বড়ো গল্প
FREE SHIPPING IN INDIA
বড়ো গল্প
দক্ষিণের ঘরটিতে একটিই জানালা ছিল। তরুণিম এতক্ষণ খেয়াল করেনি, সেখান থেকে পুরোনো জানালার পাল্লা, ফ্রেম সব খুলে ফেলা হয়েছে নতুনটি লাগানো হবে বলে। নতুনটি ভারি পাথরের তৈরি। তিনজন মিলে তোলা হল। অদ্ভুতভাবে খাপে খাপে মিলেও গেল। মিস্ত্রি এসে শুধুমাত্র শক্তপোক্তভাবে বসার ব্যবস্থা করে দিয়ে গেল। গোটা ঘরটাই যেন রূপকথার রাজমহল হয়ে গেল।
সহেলী রায়
মাঘী পূর্ণিমার রাত। রূপোলি আলোয় চিকচিক করছে বালুতট। যেদিকে তাকাও শুধু বালি আর বালি। সামনে একটি নদী বইছে আপন ছন্দে। কোথাও কোথাও ছন্দপতন ঘটলেও সামলে নিচ্ছে নিজেকে। তরুণিম খালি পায়ে, পায়ের আঙুলগুলো দিয়ে আঁকড়ে বালির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। যেন ওভাবে না দাঁড়ালে অতলে তলিয়ে যেতে পারে। কিন্তু এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে তো সে আসেনি। হাঁটু গেঁড়ে বসে পড়ল তরুণিম। দু-হাত দিয়ে সরাতে লাগল বালির সমুদ্র। প্রথমে ধীরে ধীরে, তারপর হাতের গতি বাড়তে লাগল। দানবিক কোন শক্তি যেন ভর করেছে তাকে। দূর থেকে কার যেন গলা শোনা যাচ্ছে, ‘তরু দুধটা খেয়ে নে, চকোলেট পাউডার দিয়েছি, এক্সট্রা এনার্জি!’ মায়ের গলা না? কিন্তু মাথা তুলে তাকানোর সময় নেই। এক্সট্রা এনার্জির প্রতিটা কণা তরুণিমের আঙুলের ডগায় খেলা করছে। বালি সরে গোপন সুড়ঙ্গের মতো গভীর রাস্তা তৈরি হচ্ছে। তরুণিমের বাড়ানো হাত যতদূর পৌঁছয়, ততদূর ঢুকে ভেজা বালি তুলে আনছে। ‘আহ্!’ যন্ত্রণায় তরুণিমের মুখ থেকে বেরিয়ে এল শব্দটুকু। হাতে কিছু একটা আঘাত করছে। মাথা ঢুকিয়ে দেখার চেষ্টা করল সে।
‘এটা তো, এটা তো একটা ত্রিশূল! পেয়েছি, পেয়েছি খুঁজে।’
তরুণিম দু-হাতে ত্রিশূল ধরে অনেকক্ষণ টানাটানি করল। হঠাৎ কেউ যেন উপুড় করে টেনে নিল তাকে। হুড়মুড় করে বালির গর্ত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তরুণিম মন্দিরের ত্রিকোণ ছাদে গিরগিটির মতো শুয়ে আছে একহাতে ত্রিশূল ধরে, অন্য হাতে বালি সরানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। পারছে না। রাশি রাশি বালি এসে বুজিয়ে দিচ্ছে পথ। ওর পিঠে, চোখে, মুখে বালির স্তূপ। দম আটকে আসছে। গোঙাচ্ছে সে। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছে। চোখ খুলতে পারছে না। কানের কাছে কেউ যেন মৃত্যুর ডাক দিয়ে যাচ্ছে।
‘তরু, অ্যাই! ওঠ! তরুউউ!’
তরুণিম বিশ্বাস। ক্লাস নাইনে ওঠার পর থেকে সব বিশ্বাসই হারিয়ে ফেলেছে সে। গরমের ছুটি পড়বে সামনে। স্কুল জানিয়েছে, নাইন থেকে টুয়েলভের ছাত্ররা নির্ধারিত দিনের এক সপ্তাহ পর থেকে ছুটি পাবে। তাদের বোর্ড পরীক্ষার জন্য অনুশীলন করানো হবে। তরুণিম ইংলিশ, অঙ্ক আর বিজ্ঞান— এই তিনটি বিষয় তিনজন গৃহশিক্ষকের কাছে পড়তে শুরু করেছে সদ্য। বাবা হুকুম জারি করেছেন, ছুটি থাকলেও টিউশন চলবে। ক্লাস নাইন! ক্লাস নাইনে ওঠা এত বিপজ্জনক জানলে তরুণিম… না থাক, সে কথা নয়।
যে কথাটি তরুণিম ব্যক্ত করতে পারছে না, সেটি হল ছোটুমামা। ছুটি মানেই ছোটুমামার সঙ্গী হবে সে। এমনটাই জেনে এসেছে তরুণিম। ক্লাস নাইন বলে এর অন্যথা হবে? অবিশ্বাস্য।
ছোটুমামার ছায়াসঙ্গী হবার বিস্তর কারণ আছে। আসছি সে-সবে এক এক করে। আপাতত তরুণিম উপায় খুঁজে বেড়াচ্ছে।
“দুটো বছর, বাবু। পরীক্ষা হয়ে গেলেই ফ্রি তুই। ছোটুমামা তো পালিয়ে যাচ্ছে না! এখন একটু পড়, বাবা।”
মায়ের কথায় তরুণিম আরও হতাশ। দু-বছর! অসম্ভব। দিন কুড়ি ছুটি। এর মধ্যে একবারও ছোটুমামার কাছে যাওয়া হবে না?
“জাস্ট দুটো দিনই তো চাইছি, মা! ছোটুমামা নতুন কী কী কালেকশন করেছে, দেখেই চলে আসব।”
বাবাকে বলার সাহস নেই ছেলের। একমাত্র ভরসা মা। সারাদিন একটানা ডেকে যাওয়া পাখির মতো নানা সুরে তরুণিম নিজের আর্জি গাইতে থাকল।
ছোটুমামা, তরুণিমের নিজের মামা নয়। মায়ের খুড়তুতো ভাই। কাকাদাদু, অর্থাৎ ছোটুমামার বাবা ব্যারাকপুরে নীলগঞ্জের দিকে একটি বাগানবাড়ি কিনেছিলেন। অবসরে আরাম করবেন, এমনই চিন্তাভাবনা ছিল। ছোটুমামা গ্র্যাজুয়েশনের পরই বিদেশে পাড়ি দেয়। ছবি আঁকা, ভাস্কর্য ছোটুমামার বিষয় ছিল। আর্ট এবং স্কাল্পচার নিয়ে উচ্চশিক্ষার জন্যই ছোটুমামার বিদেশে যাওয়া। বাড়ির সকলের ধারণা ছিল ছোটুমামা মিসিসিপিতেই পাকাপাকিভাবে থেকে যাবে। কিন্তু না। কাকাদাদু বেঁচে থাকতেই সবাইকে তাক লাগিয়ে ছোটুমামা একদিন ফিরে এল। ফিরেই নীলগঞ্জের বাগানবাড়িতে সেঁদিয়ে গেল।
২
‘কিন্তু রতনের মনে কোনও তত্ত্বের উদয় হইল না।’
কেন হল না, বিমল-স্যর ক্লাসে খুব সুন্দর করে বুঝিয়েছেন। ‘পোস্টমাস্টার’ পড়াচ্ছেন স্যর। ছুটির সকালে তরুণিম নিজের ঘরে বসে এই প্রশ্নের উত্তরটা নিজের মতো করে লেখার চেষ্টা করছে। এরপরেই অঙ্ক কষতে হবে। বিকেলে টেস্ট নেবেন স্যর।
“বাবু, খেতে আয়। বাবা ডাকছেন।”
জলখাবারের ডাক পড়েছে তরুণিমের। কিন্তু বাবা কেন ডাকছেন?
“শুধুমাত্র দু-দিনই। শনিবার যাবে, সোমবার ফিরে আসবে। এরপর আর কোনও রিকোয়েস্ট যেন না আসে।”
লুচির টুকরোতে সাদা আলুর তরকারি ভরে সবেমাত্র মুখে চালান করেছিল তরুণিম। খাবারটা তুখোড় হলেও মনটা ম্যাজম্যাজে হয়ে ছিল তরুণিমের। বাবার ঘোষণায় হঠাৎ যেন মন আর মুখের স্বাদ মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল।
ছোটুমামার অদ্ভুত সব নেশা। তরুণিমের মূল আকর্ষণ এই জায়গাতেই। ছোটুমামা যখন দেশে ফিরে এল, তরুণিম তখন ক্লাস টু। নীলগঞ্জের বাগানবাড়িতে ছোটুমামার আগমনে সব আত্মীয়স্বজন মিলে হইচই হল একদিন। কী অপূর্ব সেই বাড়ি! জলাধার, সবজি ক্ষেত, হাঁস চইচই করছে। দেখাশোনার জন্য একজন কেয়ারটেকার থাকতেন। তরুণিম হাঁসের পেছনে ছুটে ছুটে খুব খেলেছিল সেইদিন। দোলনা, স্লিপ— কী নেই সেই বাড়ির বহির্মহলে!
প্রকাণ্ড দরজাটা খুললেই দেওয়ালজুড়ে একটি ছবি আছে বাড়িটাতে। একজন সাঁওতাল মেয়ে প্রদীপ হাতে দাঁড়িয়ে। এতটাই প্রাণের ছোঁয়া সেই ছবিতে, যে কেউ হঠাৎ ঢুকলে মনে হবে সত্যি কেউ দাঁড়িয়ে আছে এবং প্রদীপের শিখাটি যেন দুলছে, তার আলো ছড়িয়ে পড়েছে দেওয়াল জুড়ে। মেয়েটির চোখ দুটি স্থির হলেও তরুণিমের মনে হত, যেদিক থেকেই দেখা হোক না কেন সে তরুণিমের দিকেই তাকিয়ে আছে। ছবিটি মোটামুটি সকলেরই মনে রোমহর্ষক অনুভূতি সৃষ্টি করে। বলাই বাহুল্য, ছবিটি ছোটুমামার আঁকা।
৩
নদীর জলে পা ডুবিয়ে বসে আছে তরুণিম। চারদিকে সন্ধে থিতিয়ে পড়েছে। টেপ্পাগুলো জলের ওপর টলমল করে দুলছে। আস্তে আস্তে মেঘ সরিয়ে চাঁদ উঠছে। তরুণিম মাথার পেছনে হাত রেখে চিত হয়ে শুয়ে পড়ল বালির ওপর। এ কী! ওরা কারা? শত শত সেনা! ধেয়ে আসছে। খোলা চুলে এক মহিলা তাদের সামনে, পরনে ঘিয়ে রঙের মটকা শাড়ি, লম্বা আঁচল লুটচ্ছে, হাতে মস্ত বড়ো এক পুঁটুলি। প্রকাণ্ড একটি জানালার ওপর থেকে সাদা শাড়ি বেঁধে, শাড়িতে প্রায় ঝুলতে ঝুলতে মহিলা নেমে এল। জানালাটা অস্পষ্ট হলেও তরুণিমের বড্ড চেনা। সেনারা ঝুলে পড়া শাড়ি দেখে একই পথে ধাওয়া করেছে তাকে। মহিলা দৌড়তে দৌড়তে সামনের বড়ো পাহাড়টায় উঠে গেল। তার চোখ দুটো জ্বলছে। সেই আলোতে গোটা গ্রাম জ্বলজ্বল করছে। সেনারা তাদের অস্ত্র তাক করে আছে মহিলার দিকে।
ভয়ানক একটা ক্লান্তি তরুণিমকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। ছোটুমামার সঙ্গে কথা বলা দরকার। কিন্তু ছোটুমামা কোথায়? দরজা খোলা যাবে কি এখন? তরুণিম পর পর ঘটনাগুলো মনে করার চেষ্টা করল।
বাঘাযতীন থেকে ট্রেনে শিয়ালদা এসে ফের ট্রেন ধরে ব্যারাকপুর আসা যায়। মায়ের সঙ্গে তরুণিম বহুবার এসেছে এইভাবে। সেই প্রথমবার, নীলগঞ্জে জমায়েত হওয়ার পর প্রায়শই এমনটা হত ছোটুমামার দৌলতে।
ছোটুমামার নেশার কথাটা এবার বলা যাক। পুরোনো জিনিস সংগ্রহ করা ছোটুমামার নেশা। পুরোনো ট্রাংক, আলমারি, টেবিল, ঘড়ি, বাসনকোসন, বাদ্যযন্ত্র— কী নেই তাতে। সেসব জিনিস ছোটুমামার হাতের কাজে হয়ে ওঠে সম্পূর্ণ নতুন। টেবিল হয়ে যায় ময়ূর, গিটার হয়ে যায় প্রস্ফুটিত পদ্ম। অনেক সময় অবিকল রেখে দেয় ছোটুমামা। অবশ্য তাকে নতুনের মতোই লাগে। প্রতিটি জিনিস বাগানবাড়ির বিভিন্ন ঘরে শোভা বাড়ায়। তরুণিম খুঁটিয়ে দেখেছে, ছোটুমামার ছোঁয়ায় প্রতিটি জিনিসের যেন নিজস্ব একটা গল্প তৈরি হয়ে যায়।
তরুণিম ছুটি পড়লেই ছোটুমামার বাড়ি আসার জন্য রীতিমতো গোল বাধাত। ক্লাস সিক্সের পর ছোটুমামা নিজে এসেই নিয়ে যেত। ভাগনেটির আগ্রহ দেখে মামাও বেজায় খুশি। সেই থেকে তরুণিম হয়ে ওঠে ছোটুমামার প্রধান শাগরেদ। হাতে হাতে সাহায্য করা, প্রতিটি প্রাণহীন বস্তুর জীবনদান স্বচক্ষে দেখা তরুণিমেরও নেশা হয়ে দাঁড়ায়।
দু-দিনের অব্যাহতি পেয়ে তরুণিম নীলগঞ্জে উপস্থিত হয়েছে। এবারে ট্রেনে নয়, কারণ কোনও অভিভাবক তরুণিমকে সঙ্গ দিতে পারেননি। বাড়ির গাড়ি করে ড্রাইভারকাকু পৌঁছে দিয়ে গেছেন। সামান্য অভিমান সখ্য পাতিয়েছিল তরুণিমের সঙ্গে। ছোটুমামা নিতে এল না ভেবে। কিন্তু মায়ের কাছে জেনেছিল, ছোটুমামা কী এক কাজ নিয়ে ভারি ব্যস্ত। সেই থেকে চাপা একটা উত্তেজনা কাজ করছে তরুণিমের ভেতর। নিশ্চয় নতুন কোনও সংগ্রহ।
যা ভেবেছিল ঠিক তাই। কেয়ারটেকার-মামা তরুণিমের খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করেন।
“দাদা কাজ করছেন। এখন ঢোকা বারণ। তোমায় খেয়েদেয়ে বিশ্রাম নিতে বলেছেন।”
মাত্র দু-দিন সময়। তার মধ্যে একবেলা কেটে যাচ্ছে। তরুণিমেরও প্রবেশ নিষেধ? ছটফট করছে তরুণিম।
তিনতলার ঘরে ছোটুমামা একটি ড্রেসিং টেবিল এনেছিল। তরুণিম তিনতলায় উঠে আয়নাটার সামনে দাঁড়াল। ছোটুমামা আয়নার ওপর একটি মেয়ের মুখ এঁকে দিয়েছে। টেবিলের সামনে দাঁড়ালেই মনে হয় মেয়েটি ওখানে দাঁড়িয়ে প্রসাধন করছে। সত্যি হয়তো এমন কারও শখের আয়না ছিল এটি। তরুণিম বড়ো হচ্ছে। জানে, মেয়েরা সাজগোজ করতে ভালোবাসে। রাজবাড়ির মেয়েমহলে শোভা পেত হয়তো ড্রেসিং টেবিলটি। বাড়ির আদরের কন্যা সময় নিয়ে বসে থাকত হয়তো এর সামনে। পরির মতো সাজপোশাক পরে ঘুরে ঘুরে দেখত নিজেকে আর ভাবত…
“তরুবাবু! কী দেখছ হাঁ করে?”
ছোটুমামার ডাকে তরুণিম চমকে ওঠে। একটু লজ্জাও পায়।
“কাজ শেষ তোমার?”
চোখ-মুখ বসে গেছে মামার। সারারাত কাজ করেছে বোধ হয়।
“দুঃখিত তরু, তোকে অপেক্ষা করতে হল। চল, দেখবি আয়।”
তরুণিম লাফিয়ে সিঁড়ি বাইতে লাগল। কৌতূহল মোচনের সময় এসেছে।
“এটা তো জানালা!”
তরুণিমের হাঁ-মুখ বন্ধ হচ্ছে না। একটা প্রকাণ্ড জানালার স্ট্রাকচার এবং তাতে অসম্ভব সুন্দর কারুকার্য। দেখলেই বোঝা যায়, কোনও রাজপ্রাসাদে শোভা পেত। গোটা জানালাজুড়ে পুরুষ, নারী, রথ, ঘোড়া, হাতি, পালকি, যুদ্ধ, প্রাসাদের অন্দরমহল বর্ণনা করা আছে।
“হ্যাঁ জানালা, ঝরোখা। সম্ভবত রানিমহলের।”
ছোটুমামাকে যেন একটু চিন্তিত দেখাচ্ছে।
“কী দারুণ খোদাইকাজ!”
তরুণিমের অবাক চোখ দেখে ছোটুমামা একটু স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করে।
“আমি করিনি। পরিষ্কার করেছি শুধু। এর রূপ বদলানো দুঃসাহসের কাজ। চল, লাগিয়ে ফেলি জানালাটা।”
দক্ষিণের ঘরটিতে একটিই জানালা ছিল। তরুণিম এতক্ষণ খেয়াল করেনি, সেখান থেকে পুরোনো জানালার পাল্লা, ফ্রেম সব খুলে ফেলা হয়েছে নতুনটি লাগানো হবে বলে। নতুনটি ভারি পাথরের তৈরি। তিনজন মিলে তোলা হল। অদ্ভুতভাবে খাপে খাপে মিলেও গেল। মিস্ত্রি এসে শুধুমাত্র শক্তপোক্তভাবে বসার ব্যবস্থা করে দিয়ে গেল। গোটা ঘরটাই যেন রূপকথার রাজমহল হয়ে গেল। তরুণিম খেয়াল করল, ছোটুমামা জানালাটার দিকে তাকাতে তাকাতে যেন কোথাও একটা হারিয়ে যাচ্ছে। অন্যসময় কোনও একটা কাজ সম্পন্ন করে ছোটুমামার চোখে একটা তৃপ্তির দৃষ্টি দেখেছে তরুণিম। কিন্তু আজকের চাউনিটা একদম অন্যরকম। কিছুটা বিস্ময়, কিছুটা দুশ্চিন্তা। রহস্যটা কী?
“এটা তুমি পেলে কোথায়?”
যদিও তরুণিম জানে পুরোনো জিনিস সংগ্রহের জন্য ছোটুমামা হিল্লি-দিল্লি করে। অনেক সময় ফেলে দেওয়া জিনিসপত্রের দোকান থেকেও পেয়ে যায় অমূল্য কিছু।
“তোর মনে আছে, বড়োবাজারের পুরোনো গলিতে একটা অ্যান্টিক পিসের দোকান আছে? তোকে একবার নিয়ে গেছিলাম। কুঞ্জবাবু, ওই দোকানের মালিক, উনি ফোন করে বললেন আমায় যেতে। বাইরে থেকে এক ভদ্রলোক খুব অল্প দামে দিয়ে গেছেন। আমার কথাই মনে হয়েছে ওঁর।”
অন্যান্য কাজ, গল্পগুজব, খাওয়াদাওয়া করে সন্ধেটুকু কেটে গেল। ছোটুমামার চোখের কুয়াশা যেন কাটতে চাইছে না। তরুণিমের চোখ এড়াচ্ছে না কিছুই। রাতে দক্ষিণের ঘরেই দুজনের বিছানা হল। খাটে শুয়ে জানালাটা দেখতে দেখতে কেমন যেন ঘোর লেগে যায় তরুণিমের।
৪
তরুণিমের ঘুম ভেঙে গেল। ঘরে ছোটো একটা আলো জ্বলছে, পাশে ছোটুমামা নেই। নিশ্চয়ই কাজের ঘরে গেছে। ছোটুমামা বেশিরভাগ কাজ রাতেই করে। কব্জির ডিজিটাল ঘড়ি বলছে, রাত দেড়টা। ধবধবে শুভ্র জানালাটায় হঠাৎ চোখ পড়তে মনে হল একটা সাদা আঁচল দুলছে। কোনও পর্দা তো ছিল না। তাহলে কী? তরুণিম উঠে এল জানালার পাশে। এ কী! বাগান কই? চারদিকে এত বালি কেন? ছোটুমামা কি রাতারাতি বালি দিয়ে বুজিয়ে দিয়েছে সবটা? নতুন কোনও পরিকল্পনা? তরুণিম একটু ঝুঁকে দেখে। একটা ঘোরানো সিঁড়ি নেমে গেছে জানালা বেয়ে। এসব কখন হল? তরুণিমের বুক ঢিপঢিপ করছে। ছুটে গেল দরজার দিকে। কিন্তু ঘরের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ। তাহলে জানালা পেরিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নেমে যাওয়া ভালো।
সুন্দর একটা ঝোড়ো হাওয়া দিচ্ছে। বালির কুচি উড়ে আসছে চোখে-মুখে। রাতারাতি জায়গাটার এমন পরিবর্তন দেখে তরুণিমের আশ্চর্য লাগছে। তরুণিম বোধ হয় দু-পাও হাঁটেনি, পেছন ফিরে দেখল, বাগানবাড়িটা অনেক দূরে চলে গেছে। তরুণিম মন্ত্রমুগ্ধের মতো এগিয়েই চলেছে। ধীরে ধীরে ভয়ডর উধাও হয়ে গেছে কখন। সামনে জলোচ্ছ্বাসের শব্দ। সমুদ্র নয়। ক্ষীণতোয়া এক নদী। ছোটো ছোটো, গোল গোল নৌকো ভাসছে বুকে। তরুণিম জানে, এই নৌকোর নাম টেপ্পা। দক্ষিণ ভারতে দেখা যায়।
তরুণিমের পায়ের তলাটা হঠাৎ কেঁপে উঠল। পায়ের পাতা দিয়ে বালি আঁকড়ানোর চেষ্টা করল সে। কিন্তু পারছে না। তরুণিম বসে পড়ে হাত দিয়ে বালি সরাতে লাগল। ভয়ংকর একটা শক্তি ভর করেছে তরুণিমকে। সে সরসর করে ঢুকে যাচ্ছে বালির ভিতর। দমবন্ধ হয়ে আসছে। হাতে একটা খোঁচা লাগল তরুণিমের। তবু একটা অবলম্বন পেল যেন। আঁকরে ধরল সেটিকে। বেশ খানিক্ষণ ওভাবে ঝুলে থাকতে থাকতে বালির ঝড়টা সরে গেল।
সে গিরগিটির মতো একটা মন্দিরের চালে শুয়ে আছে এখন। হাতে ধরে আছে একটি ত্রিশূল। আশ্চর্য! বালির তলায় একটা আস্ত গ্রাম যে। প্রচুর মন্দির। পাহাড়ের ঢালে প্রাসাদ, রাজপথ। রাজপোশাকে ঘুরে বেড়াছে লোকজন। মন্দিরে নিত্য আরতি চলছে। তরুণিম শান্ত হয়ে আসছে।
আবার বালির ঝড়। তরুণিমের পা থেকে গলা পর্যন্ত বালির তলায় চলে যাচ্ছে। তরুণিম আর চোখ খুলে রাখতে পারে না। অজ্ঞান হয়ে যায়।
৫
সন্ধে থিতিয়ে পড়েছে। নদীর কুলকুল শব্দে তরুণিমের ঘুম ভাঙে। জলে পা ডুবিয়ে বসে। এ কোথায় চলে এসেছে সে? বাবা, মা, ছোটুমামা কি তাকে খুঁজছে? তরুণিম উঠে সামনের দিকে এগোয়। এখানে নদীটি আর ক্ষীণতোয়া নয়। বরং বেশ অশান্ত। পিছনে জঙ্গলাকীর্ণ পাহাড়। সামান্য দূরত্বে কী অদ্ভুত বৈপরীত্য। এও সম্ভব? তরুণিম চিত হয়ে শুয়ে পড়ে। আকাশে চাঁদের রেখা জলের ওপর টলমল করছে। ঠিক তখনই ঘটনাটি ঘটে।
তরুণিম দেখে, শত শত সেনা ধেয়ে আসছে। এলো চুলে এক মহিলা তাদের সামনে, পরনে ঘিয়ে রঙের মটকা শাড়ি, লম্বা আঁচল লুটচ্ছে, হাতে মস্ত বড়ো এক পুঁটুলি। পাহাড়ের কোলে বিরাট এক মহল। প্রকাণ্ড জানালায় দুলছে একটি সাদা শাড়ি। সেই শাড়ি বেয়েই নেমে এল মহিলাটি। দৌড়তে দৌড়তে সামনের বড়ো পাহাড়টায় উঠে যায় সে। তার চোখ দুটো জ্বলছে। সেই আলোতে গোটা গ্রাম জ্বলজ্বল করছে। সেনারা তাদের অস্ত্র তাক করে আছে মহিলার দিকে। মহিলা চিৎকার করে বলছে, ‘তোমাদের রাজা নির্বংশ হবে। এই গ্রাম মরুভূমিতে পরিণত হবে। মালিঙ্গা জলস্রোতের তলায় চলে যাবে। নির্বংশ হবে, নির্বংশ হবে।’
মহিলার চিৎকার চারদিকে ধাক্কা খেয়ে ফিরে আসছে। তরুণিমের চোখ আটকে আছে জানালাটিতে। বাগানবাড়ির দক্ষিণের ঘরের জানালা। তরুণিম দেখল, পাহাড় থেকে মহিলা ঝাঁপ দিল নদীতে। জলরাশি উছলে উঠে ভিজিয়ে দিল তরুণিমের চোখ-মুখ।
অনেকক্ষণ তরুণিম চোখ বন্ধ করে ছিল। সে সম্পূর্ণ ভিজে গেছে। চোখ যখন মেলল, দেখে নীলগঞ্জের বাগানবাড়ির দক্ষিণের ঘরে শুয়ে আছে সে। তাহলে স্বপ্ন? কিন্তু সে তো সত্যিই ভিজে গেছে। জামাকাপড় থেকে ঝুরঝুর করে বালি পড়ছে। ছোটুমামাকে জানাতেই হবে। দরজার দিকে এগিয়ে গেল তরুণিম। তখনই দরজা ঠেলে ঢুকল ছোটুমামা।
বিস্ময়ে তাকিয়ে আছে ছোটুমামা।— ‘‘তরু, অ্যাই! ওঠ! তরুউউ! দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঘুমোচ্ছিস কেন?”
তরুণিম ঠিক কী বলবে ভেবে পেল না। ছোটুমামাকে জড়িয়ে ধরল শুধু।
“কী রে, ভয় পেয়েছিস? আমায় একটু বাবার ঘরে যেতে হল ল্যান্ড ফোনটা ব্যবহার করতে। কিছু প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে। বলছি সব।”
তরুণিম পোশাক বদলে বসল ছোটুমামার পাশে। ভোর হচ্ছে। আকাশটা লাল হয়ে আছে। ছোটুমামা গরম কফি নিয়ে এসেছে। দুজনে চুমুক দিতে দিতে কথা চলছে।
“এই জানালাটা যেদিন নিয়ে এলাম, তারপর কিচ্ছু নয়, আজ অদ্ভুত সব দৃশ্য দেখলাম রাতে, জানিস? আমার মনে হচ্ছে তুইও দেখেছিস। আমিও খানিক আগে ঠিক তোর মতোই বালি মেখে ভিজে পড়ে ছিলাম। ছুটে গিয়ে ফোন করলাম জানালাটার অতীত জানতে। কুঞ্জবাবু কিছুই জানেন না। যে ভদ্রলোক বিক্রি করেছিলেন তিনি মাইসোরে থাকেন। গল্পটা জানলাম তাঁর কাছেই। মাইসোর থেকে পঞ্চাশ কিলোমিটার দূরে তালাকাড নামে একটি জায়গা আছে। কাবেরী নদীর নীল জল বয়ে চলে সেখানে। চারদিকে গভীর জঙ্গল। আর আছে বালিয়াড়ি, জানিস? শুনলেই গায়ে কাঁটা দেয়। তালাকাড নামের পুরো গ্রামটাই প্রায় তিরিশটা মন্দির-সহ ডুবে আছে এই বালির তলায়। বারো বছর পরপর দেশবিদেশের প্রত্নতত্ত্ববিদরা এসে খুঁড়ে বের করেন এসব মন্দির। কিন্তু আবার বালির নীচে চাপা পড়ে যায় সেসব। এখানে কাবেরী নদী মরা প্রায়। দাঁড়ালে কোমর জলও হবে না। অথচ পাশেই মালাঙ্গী গ্রামে কাবেরীর গভীরতা সর্বাধিক। কী অদ্ভুত বৈপরীত্য!”
মিলে যাচ্ছে দৃশ্যগুলো। তরুণিম হতবাক।
“এবার আসল গল্পটা বলি। তিরুমালরাজার মৃত্যুর পর তাঁর সিংহাসন দখল করে ওয়াদেয়ার বংশ। আসলে তিরুমালরাজার সন্তান তখন খুব ছোটো। মূল্যবান অলংকার নিয়ে সে-সময় প্রাসাদ ছেড়ে জানালা বেয়ে নেমে পালাচ্ছিলেন তিরুমালরাজার রানি আলামেলাম্মা। তাঁকে ধাওয়া করল ওয়াদেয়ার সেনাবাহিনী। রানিকে তারা ধরে ফেলল কাবেরী নদীর তীরে তালাকাডে। শত্রুসেনার হাতে ধরা দেবেন না বলে আলামেলাম্মা উঠে গেলেন খাড়াই পাহাড়ে। সেখান থেকে ঝাঁপ দিলেন কাবেরী নদীতে। ঝাঁপ দেওয়ার আগে অভিশাপ দিলেন— তালাকাড মরুভূমি হয়ে যাবে, মালাঙ্গী জলের তলায় চলে যাবে, ওয়াদেদার বংশ অপুত্রক হবে। সব সত্যি হয়েছে। কাবেরী নদী হঠাৎ দিক পরিবর্তন করে ভাসিয়ে দিয়েছে মালাঙ্গী। তালাকাড তিরিশটা মন্দির-সহ ডুবে আছে বালির তলায়। ওয়াদেদাররা চারশো বছর ধরে আজও অপুত্রক। দত্তক নিয়ে তাদের বংশ চলছে। এই সেই জানালা বা ঝারোখা, আলামেলাম্মার প্রাসাদের।”
ছোটুমামা খানিকক্ষণ চুপ করে বসে থাকে। এই নিস্তব্ধ পরিবেশে চোখে ভেসে ওঠে রানি আলামেলাম্মার করুণ কাহিনি।
“মাইসোরের ভদ্রলোক জানালাটি কিনেছিলেন একটি প্রদর্শশালা থেকে। উনিও এমন কিছু ঘটনার সম্মুখীন হয়ে পরে জানালাটির সম্বন্ধে সব তথ্য সংগ্রহ করেন এক প্রত্নতত্ত্ববিদের সাহায্যে। যদিও জিনিসটার সরকারি মিউজিয়ামে স্থান হওয়া উচিত। জানিসই তো কতরকমের ব্যাবসা চলে এসব নিয়ে। আমার ধারণা, এই জানালা অভিশপ্ত। সমস্ত পুরুষই আলামেলাম্মার চোখে ওয়াদেদারের সেনা। এই জানালায় চোখ রাখলে সেই করুণ কাহিনির সম্মুখীন হতেই হবে। আইনের চোখে ধরা পড়ার আগে ভদ্রলোক জানালাটি তড়িঘড়ি অন্য রাজ্যে পাচার করে দিলেন। বিভিন্ন হাত ঘুরে ঘুরে কুঞ্জবাবুর কাছে আসে। আর আমিও না জেনেই সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে নিয়ে এলাম। রানির করুণ কাহিনি বুকে চেপে দক্ষিণের জানালা ঘুরে বেড়াচ্ছে এদিক-ওদিক। সেই কাহিনিই দৃশ্যকল্প হয়ে আমাদের চোখে ধরা পড়ছে। আমি সরকারি মিউজিয়ামের সঙ্গে কথা বলব। জানালাটি সংরক্ষিত হোক মর্যাদার সঙ্গে। রানি আলামেলাম্মা সম্মানের সঙ্গে মুক্তি পাক।”
তরুণিমের বিস্ময় কাটছে না কিছুতেই। এ কি নিছকই দৃশ্যকল্প?
“কিন্তু ছোটুমামা, ভেজা জামাকাপড়ে এখনও বালি লেগে আছে যে?”
ছোটুমামা শুধু তাকিয়ে থাকে। কোনও কথা বলে না। অনেক সময় সব অঙ্ক হুবহু মেলে না। গুঁড়ো বালির মতো কিছু রোমাঞ্চ লেগে থাকে মনে।
“বাদ দে। আর একদিন থাকবি তো? দাঁড়া, তোর বাবাকে ফোন করে বলি। কিন্তু তারপর ফিরে গিয়ে শুধু লেখাপড়া। কেমন? এ-পৃথিবীর আনাচে-কানাচে বহু রহস্য, ইতিহাস পাক খাচ্ছে প্রতিনিয়ত। সব যুক্তি দিয়ে বুঝতে চেও না, তরুবাবু। প্রকৃতির হাতে ছেড়ে দিও।”
তরুণিমের মনটা হঠাৎ খুশিতে ভরে যায়। মুছে যায় গত রাতের সমস্ত গ্লানি। জানালাটা ছুঁয়ে দেখে সে। আবার একটা গল্প। যে গল্পের নেশায় সে বার বার ছুটে আসে ছোটুমামার কাছে। গল্পের কিনারায় এভাবে পা ডুবিয়ে বসতে পারবে, কখনও ভাবেনি তরুণিম। দক্ষিণের জানালা তার মনের কুঠুরিতে সারাজীবনের সম্পদ হয়ে রইল।
তরুণিম জানালা দিয়ে মুখ বাড়াল। ঝলমলে রোদ উঠেছে। সামনের বাগানে কত রঙবেরঙের ফুল ফুটেছে। কেয়ারটেকার-মামা হাঁসগুলোকে তাড়িয়ে বেড়াছেন। চই চই চই চই।
লেখিকার অন্যান্য লেখা
শুভাঞ্জন ব্যানার্জী ▪ প্রবাহনীল দাস
লিও তলস্তয় ▪ নলিনাক্ষ ভট্টাচার্য
তাপস মৌলিক ▪ অংশু পাণিগ্রাহী ▪ বাণীব্রত গোস্বামী ▪অরিন্দম ঘোষ ▪ রঞ্জন দাশগুপ্ত ▪ সিদ্ধার্থ দাশগুপ্ত ▪শাশ্বত কর ▪ রাজীব রায় গোস্বামী ▪ সায়নদীপা পলমল ▪ প্রদীপ কুমার দাস
বদ্রীনাথ পাল ▪ তাপস বাগ ▪ বসন্ত পরামানিক ▪ গোবিন্দ মোদক ▪ সুব্রত দাস ▪ অর্ণব ভট্টাচার্য ▪ সুজাতা চ্যাটার্জী ▪ মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় দাস ▪ মধুমিতা ভট্টাচার্য ▪ ড. রমলা মুখার্জী ▪ সনৎকুমার ব্যানার্জী ▪ বিদ্যুৎ মিশ্র ▪ রাজর্ষি মণ্ডল ▪ রূপালী মুখোপাধ্যায় ▪ শক্তিপদ পণ্ডিত ▪ শম্ভু সরকার ▪ সুব্রত চৌধুরী
অদিতি ভট্টাচার্য ▪ দীপঙ্কর চৌধুরী ▪ মৌসুমী রায় ▪ সবিতা রায় বিশ্বাস ▪ সহেলী রায় ▪ কিশোর ঘোষাল
অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় ▪ অরিন্দম দেবনাথ ▪ কমলবিকাশ বন্দ্যোপাধ্যায় ▪ দীপক দাস ▪ ড. উৎপল অধিকারী ▪ চন্দ্রানী মজুমদার
সায়ন্তনী পলমল ঘোষ ▪ সোমা দে ▪ শংকর লাল সরকার ▪ সন্দীপন সাহা
অলংকরণ
মায়াসখা নন্দী ▪ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ▪ একপর্ণিকা ক্রিয়েটিভস