিন্তু উপায় নেই, নিজেকে যথাসম্ভব আড়াল করে রাখতে হবে। এই গভীর রাতে, লোকের চোখে পড়ার সম্ভাবনা কম হলেও সাবধানের মার নেই। ওয়াড্রোব খুলে শীত-পোশাকের সারি থেকে হুডি বের করলাম।
ঘর খাঁ-খাঁ করছে। গায়েব হয়েছে স্টিলের র্যাক, স্টাডি টেবিল আর আমার সাধের বইয়ের তিনটে আলমারি। আফসোস, হতাশা আর অসহায়তা আমার মস্তিষ্কের কোষগুলোকে কিছুক্ষণের জন্য অকেজো করে দিল।
রাত বাড়ছে। বিভিন্ন গল্পে পড়েছি, রাত তিনটেয় নাকি গৃহস্থের ঘুম সবচেয়ে গভীর হয়। তাই এই সময় হল চোরেদের কাজে বেরোনোর জন্য আদর্শ। আমিও হুডি আর সার্জিক্যাল মাস্ক চাপিয়ে বেরিয়ে পড়লাম পেটের জ্বালা মেটাতে।
হাতে ঘণ্টা খানেক সময় আছে। খিদের উপসর্গগুলো আবার দেখা দিতে শুরু করবে। তাড়াতাড়ি সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমাকে। রাস্তার দু-দিকে মোটা মোটা গাছের সারি। গাছ দিয়েই কাজ হয়ে যাবে। তবে গাছের ঘন শাখার ফাঁকে ফাঁকে অজস্র পাখির বাসা। চেতনাহীন নিষ্ঠুর ভাবটা এখনও আমার মধ্যে আসেনি। মাথা পরিষ্কার আছে। পাখির দল কোনও অপরাধ করেনি। আর একটু এগিয়ে দেখা যাক, অন্য কোনও উৎস মেলে কি না।
গ্রামের ঠিক মাঝখানে বটতলা। বটগাছের তলায় গোল করে বাঁধানো সিমেন্টের বেদি। বটতলা পেরিয়ে কিছুটা এগোলে সামন্তদের কুড়ি বিঘা ফলের বাগান, তার পর মিশ্রদের পরিত্যক্ত ভিটে। প্লাস্টার-খসা, ইট-বেরোনো ভগ্নপ্রায় তিনতলা বাড়ি, বট-অশ্বত্থ নাগপাশ দিয়ে টুঁটি চেপে ধরেছে। বাড়ির দু-একটা ঘর এখনও ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় আছে। সন্ধের সময় ক্লাবের ছেলেরা সেই ঘরে তাস-ক্যারম খেলে, আড্ডা দেয়। এখন অবশ্য বাড়ি ফাঁকা।
গত রাতে, শৈশব থেকে তিল তিল করে জমানো বই ও ম্যাগাজিনের স্টক আলমারিসুদ্ধ একবারের চেষ্টাতেই সাবাড় করে ফেলেছি। খিদের মাত্রা এতটাই প্রবল ছিল যে, আমি অচেতন এক জড় সর্বভুকে রূপান্তরিত হয়েছিলাম কিছুক্ষণের জন্য। কী করছি, কেন করছি খেয়ালে ছিল না।
আজ, এখনও সেই চূড়ান্ত মুহূর্ত আসেনি। সদ্যই খিদের সংকেতগুলো ফুটতে শুরু করেছে শরীরে। সামনে জরাগ্রস্ত বৃদ্ধ মানুষের মতো একা দাঁড়িয়ে আছে মিশ্রদের পোড়ো বাড়ি। এটাই হোক আমার আজকের শিকার। চোখ বন্ধ করে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। পায়ে পায়ে এগোতে লাগলাম বাড়ি লক্ষ্য করে।
খাদ্যগ্রহণের পদ্ধতি বেশ সহজ। সবক’টা আঙুল প্রসারিত করে আমি ডানহাতের তালু ঠেকালাম সামনের দেয়ালে।
***
যোগেশ সাউকে গ্রামের লোক জগাপাগলা বলে ডাকে। ছাত্রাবস্থায় যোগেশ প্রখর মেধাবী ছিল। বছর দশেক আগে সে যখন আই.আই.টি.-তে মাস্টার্স করছে, মাথার মধ্যে সব তালগোল পাকিয়ে যায়। ডাক্তার দেখিয়েও লাভ হয়নি। যোগেশ এখন গ্রামে থাকে। বেশিরভাগ সময়ই ওকে রাস্তাঘাটে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। ছেঁড়া পোশাক, বটের ঝুরির মতো চুল, আগাছার ঝোপের মতো দাড়ি। কখনো-বা বটতলায় বেদিতে ইটের টুকরো দিয়ে কীসব গোপন অঙ্ক কষতে থাকে। কেউ কাছে গেলেই কনুই ঘষে তড়িঘড়ি মুছে দেয়।
বিকেলে ডিম, ফল আর কিছু শুকনো খাবার কিনতে বেরিয়েছিলাম। যোগেশ কম্বল মুড়ি দিয়ে বটতলায় বসে হাত-পা নেড়ে কিছু বলছিল উত্তেজিত ভঙ্গিতে। ওর বক্তৃতা শোনার জন্য ভিড় জমে গেছে অথচ যোগেশ কাউকে তাড়াচ্ছে না, এই ব্যাপারটাই আমাকে কৌতূহলী করে তুলল। আমি এগিয়ে গেলাম ভিড়ের দিকে। আমাকে দেখে ক্লাবের দুটো ছেলে বলল, “জগাপাগলা কীসব বলছে শোনো! কাল রাতে নাকি দানব এসে আমাদের বাড়িটা খেয়ে ফেলেছে!”
বলতে ইচ্ছে করছিল, বাড়িটা তোদের নয়, তোরা দখল করে তাস পেটাস… সংবরণ করলাম নিজেকে। কথায় কথা বাড়বে। চাপা উৎকণ্ঠাও হচ্ছিল, যোগেশের বক্তব্যকে লোকে প্রলাপ ভাববে, তবু আমার জানা দরকার সত্যিই কতটুকু কী দেখেছে সে।
যোগেশ গলার শির ফুলিয়ে কাঁপতে কাঁপতে বলছিল, “দেখতে মানুষের মতোই। রাক্ষসটা হাতের পাঞ্জা বাড়ির দেয়ালে রাখল আর চোখের নিমেষে বাড়িটা ধুলো হয়ে, মৌমাছির ঝাঁকের মতো ঢুকে গেল ওর পেটে। চাঁদের আলোয় আমি স্পষ্ট দেখেছি, পেটটা ফাঁক হয়ে গেছিল—স্টোমাক, ইন্টেস্টাইন, লিভার—সব দেখা যাচ্ছিল। বাড়ির সব ধুলো পেটে ঢুকে যেতে আপনা-আপনিই পেটের দরজা বন্ধ হয়ে গেল, মানে পেটটা জোড়া লেগে গেল।”
‘রাক্ষস’ শব্দটা শোনার সঙ্গে-সঙ্গেই মাথা টলে গেল আমার। কী যেন একটা ঘটনা ছিল রাক্ষস সংক্রান্ত… কিছুতেই মনে পড়ছে না।
ভিড়ের মধ্য থেকে একজন জিজ্ঞেস করল, “তুই-বা অত রাতে কী করছিলি ওখানে?”
“আমার কাছে খবর ছিল, মিশ্রদের ভিটেয় রাতে এলিয়েনরা নামে। ওই বাড়ির ভিতরে কী যেন একটা খুঁজতে আসে।” বলেই আঁতকে উঠল যোগেশ— “না না, কোনও এলিয়েন নয়, কিছু না; তোমরা যাও, যাও, যাও!”
লোকেদের মধ্যে হাসির রোল উঠল একটা। কেউ একজন আবার প্রশ্ন করল, “রাক্ষসের মুখ দেখেছিস? রাস্তাঘাটে দেখা হলে চিনতে পারবি তো?”
“না তো! মুখোশ ছিল।” বলে অন্যমনস্ক হয়ে গেল যোগেশ। একবর্ণও বানিয়ে বলেনি, অথচ কেউই ওকে বিশ্বাস করবে না। কিন্তু আমাকে এবার থেকে সাবধান হতে হবে। ও যে কখন আমার পিছু নিয়েছিল, টের পাইনি।
ক্লাবের ছেলে দুটো বলল, “রাতারাতি অত বড়ো বাড়ি ভেঙে ইট, কাঠ বয়ে নিয়ে যেতে অনেক লোকের দরকার। নিশ্চয়ই বড়োসড়ো কোনও গ্যাং আছে এর পিছনে। তবে, এরকম ঘটনা আগে শুনিনি। রহস্য আছে একটা। আমরা ভাবছি, আজ থেকে রাতে পাহারা দেব।”
আমি ওদের ভাবনায় সমর্থন জানিয়ে বাড়ির পথ ধরলাম। মাথার মধ্যে ‘রাক্ষস’ শব্দটা জেগে রইল ঝিঁঝিঁর একটানা ডাকের মতো।
***
গত সাতদিন অফিস যাইনি। ছুটি নিয়েছি। দিনভর আশেপাশের গ্রাম আর টাউনে পরিত্যক্ত বাড়ি, আবাসন, কারখানা, মৃত গাছ খুঁজে বেড়াই। রাতে সেইসব আবিষ্কার আমার উদরপূর্তির কাজে লাগে। একটা বড়ো বিল্ডিং বা খান দশেক গাছ খেলে মোটামুটি কুড়ি-বাইশ ঘণ্টা খিদে পায় না। তবে খিদের বহর বাড়ছে রোজই। মানুষের ফেলে যাওয়া বাড়ি আর শুকনো গাছও তো খুব সহজলভ্য জিনিস নয়। গ্রাম ও আশেপাশের এলাকায় আমার খাবার প্রায় ফুরিয়ে এসেছে।
রাতে গ্রামের লোকেরা পাহারা দেয়। পুলিশও বোধ হয় নজর রাখছে। ধরা পড়লে আমাকে সম্ভবত সরাসরি গুলি করে দেওয়া হবে। আমি কেবল জিনিসপত্রের ওপর হাত রেখে, সেটার পরমাণু ভেঙে শক্তি বের করতে পারি। সেই শক্তি শরীরে ঢুকে আমার খিদে মেটায়। কিন্তু দূর থেকে ছোড়া গুলি বা অস্ত্রের বিরুদ্ধে লড়বার ক্ষমতা নেই।
আমার আগ্রহের বস্তু সম্পর্কে পাহারাদারদের এতদিনে ধারণা তৈরি হয়ে গেছে। ওরা এদিক-ওদিক হন্যে হয়ে না ঘুরে সেইসব পুরোনো নির্মাণগুলোর সামনে পাহারা দেয়। স্কুল, কলেজ, চালু অফিস এই তালিকায় পড়ে না। সে-সব রাতের বেলায় অরক্ষিত হয়ে পড়ে থাকে। তাই আমি পরিকল্পনা পালটে ফেলেছি।
গভীর রাতে বেরোনো অত্যন্ত ঝুঁকির। সন্ধে থাকতেই রেলস্টেশনে চলে এসেছি। প্ল্যাটফর্মের অন্ধকার এককোণে বেঞ্চিতে বসে আছি ঘণ্টা চারেক। শেষ ট্রেন চলে গেছে। নিস্তব্ধ শুনশান সব। কয়েকটা কুকুর কেবল প্ল্যাটফর্মের ওপর খেলাধুলো করছে। আমি উঠে পড়লাম।
স্টেশন থেকে উত্তরদিকে দেড় কিলোমিটার গেলেই ‘মধুপুকুর স্নেহময়ী উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়’। আমাদের গ্রামের স্কুল। রোদ-জল-ঝড় মাথায় নিয়ে সাতাত্তর বছর ধরে একইভাবে দাঁড়িয়ে আছে। আমি এই স্কুল থেকেই উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছি। বড়োজোর আধঘণ্টা, স্কুলটা আর থাকবে না, চিরকালের মতো বিলীন হয়ে যাবে আমার শরীরে।
রেললাইন পেরিয়ে হাঁটতে শুরু করলাম আমি।
কিন্তু এভাবে কতদিন? আমার এ-হেন রাক্ষুসে খিদের কারণ কী? টাউনের খ্যাতনামা গ্যাস্ট্রো-এন্টারোলজিস্টের কাছে গিয়েছিলাম। তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী আল্ট্রাসাউন্ড, এন্ডোস্কোপি, কোলনোস্কোপি, রক্ত পরীক্ষা ইত্যাদি করিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি। পেটের মধ্যে কোনও অঙ্গেই কোনও অসঙ্গতি বা রোগ নেই। সব সুস্থ স্বাভাবিক। ডাক্তারবাবুর সামনেই তিন ডজন কলা আর দুই কেজি বাদামভাজা খেয়ে ফেলেছিলাম। চোখ কপালে উঠলেও এই অসুখের সন্তোষজনক কোনও ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারেননি। তার পর যেদিন প্রথম বিনা যন্ত্রণায় আমার পেটে ফাটল ধরল আর সেটা জুড়েও গেল, আমি বইয়ের পুরো সংগ্রহ হজম করে দিলাম, সেদিনই বুঝেছিলাম, মানুষ এতদিন যেটুকু চিকিৎসাবিদ্যা আয়ত্ত করেছে, তা দিয়ে আমার রোগের সমাধান হবে না। ডাক্তারের কাছে গিয়ে বিশেষ লাভ নেই।
আঠারো দিন আগে অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পর পেটে মোচড় দিয়েছিল। সেই প্রথমবার। শুরুর দিকে প্রচলিত খাবারদাবারই যথেষ্ট ছিল। অবশ্য অনেকটা বেশি পরিমাণে খেতে হত। কিন্তু, এখন আর আগের পরিস্থিতি নেই।
কয়েকদিন ধরেই মাথায় নানারকমের চিন্তা আসছে— একজায়গায় বেশিদিন থাকা আমার পক্ষে সম্ভব হবে না। আমি যেখানেই যাব, না চাইলেও, ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হবে আমার কর্মকাণ্ডের জন্য। পেছনে পুলিশ লাগবে। চোরের মতো লুকিয়ে, পালিয়ে বেড়াতে হবে আজীবন। তা ছাড়া কখনও যদি খিদের জ্বালায় বেসামাল হয়ে জীবন্ত গাছ, প্রাণী, মানুষকে খেয়ে ফেলি? পুলিশের গুলি বা গণপিটুনিতে মরতে চাই না। জীবন্ত প্রাণী বা উদ্ভিদ ভক্ষণের অপরাধবোধও বইতে পারব না… সত্যিই কি এভাবে বাঁচতে পারে মানুষ?
এলোমেলো চিন্তার ফাঁকেই গন্তব্যে পৌঁছে গেলাম। পাঁচিলের ও-পারে আমার স্কুলটা চাঁদের আলোয় ভিজছে। দূরে কোথাও রাতচরা পাখি ডেকে উঠল। তার পর আবার সব চুপচাপ। পাঁচিল টপকে ঢুকে পড়লাম স্কুলের কম্পাউন্ডে। এখনও খিদেটা চাগাড় দেয়নি। কিছুক্ষণ বসা যাক।
পশ্চিমদিকের পাঁচিলের ধারে চাঁপাগাছটা আজও টিকে আছে। ছাত্রজীবনের স্মৃতিগুলো সব বাঁধভাঙা নদীর মতো উপচে আসছিল মাথার ভেতরে। গাছতলায় বসেই মনে হল, আজ খিদেটা না পেলেই বোধ হয় ভালো হত।
প্রথমবার মায়ের হাত ধরে এই স্কুলেরই প্রাইমারি সেকশনে ভরতি হতে এসেছিলাম। তার পর বারো বছর কাটিয়েছি এখানে। ওই তো পূর্বদিকের বিল্ডিং, দোতলার করিডরে প্রাঞ্জলের সঙ্গে মারামারি করেছিলাম খুব। আমার কপাল ফেটে রক্ত বেরোচ্ছিল। রক্ত দেখেই সব শত্রুতা ভুলে গিয়েছিল প্রাঞ্জল। নিজের রুমাল চেপে ধরেছিল আমার কপালে। স্পষ্ট মনে আছে, চোখ ভিজে যাচ্ছিল ওর। তার পর সেই কাঠবিড়ালির ঘটনাটা… কাঠবিড়ালির একটা বাচ্চা নিস্তেজ হয়ে পড়ে ছিল এই চাঁপাগাছেরই নীচে। আমি বাচ্চাটাকে নিয়ে সোজা চলে গিয়েছিলাম হেড-স্যারের ঘরে। হেড-স্যারকে ভয় পেতাম, এড়িয়ে চলতাম সচরাচর, কিন্তু সেদিন সব ভয় উধাও হয়ে গিয়েছিল। গ্রুপ-ডি কর্মী অরূপদার হাতে কাঠবিড়ালির বাচ্চাটাকে তুলে দিয়েছিলেন হেড-স্যার আর আমাকে বলেছিলেন, “থ্যাংক ইউ। তুমি খুব ভালো কাজ করেছ।”
রাত কেটে যাবে, তবু ঘটনা শেষ হবে না। পেটের মধ্যে চিনচিন শুরু হয়েছে। আমার চোখের কোণ দিয়ে একফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল। যে বাড়িটার সঙ্গে আমার এত ভালো ভালো মুহূর্ত, আবেগ জড়িয়ে আছে, কী করে সেটাকে ধ্বংস করব? প্রাণপণে চেষ্টা করতে লাগলাম পেটের ব্যথা ভুলে পুরোনো দিনের কথায় ডুবে যেতে।
স্কুলের পশ্চিমদিকেই খেলার মাঠ। জানুয়ারি মাসে বিভিন্ন ক্লাসের মধ্যে ক্রিকেট লিগ হত। আমি ভালো খেলতে পারতাম না। এই গাছের তলায় বসে খেলা দেখতাম আর পাঁচিল টপকে বাইরে বল চলে গেলে… আরে হ্যাঁ, তাই তো! হঠাৎ যেন শরীরে বিদ্যুতের ঝটকা অনুভব করলাম! বেড়ে গেল হৃদস্পন্দনের বেগ। রাক্ষস সম্পর্কিত ঘটনাটা তো এখানেই ঘটেছিল। পাঁচিলের ও-পারে, রাস্তার মাঝখানে। আমি শিরদাঁড়া সোজা করে বসলাম।
ক্লাস ফাইভ চলছে তখন। ক্রিকেট লিগের কোনও একটা ম্যাচ দেখছিলাম। খেলা হচ্ছিল লাল রঙের টেনিস বলে। ব্যাটসম্যান খুব লম্বা ছক্কা মেরেছিল। আমি ছিলাম পাঁচিল টপকানোয় ওস্তাদ। রাস্তায় লাফিয়ে পড়ে বলটাকে খোঁজার চেষ্টা করছিলাম। আমার সঙ্গে ছিল আরও দু-একজন। এদিক-ওদিক ছড়িয়ে পড়েছিলাম আমরা। মোটা একটা গাছের তলায় ঝোপমতো। তার ভেতর থেকে লাল রঙের কিছু একটা উঁকি দিচ্ছিল। আমি হাত ঢুকিয়ে জিনিসটা বের করে এনে দেখি বল নয়, অবিকল বলের মতো দেখতে একটা পাথর। ভীষণ ভারী। আমার হাত টনটন করছিল। সঙ্গে-সঙ্গেই ঝোপের মধ্যে ফেলে দিয়েছিলাম পাথরটা। ততক্ষণে অন্য ছেলেরা আসল বলটা খুঁজে পেয়েছে।
সেই রাতেই একটা বিদঘুটে স্বপ্ন দেখলাম। ফোকলা দাঁতের লোলচর্ম থুত্থুড়ে এক বৃদ্ধ আশ্চর্য মিহি স্বরে আমার দিকে ডানহাতের তর্জনী নির্দেশ করে বলছেন, ‘আমি জানি, কাজটা সম্পূৰ্ণ অনিচ্ছাকৃত। তোমার কোনও দোষ নেই। কিন্তু, ন্যুক্তি স্পর্শ করে নিজের সর্বনাশ ডেকে এনেছ তুমি। ওই পাথরের প্রভাব সকলে সইতে পারে না। মানুষ তখন আর মানুষ থাকে না। রাক্ষস হয়ে যায়। আর একবার রাক্ষস বনে গেলে, মনুষ্য জীবন ফিরে পাওয়া খুব কঠিন। জানি না, সময় তোমার জন্য কী লিখে রেখেছে! ভবিষ্যতে গমন করা যায় না। আমি অসহায়। তোমার জন্য কিছুই করতে পারছি না এখন। তবে ন্যুক্তিটা সংগ্রহ করে নিয়েছি সন্ধেবেলা। আর কারও ক্ষতি হবে না।’
ছোটোবেলার স্বপ্ন। এখন হুবহু মনে পড়ে যাচ্ছে। সত্যিই কি ওই লাল পাথর আর স্বপ্নের সঙ্গে আমার বর্তমান অবস্থার যোগ আছে? তা হলে তো স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাওয়ার কোনও আশা নেই! রাক্ষস হয়েই বাঁচতে হবে আমাকে?
পেটের ভেতরে অমানুষিক যন্ত্রণা শুরু হয়েছে। পেশি, স্নায়ুতন্ত্র শুরু করেছে শিথিল হতে। হৃদপিণ্ডটা বোধ হয় বুক ফাটিয়ে বেরিয়ে আসবে। চোখ খুলে রাখা যাচ্ছে না কিছুতেই। এই কষ্ট দানবিক, অসহ্য। ঝাপসা চোখে স্কুলবাড়ির দিকে শেষবারের মতো তাকালাম আমি। নাহ্, অতীতের ছবিগুলো মুছে যাচ্ছে এক এক করে। আমি এই মুহূর্তে শুধুই এক ক্ষুধার্ত রাক্ষস। সামনে অপেক্ষা করে আছে আমার শিকার। ডানহাতের পাঞ্জা প্রসারিত করলাম আমি।
“দাঁড়াও!”
মিহি গলায় কেউ যেন আদেশ দিল পেছন থেকে। কার এত সাহস? প্রবল খিদের মুহূর্তে এই বাধা আমি সহ্য করব না। ইচ্ছে হল, এক্ষুনি পেছনের দিকে দৌড়ে গিয়ে লোকটার মাথা ভেঙে দিই, অথবা ওকে উপেক্ষা করে স্কুলবাড়ি খেয়ে দেখিয়ে দিই, আমি কত বড়ো রাক্ষস!
শেষ পর্যন্ত কৌতূহল নিয়ে ঘাড় ঘোরালাম আমি। চাঁপাতলায় আবছা অন্ধকারের মধ্যে বলিরেখায় ছাপানো, মোমবাতির আলোর মতো হলদেটে একটা মুখ ফুটে রয়েছে। মুখটা আমার চেনা। আমি ক্লাস ফাইভে স্বপ্নে দেখেছিলাম এঁকে। অতি ক্ষীণ হলেও আশার একটা অনুজ্জ্বল রেখা যেন দেখা যাচ্ছে। একমাত্র ইনিই আমার দুর্দশার কারণ জানেন। যদি কেউ কিছু পারে, ইনিই। আমার চেতনা ক্ষীণ হয়ে আসছে। সম্পূৰ্ণভাবে রাক্ষসে পরিণত হওয়ার ঠিক আগের মুহূর্ত এটা। এর পর খাবার ছাড়া অন্য কিছু চিনব না আমি। ডুবন্ত অবস্থায় শেষ কুটোটা আকঁড়ে ধরবার মতো সর্বশক্তি প্রয়োগ করে চিৎকার করে উঠলাম, “আমাকে রাক্ষস থেকে আবার মানুষ করে দিন! অথবা মেরে ফেলুন। এভাবে বেঁচে থাকার অর্থ কী?”
বৃদ্ধ মৃদু হেসে বললেন, “না, রাক্ষস থেকে সরাসরি মানুষ হওয়ার কোনও উপায় নেই। শোনো, মহাবিশ্ব সৃষ্টির সময় শুধুই আগুন ছিল। আগুন ঠান্ডা হয়ে যখন নক্ষত্র, গ্রহ, উপগ্রহ তৈরি হল, তখনই এই রক্তিম পাথর ন্যুক্তিগুলোর সৃষ্টি। বিনা কারণে মহাবিশ্বে কিছু ঘটে না। পৃথিবী ও ওই ধরনের গ্রহগুলোকে যখন ধ্বংস করবার প্রয়োজন হবে, তখন ন্যুক্তির সাহায্যে তোমার মতো রাক্ষসের সেনা প্রস্তুত করব আমরা। তোমরা খেয়ে সবকিছু শেষ করে দেবে। কিন্তু এখনও সেই সময় আসেনি। তাই তোমার রাক্ষস দশায় বেঁচে থাকা মহাবিশ্বের ভারসাম্যের জন্য ক্ষতিকর।”
“আমাকে নিয়ে কী করবেন তা হলে?” কাতরভাবে জিজ্ঞেস করলাম আমি।
“আপাতত বিকল্প এক পন্থায় বাঁচানোর চেষ্টা করব। তুমি অজান্তে ন্যুক্তি ছুঁয়েছিলে। তা ছাড়া, আমারও ত্রুটি ছিল। মহাবিশ্বের সর্বত্র ছড়ানো আছে এই পাথর। পৃথিবীর মতো প্রাণের সম্ভার আছে যেসব গ্রহ-উপগ্রহে, সেইসব জায়গা ঘুরে ঘুরে ন্যুক্তি জোগাড় করাই আমার কাজ। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে পাথরগুলো আবার ছড়িয়ে দেব ব্রহ্মাণ্ড জুড়ে। পৃথিবী থেকে একটাই ন্যুক্তি সংগ্রহ করতে বাকি ছিল। আর কাকতালীয়ভাবে সেটাই তোমার চোখে পড়ল। তাই একটা সুযোগ তোমার প্রাপ্য। এই প্রথমবার তোমাদের মহাবিশ্বের নতুন একটা প্রতিলিপি আমি তৈরি করতে চলেছি। তবে শূন্য নয়, আমার ইচ্ছেমতো নির্দিষ্ট একটা সময় থেকে এই নতুন সমান্তরাল মহাবিশ্বের জীবনকাল শুরু হবে। তোমাকে সেই নির্ধারিত সময়ে নতুন ব্রহ্মাণ্ডে পাঠিয়ে দেব আমি। তোমার এখনকার স্মৃতি সম্পূৰ্ণ মুছে যাবে। তুমি এতদিন যে-মহাবিশ্বের বাসিন্দা ছিলে, সেখানে রেখে তোমাকে অন্য সময়ে ফেরত পাঠানো সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে তোমার সঙ্গে সমগ্র ব্রহ্মাণ্ডকেও চলে যেতে হবে ওই সময়ে। এটাই প্রকৃতির নিয়ম। ১৩৭০ কোটি বছর ধরে তিলে তিলে গড়ে উঠেছে এই মহাবিশ্ব। শুধু তোমার জন্য এর প্রতি অবিচার করা উচিত নয়। নাও, প্রস্তুত হও, নতুন জীবন অপেক্ষা করছে তোমার জন্য।”
কীভাবে প্রস্তুত হব জিজ্ঞেস করার আগেই দেখলাম, বৃদ্ধের পাশে বাতাসের মধ্যেই হলুদ রঙের একটা সুড়ঙ্গ তৈরি হচ্ছে। আমার পা দুটো আর মাটিতে নেই। চুম্বক যেমন লোহাকে আকর্ষণ করে, সুড়ঙ্গটা ঠিক সেভাবে টানছে আমাকে।
***
স্কুলের ক্রিকেট লিগ চলছে। আমি বল কুড়োতে পাঁচিল টপকে রাস্তায় নামলাম। লাল রঙের টেনিস বল। আমার সামনেই একটা মোটা গাছ। গাছের গোড়ায় আগাছার ঝোপ। ঝোপের মধ্য থেকে লাল রঙের বলটা উঁকি দিচ্ছিল। আমি দৌড়ে ঝোপের কাছে পৌঁছে ঝুঁকতে যাব, পিছন থেকে কে যেন জামা টেনে ধরল আমার। ফিরে দেখি, থুত্থুড়ে, ভীষণ রোগা এক বৃদ্ধ। গায়ে হলুদ আলখাল্লা জাতীয় পোশাক। বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন। বৃদ্ধ আমাকে সরিয়ে নিজে ঝোপের মধ্যে হাত ঢোকালেন। দেখলাম, বল নয়, লাল রঙের একটা গোল পাথরের টুকরো। বৃদ্ধ সেই পাথরটাকে কাঁধের ঝুলিতে পুরে বললেন, “কী হে? চিনতে পেরেছ?”
আমি বললাম, “না তো! কে আপনি?”
উত্তর না দিয়ে মৃদু হাসলেন বৃদ্ধ। গালের ওপর বলিরেখার দাগগুলো কুঁচকে গেল। তার পর ধীর পায়ে তিনি মিলিয়ে গেলেন রাস্তার বাঁকে।
লেখকের অন্যান্য লেখা
শুভাঞ্জন ব্যানার্জী ▪ প্রবাহনীল দাস
লিও তলস্তয় ▪ নলিনাক্ষ ভট্টাচার্য
তাপস মৌলিক ▪ অংশু পাণিগ্রাহী ▪ বাণীব্রত গোস্বামী ▪অরিন্দম ঘোষ ▪ রঞ্জন দাশগুপ্ত ▪ সিদ্ধার্থ দাশগুপ্ত ▪শাশ্বত কর ▪ রাজীব রায় গোস্বামী ▪ সায়নদীপা পলমল ▪ প্রদীপ কুমার দাস
বদ্রীনাথ পাল ▪ তাপস বাগ ▪ বসন্ত পরামানিক ▪ গোবিন্দ মোদক ▪ সুব্রত দাস ▪ অর্ণব ভট্টাচার্য ▪ সুজাতা চ্যাটার্জী ▪ মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় দাস ▪ মধুমিতা ভট্টাচার্য ▪ ড. রমলা মুখার্জী ▪ সনৎকুমার ব্যানার্জী ▪ বিদ্যুৎ মিশ্র ▪ রাজর্ষি মণ্ডল ▪ রূপালী মুখোপাধ্যায় ▪ শক্তিপদ পণ্ডিত ▪ শম্ভু সরকার ▪ সুব্রত চৌধুরী
অদিতি ভট্টাচার্য ▪ দীপঙ্কর চৌধুরী ▪ মৌসুমী রায় ▪ সবিতা রায় বিশ্বাস ▪ সহেলী রায় ▪ কিশোর ঘোষাল
অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় ▪ অরিন্দম দেবনাথ ▪ কমলবিকাশ বন্দ্যোপাধ্যায় ▪ দীপক দাস ▪ ড. উৎপল অধিকারী ▪ চন্দ্রানী মজুমদার
সায়ন্তনী পলমল ঘোষ ▪ সোমা দে ▪ শংকর লাল সরকার ▪ সন্দীপন সাহা
অলংকরণ
মায়াসখা নন্দী ▪ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ▪ একপর্ণিকা ক্রিয়েটিভস
আমরা ভারতবাসী কাব্য-মহাকাব্য লিখেছি। লিখেছি পুরাণের নামে কিছু অলীক গল্পকথা। কিন্তু ইতিহাস লিখতে শিখিনি। তার প্রয়োজনীয়তাও বোধ করিনি। তাই ঐশ্বর্যময় গরিমা সত্ত্বেও আমরা আমাদের উত্তরসূরিদের জন্য কিছুই রেখে যাইনি।
গিরিব্রজসিংহ এমনই এক অকথিত ঐতিহাসিক উপাখ্যান।
বহু কলমের গল্পে, প্রবন্ধে, সত্যি ঘটনায়, তথ্যে, গ্রাফিক নভেলে প্রাইমেটদের হাজারো কাণ্ড।
শিবশঙ্কর ভট্টাচার্য ▪️ অংশু পাণিগ্রাহী ▪️ রম্যাণী গোস্বামী ▪️ অরিন্দম দেবনাথ ▪️ সুব্রত দাস ▪️ বাণীব্রত গোস্বামী ▪️ এণাক্ষী কয়াল মণ্ডল ▪️ কিশোর ঘোষাল ▪️ মঞ্জুশ্রী ভাদুড়ি ▪️ সায়ন্তনী পলমল ঘোষ ▪️ সংঘমিত্রা রায়
হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ▪️ অমিত চট্টোপাধ্যায় ▪️ অর্ণব ভট্টাচার্য ▪️ বদ্রীনাথ পাল ▪️ স্বপনকুমার বিজলী ▪️ বসন্ত পরামাণিক ▪️ মলয় সরকার ▪️ মানস চক্রবর্তী ▪️ মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় দাস ▪️ নীলেশ নন্দী ▪️ পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায় ▪️ রানা জামান ▪️ রূপসা ব্যানার্জী ▪️ সজল বন্দ্যোপাধ্যায় ▪️ শক্তিপদ পণ্ডিত ▪️ সৌমেন দাস ▪️ সুজাতা চ্যাটার্জী ▪️ সুমিত্রা পাল ▪️ তাপস বাগ ▪️ আলমগীর কবির ▪️ রমিত চট্টোপাধ্যায়
বুমা ব্যানার্জী দাস ▪️ মেঘনা নাথ ▪️ শাশ্বত কর ▪️ সুমন সেন ▪️ রণিত ভৌমিক
অরিন্দম ঘোষ ▪️ অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় ▪️ রাখি পুরকায়স্থ
কেয়া চ্যাটার্জী ▪️ দীপক দাস ▪️ ড. উৎপল অধিকারী ▪️ সুদীপ ঘোষাল
প্রচ্ছদ ও অলংকরণ
বিশ্বদীপ পাল ▪️ অঙ্কিতা নন্দী ▪️ সুজাতা চ্যাটার্জী ▪️ বুমা ব্যানার্জী দাস ▪️ পুণ্ডরীক গুপ্ত ▪️ স্রবন্তী চট্টোপাধ্যায় ▪️ প্রবাহনীল দাস ▪️ সায়ন্তনী পলমল ঘোষ ▪️ সুমন দাস ▪️ সপ্তর্ষি চ্যাটার্জী