রম্যরচনা
FREE SHIPPING IN INDIA
রম্যরচনা
ব্যাসদেব মেগাস্থিনিসকে জম্বুদ্বীপ দেখাতে নিয়ে চললেন বঙ্গে। ব্যাসদেব গাইড। অঙ্গ, কলিঙ্গ হয়ে বঙ্গে আসতে হয়। তখনকার নদীর নাম এখনকার লোকে শোনেইনি। রাজ্যগুলোরও অন্য রকমসকম। সবে ভগীরথ ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে গঙ্গার খাল কাটিয়েছেন। ঠেকলেন সেই গঙ্গার ধারে এসে।
শিবশঙ্কর ভট্টাচার্য
জানো বোধ হয়, পেরেককে অষ্টপ্রহর সংস্কৃত শোনালে সে স্ক্রু হয়ে যায়! তাই পণ্ডিত মশাইদের ঘরের চালায় পেরেকের জায়গায় সবসময় স্ক্রু দেখতে পাওয়া যায়। তাঁদের ঘরের বউ-ঝিদের চুল কোঁকড়া; তাঁদের পোষা বেড়াল-কুকুরগুলোও কথা বলে বিসর্গ আর চন্দ্রবিন্দু মিশিয়ে একটু নাকিসুরে। শোবার সময় একজায়গায় দু-চার পাক ঘুরে তবে বিছানা নেয়। তাদের কথা সময়মতো পরে বলব, এখন কথা হচ্ছে স্ক্রু নিয়ে। যাকে লোকে শুদ্ধ উচ্চারণে বলে ইসকুরুপ, এক কাঠামোর অতগুল অক্ষর না জুড়ে। নামে আর বানানেই বোঝা যায় তার রূপ কেমন। তাকালেই মাথা ঘুরতে থাকে। কারণ, কাজ করবার সময় ইসকুরুপের গোল মাথার খাঁজে যন্তর লাগিয়ে না ঘোরালে সে ঢুকতেই চাইবে না। আর তাই দেখে মাথা তো ঘুরবেই।
কথা হল, ইসকুরুপ তো এমনি এমনি জন্মায়নি। তার ইতিহাস আছে, বিজ্ঞানও আছে।
মেগাস্থিনিসের ইতিহাসে (ভাগ্যিস, তাঁর নিজের হাতে লেখা ডায়েরি নেই, সব কানে শুনে তাঁর ছাত্রদের লেখা। কাজেই প্রমাণের দায় তাঁর বা আমার নয়, দায় ছাত্রদের।) নাকি লেখা আছে, তখনকার জম্বুদ্বীপের উত্তর-পূর্ব আর মধ্যদেশে লোকেরা পাকিয়ে পাকিয়ে অর্থাৎ, পাক খেতে খেতে এক পায়ে হাঁটত। অনেকটা লাট্টুর মতো। কারণ বলা হচ্ছে, তখন আর্য মুনি-ঋষিরা বেদ, উপনিষদ লিখছিলেন। অবশ্য লিখছিলেন না বলে বলা উচিত সৃষ্টি করছিলেন। তারপর ভালোমানুষ গোছের ছাত্রদের ধরে সেগুলো বার বার বলিয়ে মুখস্ত করাচ্ছিলেন। তখন গুরুমুখী শ্রুতি বিদ্যা, কালি-কলমের পাট ছিল না। ওই ভয়ংকর সংস্কৃত শুনে ওদের সবার চলন হয়ে গেল ওইরকম। আমি না, মেগাস্থিনিসের মহা পণ্ডিত ছাত্ররা বলেছিলেন।
বড়োদের এসব কথা যেন বলতে যেও না। তাঁরা যেন কেমন কেমন। কিছুই বিশ্বাস হয় না তাঁদের। ভুরু কুঁচকেই থাকে সর্বক্ষণ। স্বয়ং মেগাস্থিনিসকেই বিশ্বাস করতে চান না। গুলবাজ বা গাঁজাখোর বলে থাকেন। বেশিরভাগের তাঁর নামই জানা নেই। বোলো না যেন! এ-কথাগুলো তোমার আমার মধ্যেই থাক। কানে গিয়ে পৌঁছলে তোমার কান পেঁচিয়ে স্ক্রু করে দিতে পারে।
স্ক্রু কী করে এল বনে গেছেন মেগাস্থিনিস। এবার সেটা বলি।
ব্যাসদেব মেগাস্থিনিসকে জম্বুদ্বীপ দেখাতে নিয়ে চললেন বঙ্গে। ব্যাসদেব গাইড। অঙ্গ, কলিঙ্গ হয়ে বঙ্গে আসতে হয়। তখনকার নদীর নাম এখনকার লোকে শোনেইনি। রাজ্যগুলোরও অন্য রকমসকম। সবে ভগীরথ ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে গঙ্গার খাল কাটিয়েছেন। ঠেকলেন সেই গঙ্গার ধারে এসে। তালগাছের শালতিতে চড়ে নদী পার হতে হয়। মেলা শালতি বাঁধা আছে পাড়ে। অনার্য মাঝি বলল, উঠে বসো শালতিতে। গঙ্গার ঢেউ আর শালতির দোলন দেখে মেগাস্থিনিস ভয়ে পিছিয়ে এলেন। কিছুতেই রাজি নন উঠতে। মহা বিপদ! তবে কি বঙ্গ না দেখেই ফিরে যাবেন মেগাস্থিনিস?
তখন কৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস মশাই নাকে নস্যি ঠুসে বসে ভাবতে লাগলেন কী করা যায়। কিম্ করিষ্যামি? ভেবে-টেবে ব্যাস বললেন, “বড়ো বড়ো লোহার কিলক নিয়ে এসো। আর চাই হাতুড়ি।”
এল সেসব। এবার খান চারেক শালতি কিলক ঠুকে জুড়ে তৈরি হল নৌকা। কিলক মানে পেরেক, জানো তো?
নৌকো মাঝ-গঙ্গায় গিয়ে হল বিপদ। নতুন গঙ্গার স্রোতের ধাক্কায়, শালতির গায়ে ভেজা শ্যাওলায় কিলক পিছলে বেরিয়ে আসতে চায়। ঢিলে হতে হতে এই হয় কি তাই হয়।
কী করা যায়?
আবার নস্যি ঠোসা, আবার ধ্যান। ভাবতে বসলেন ব্যাসদেব। প্রাণের ভয়ে মেগাস্থিনিসের কোঁকড়ানো চুল-দাড়ি সোজা হয়ে শজারুর কাঁটার মতো দাঁড়িয়ে গেল। এই সময় ব্যাস মশাই সংস্কৃত শ্লোক আওড়াতে লাগলেন। সেই শুনে সব কিলক স্ক্রু হয়ে কুরুত কুরুত করে আবার সেঁটে গেল। মেগাস্থিনিসেরও বঙ্গ দেখা হল। ব্যাসদেবের সঙ্গে কোলাকুলি করে তিনি দেশে ফিরলেন। এইভাবে জন্ম নিল ইসকুরুপ।
শুভাঞ্জন ব্যানার্জী ▪ প্রবাহনীল দাস
লিও তলস্তয় ▪ নলিনাক্ষ ভট্টাচার্য
তাপস মৌলিক ▪ অংশু পাণিগ্রাহী ▪ বাণীব্রত গোস্বামী ▪অরিন্দম ঘোষ ▪ রঞ্জন দাশগুপ্ত ▪ সিদ্ধার্থ দাশগুপ্ত ▪শাশ্বত কর ▪ রাজীব রায় গোস্বামী ▪ সায়নদীপা পলমল ▪ প্রদীপ কুমার দাস
বদ্রীনাথ পাল ▪ তাপস বাগ ▪ বসন্ত পরামানিক ▪ গোবিন্দ মোদক ▪ সুব্রত দাস ▪ অর্ণব ভট্টাচার্য ▪ সুজাতা চ্যাটার্জী ▪ মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় দাস ▪ মধুমিতা ভট্টাচার্য ▪ ড. রমলা মুখার্জী ▪ সনৎকুমার ব্যানার্জী ▪ বিদ্যুৎ মিশ্র ▪ রাজর্ষি মণ্ডল ▪ রূপালী মুখোপাধ্যায় ▪ শক্তিপদ পণ্ডিত ▪ শম্ভু সরকার ▪ সুব্রত চৌধুরী
অদিতি ভট্টাচার্য ▪ দীপঙ্কর চৌধুরী ▪ মৌসুমী রায় ▪ সবিতা রায় বিশ্বাস ▪ সহেলী রায় ▪ কিশোর ঘোষাল
অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় ▪ অরিন্দম দেবনাথ ▪ কমলবিকাশ বন্দ্যোপাধ্যায় ▪ দীপক দাস ▪ ড. উৎপল অধিকারী ▪ চন্দ্রানী মজুমদার
সায়ন্তনী পলমল ঘোষ ▪ সোমা দে ▪ শংকর লাল সরকার ▪ সন্দীপন সাহা
অলংকরণ
মায়াসখা নন্দী ▪ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ▪ একপর্ণিকা ক্রিয়েটিভস
শিবশঙ্কর ভট্টাচার্যের অসামান্য লেখায় ও আঁকায় কিশোর গল্প সংকলন।
গুণময় রায় বিজ্ঞানী মানুষ। নিজের পরিচয় দেন ‘ইনভেনটর’ বলে। বিজ্ঞানের সঙ্গে সঙ্গে ইঞ্জিনিয়ারিংয়েও তুখোড়। আবার ভারতীয় পুরাণ, ইতিহাস এবং পুরাতাত্ত্বিক বিষয়েও তাঁর গভীর জ্ঞান। কখনও নিজের মনোজগত, কখনো-বা প্রজন্মবাহিত স্মৃতির সরণিতে অক্লেশে ঘুরে বেড়ান ‘গুণময় দ্য গ্রেট’, আর পাঠকেরাও সুযশ মিশ্রের জবানিতে স্বাদ পায় সেই অতুলনীয় অ্যাডভেঞ্চারগুলির।