ছোটো গল্প
FREE SHIPPING IN INDIA
ছোটো গল্প
‘ভূত’ কথাটা আমার দু-কানের বিষ। কেমন যেন ভয় পাওয়ানোর চেষ্টা মনে হয়। কিন্তু ছেলেটা এমন মিষ্টি করে বলল যে মনে হল ও আমার নাম ধরেই ডাকছে। আর ওর চোখে-মুখে ছিল না কোনও ভয়ের চিহ্ন। আমি বললাম, “হ্যাঁ, আমি ভূতই, আমার নাম ভূতো।”
অরিন্দম ঘোষ
আমি ভূতো। তোমরা যারা আমার নাম শুনে মনে করছ আমায় বোধ হয় বিচ্ছিরি দেখতে, তারা কিন্তু একদম ভুল ভাবছ। আমি বেশ সুন্দর—রেল ইস্টিশনের উঁচু উঁচু পোস্টে লাগানো আলোগুলোর মতো ফরসা গায়ের রঙ, বাসন মাজার স্টিল উলের মতো কোঁকড়ানো ঘন চুল, ভজন গোয়ালার পাটকিলে রঙের গোরুটার মতো টানা টানা চোখ।
সবার মতো আমার একটা সুন্দর নামও ছিল। কিন্তু গ্ৰামের সবাই কেন জানি না ভূতো নামে ডাকতেই বেশি ভালোবাসত। আসলে ওই যে ক্লাস ওয়ানে পড়তে স্কুলের স্পোর্টসের দিন সারা গায়ে-মুখে ভুসোকালি মেখে গো অ্যাজ ইউ লাইকে ফার্স্ট প্রাইজের স্টিলের গামলাটা পেলাম, তার পর থেকেই সবাই অর্পণ বা অপু নামটা ভুলে গেল।
জিতেই-বা কী হল বলো? গামলাটা মা নিয়ে নিল আটা মাখার জন্য, আর আমার কাছে পড়ে রইল একটা সোনালি রঙের মেডেল। সেটা অনেকদিন অবধি দেওয়ালের তাকের ওপর সাজিয়ে রাখা ছিল। পরে সেটাও কেমন কালচে হয়ে গেল। অনেকে মোবাইলে ফটো তুলেছিল। কিন্তু আমাদের তো স্মার্টফোন ছিল না, তাই ছবিগুলো দেখতে ইচ্ছে করলেও উপায় ছিল না। পিটি-স্যার বলেছিলেন হেড-স্যারের হাত থেকে প্রাইজ নেওয়ার ছবিটা টাউন থেকে প্রিন্ট করিয়ে এনে দেবেন। কিন্তু বড়োরা কবে আর কথা দিয়ে কথা রেখেছে বলো?
আমাদের গ্ৰামের ধারেই একটা বেশ বড়োসড়ো আমবাগান আছে। কতগুলো গাছ আছে ওখানে, তা বোধ হয় গুনে শেষ করা যাবে না। আমগাছ ছাড়া সেখানে অন্য অনেক গাছও রয়েছে, তবুও সবাই আমবাগান বলেই ডাকে জায়গাটাকে। দিনের বেলাতেও জায়গাটা অন্ধকার হয়ে থাকে, আর বেশ ঠান্ডাও। আগে আমরা ওখানে আসতে ভয় পেতাম। এখন অবশ্য ভয়ের কিছু দেখি না। সবগুলো গাছের আম যে সমান মিষ্টি তা নয়। আমি টেস্ট করে দেখেছি। কয়েকটা তো এত টক যে খেলে আমারও দাঁত কিটকিট করে ওঠে।
সেজন্যই কিনা জানি না, একদিন রামু মোড়লের ভাই লোকজন নিয়ে এসে পাশাপাশি বেশ কয়েকটা গাছ কেটে সাফ করে দিল। লোকগুলোর চকচকে কুড়ুলের ঘায়ে যেমন টক আমের গাছগুলো কাটা পড়ল, মিষ্টি আমের গাছও ছাড় পেল না। গাছগুলোতে অনেক অনেক পাখির বাসা ছিল। বড়ো গাছটার কোটরগুলোর মধ্যে পেঁচাদের আস্তানা ছিল। গাছের পাখিগুলোর কথা কেউ একবারও ভাবল না। এমনকি মাটি খুঁড়ে গোড়াগুলো পর্যন্ত উপড়ে নিয়ে গেল ভ্যান রিকশা করে। তারপর শুরু হল সেখানে সার সার কুঁড়েঘর তৈরির কাজ। বাগান, কুয়ো, দোলনা— সেসবও তৈরি করা হল। বাগানের ধারে যে ছোট্ট পুকুরটা ছিল, ওটাকেও ওরা পাড় বাঁধিয়ে সুন্দর করে সাজিয়ে দিল। কচুরিপানা তুলে ফেলে দিয়ে জলে সাদা, বেগুনি, গোলাপি শালুক ফুল ভাসিয়ে দিল। ঘরগুলোকে বাইরে থেকে দেখে গ্রামের বাড়ির মতো মাটির দেওয়াল আর খড়ের চাল মনে হলে কী হবে, ভেতরটা একদম সাজানো গোছানো। টিভিতে বড়োলোকদের বাড়িগুলো যেমন দেখায়, ঠিক সেরকম। যখন কাজ চলছিল, আমি চুপিচুপি গিয়ে বেশ কয়েকবার দেখে এসেছি। কেউ কিচ্ছু টের পায়নি।
একটা বড়ো সাইনবোর্ড ঝোলানো হল তারপর—তাতে লেখা ‘আম্রপালি ভিলেজ রিসর্ট’, সঙ্গে দুটো ফোন নম্বর লেখা। এরপরই কয়েকদিনের মধ্যে দূর দূর শহর থেকে দলে দলে লোকজন আসতে শুরু করল। কেউ আসে কলকাতা থেকে, কেউ শিলিগুড়ি, কেউ কেউ এমনসব জায়গার নাম বলে তা আমি আগে শুনিনি। তারা আসে, এক-দু’দিন থাকে, তারপর ব্যাগ গুছিয়ে ফিরে যায়। ওরা হইচই করে, বক্স বাজিয়ে গান চালিয়ে সবাই মিলে নাচানাচি করে, সন্ধেবেলায় খড়ি সাজিয়ে আগুন জ্বালায়। আমি লুকিয়ে লুকিয়ে দেখতাম ওদের কাণ্ডকারখানা।
একদিন একটা বাচ্চা ছেলে এল মা-বাবার সঙ্গে। মোটামুটি আমারই সমবয়সি হবে মনে হয়। ওদের সঙ্গে আরও একটা পরিবার এসেছিল। সেখানে বাবা-মার সঙ্গে একজন দিদি। সে বেশ বড়ো, মনে হয় কলেজে পড়ে। সারাক্ষণ শুধু কানে একটা সাদা ইয়ারফোন লাগিয়ে এদিক-ওদিক হেঁটে বেড়াত, আর কারও না কারও সঙ্গে অনর্গল কথা বলে যেত। কথা বলতে বলতে কখনও হেসে উঠত, কখনও রেগে যেত, কিন্তু কথা থামাত না।
বড়ো চারজন মানুষ দিব্যি নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত। বেচারা বাচ্চাটাকে একা একা এলোমেলো ঘুরে বেড়াতে হত। ওর সঙ্গে কথা বলার মতো কেউ ছিল না। ছেলেটা কখনও গাছের পাতা ছিঁড়ছে, কখনও বুনো ফুল তুলছে, কখনও পুকুরের জলে ঢিল ছুড়ছে, কখনো-বা প্রজাপতির পিছনে ছুটছে।
একবার একা একা দোলনায় কোনোরকমে উঠে তো পড়ল, কিন্তু মাটি পর্যন্ত পা পৌঁছয় না। দোল খাবে কী করে? আমি তখন সাহস করে পা টিপে টিপে ওর পিছনে গিয়ে দাঁড়ালাম। প্রথমে আলতো করে ঠেলে দিলাম দোলনাটা। ছেলেটা প্রথমে একটু চমকে উঠল, তারপর এদিক-ওদিক উপর-নীচে তাকিয়ে মহানন্দে দোল খেতে লাগল। ছেলেটার খিলখিল হাসি দেখে প্রথমটায় আমি খুব মজা পেলাম। কিন্তু পরক্ষণেই কেমন একটা রাগ হল। আচ্ছা অসভ্য ছেলে তো! একটা ‘থ্যাংক ইউ’ অবধি বলল না! আমাদের স্কুলে শেখাত কেউ কিছু সাহায্য করলে তাকে ‘থ্যাংক ইউ’ বলতে হয়। তাই রাগের মাথায় ঝপ করে দোলনাটা ধরে দিলাম থামিয়ে। ছেলেটা একদম চমকে উঠে ভয় পেয়ে গেল। গোল গোল চোখ করে এদিক-ওদিক তাকাতে থাকল। ওর ভাবভঙ্গি দেখে আমার বেশ মজা লাগল। তারপর আবার আস্তে করে ঠেলা দিলাম দোলনায়।
হঠাৎ খেয়াল হল, ছেলেটার আর দোষ কী? ও-বেচারা আমাকে দেখতে পেলে তো থ্যাংক ইউ বলবে! এটাই তো আমাদের সমস্যা। কেউ দেখতে পায় না বলেই আমরা ভালো কিছু করলেও খামোখা মানুষ আমাদের ভয় পায়। বানিয়ে বানিয়ে নানারকম কথা ছড়ায় আমাদের নামে, পাতা ভরে ভরে বিচ্ছিরি সব মিথ্যে কথা লেখে গল্পগুলোতে। স্কুলে পড়তে আমিও ভাবতাম স্কুলের বাংলা বইয়ে ছাপা গল্পগুলোয় লেখা ওসব কথা সত্যি বুঝি, কিন্তু এখন সব বুঝতে পারি কত কী মিথ্যে প্রচার করা হয় বইগুলোতে আমাদের সম্বন্ধে। তোমরাই বলো, এত বছর মানুষ থাকার পর হঠাৎ করে একদিন যেই ভূত হলাম, অমনি মানুষকে আমরা শত্রু ভাবতে শুরু করব? এ কেমন আজগুবি কথা? আসলে ওই দেখতে পাওয়া আর না পাওয়াতেই যত গণ্ডগোল।
সেদিন বাজারে ভজকাকার পকেট থেকে একটা দুশো টাকার নোট মাটিতে পড়ে গিয়েছিল। এক ব্যাটা বিটলে বদমাশ সেটা কুড়িয়ে নেবার তাল খুঁজছিল। আমি ওটা মাটি থেকে তুলে আলতো করে ভজকাকার পকেটে ঢুকিয়ে দিতে যেতেই বিপত্তি। হলদে নোটটা ওরকমভাবে আপনা-আপনি মাটি থেকে উঠে পকেটের দিকে যাচ্ছে দেখতে পেয়ে বদমাশটা এমন ‘ভূত ভূত’ করে চিৎকার শুরু করল যে কী বলব! ঘাবড়ে গিয়ে থতমত খেয়ে আমি নিজেও পড়িমরি করে দৌড় লাগালাম।
আর একদিন বাস স্ট্যান্ডে এক ব্যাটা পকেটমার একটা মেয়েকে অন্যমনস্ক দেখে তার ব্যাগ থেকে টুক করে কী একটা তুলে নিয়ে মারল দৌড়। মেয়েটা বুঝতে পেরে ‘চোর চোর’ করে চিৎকার করে উঠল। কিন্তু বাস স্ট্যান্ড তখন মোটামুটি ফাঁকা, কেউ আর চোরের পিছনে ধাওয়া করার কষ্ট করতে আগ্রহী হল না। অগত্যা আমার পাশ দিয়ে যখন পকেটমারবাবু পাস করছেন, ঠ্যাং বাড়িয়ে মারলাম এক লেঙ্গি। মর্কটটা হুমড়ি খেয়ে ছিটকে পড়ল রাস্তার ওপর, বাঁধানো রাস্তায় ঠোক্কর খেয়ে ব্যাটার ওপরের পাটির সামনের দাঁত দুটো গেল ছিটকে। যন্ত্রণায় চিৎকার করে ব্যাটা তখন বার বার ফিরে ফিরে দেখছে আর মাথা চুলকে ভাবছে তাকে ল্যাঙটা মারল কে! আশেপাশে তো কেউ নেই, সব ভোঁ-ভা।
যাক, যে-কথা বলছিলাম। মনে হল, ছেলেটা বুঝতে পেরেছে অদৃশ্য কেউ একজন তার দোলনা ঠেলছে। তবে বাজারের বদমাশটার মতো ও ভয় পেল না একটুও। তাই আমিও সাহস পেয়ে দোলনাটায় জোরে একটা দোল দিয়ে শুকনো পাতার ওপর খচমচ আওয়াজ তুলে ছুট্টে গিয়ে বাগান থেকে লম্বা ডাঁটা সমেত একটা হলদে গোলাপ ফুল তুলে এনে ছেলেটাকে দিলাম।
এক গাল হাসি নিয়ে ছেলেটা শূন্য থেকে গোলাপটা নিয়ে আমায় বলল, “থ্যাংক ইউ! তুমি কি ভূত?”
‘ভূত’ কথাটা আমার দু-কানের বিষ। কেমন যেন ভয় পাওয়ানোর চেষ্টা মনে হয়। কিন্তু ছেলেটা এমন মিষ্টি করে বলল যে মনে হল ও আমার নাম ধরেই ডাকছে। আর ওর চোখে-মুখে ছিল না কোনও ভয়ের চিহ্ন। আমি বললাম, “হ্যাঁ, আমি ভূতই, আমার নাম ভূতো।”
বলার সময় খেয়াল ছিল না, ও যেমন আমাকে দেখতে পাবে না, তেমন আমার গলার আওয়াজও ওর কানে যাবে না। ওই যে তোমরা বইতে পড়েছ, ভূতেরা নাকি স্বরে কথা বলে সব কথায় চন্দ্রবিন্দু লাগিয়ে—সব মিথ্যে কথা! আমি পা দিয়ে মাটিতে একবার শব্দ করে বলতে চাইলাম ‘হ্যাঁ’।
“আমি বাবাই। তুমি আমার বন্ধু হবে?” ছেলেটা একদম ভয় না পেয়ে হেসে বলে উঠল।
আমি আবার মাটিতে শুকনো পাতার ওপর একবার পা ঢুকলাম।
“আমায় ভয় দেখাবে না তো?”
এবার আমি পা ঠুকলাম দু-বার। বাবাই বুঝে গেল আমার সংকেতের ভাষা। ও তখন সামনের দিকে হাতটা বাড়িয়ে দিল, আর আমি ওর হাত ধরলাম। এই প্রথম কোনও মানুষকে ছুঁলাম। বাবাই অনুভব করতে পারল বোধ হয়, কেননা ওর মুখে একটা হাসি খেলে গেল। বেশ বুদ্ধিমান আর সাহসী ছেলে।
বাবাই একবার চারদিকে তাকিয়ে নিল। তারপর হালকা স্বরে বলল, “আমি তোমার কথা কাউকে বলব না। ওরা ভয় পাবে, আমাকে তোমার সঙ্গে মিশতে দেবে না।” তারপর একটু ভেবে নিয়ে বলল, “লুকোচুরি খেলবে?”
বাবাইর প্রস্তাব শুনে আমার হাসি পেয়ে গেল। যাকে দেখতে পাওয়া যায় না তার সঙ্গে লুকোচুরি খেলা?
“চিটিং করলে কিন্তু চলবে না। ওকে?”
আমি মাটিতে একবার পা ঠুকে শব্দ করে সংকেত দিলাম।
বাবাই হেসে বলল, “তুমি কিন্তু অ্যাডভান্টেজ পাচ্ছ। তাই বেশি দূরে যাবে না কিন্তু। আমি এক থেকে দশ গোনার মধ্যে লুকিয়ে পড়বে।”
আমি আবার মাটিতে পা ঠুকলাম। তারপর ইচ্ছে করে শুকনো আমপাতার ওপরে ছচমচ শব্দ করে দৌড়ে গিয়ে একটা মোটা গাছের গুঁড়ির আড়ালে লুকিয়ে পড়লাম। না লুকোলেও চলত, ও তো আমাকে দেখতেই পাবে না।
বাবাই আমার পায়ের শব্দ শুনে বুঝেছিল আমি কোন দিকে এসেছি। কিন্তু কোন গাছের পিছনে আছি, সেটা আন্দাজ করতে পারছিল না কিছুতেই। ওর হতাশ মুখটা দেখে আমার মায়া হল। একটা আলতো শব্দ করলাম গুঁড়ির গায়ে চাপড় মেরে। বুদ্ধিমান ছেলে, চট করে ধরে ফেলল আমার লুকোনো আড্ডা।
“এবার তোমার পালা। তুমি চোখ বুজে তিরিশ অবধি গুনবে, একদম দেখবে না কিন্তু। নো চিটিং!”
আমি গাছের গায়ে টোকা মেরে শব্দ করে গুনতে লাগলাম। তারপর বেরোলাম খুঁজতে। এদিক-ওদিক খুঁজে কোত্থাও পাই না। গাছের আড়ালে নেই, ডাস্টবিনগুলোর পিছনেও লুকোয়নি। তাহলে কি রুমের ভেতরে ঢুকল নাকি? যা ভেবেছি তা-ই। বাবাই লক্ষ্মী ছেলের মতো হাত-পা ধুয়ে টেবিলে খেতে বসে গেছে। আমার মাথাতেও দুষ্টু বুদ্ধি এল। চুপিচুপি খাবার টেবিলের তলায় গিয়ে ঢুকে পড়লাম আর আলতো করে একটা চিমটি কাটলাম বাবাইয়ের পায়ে।
চমকে উঠতেই ওর মা বলল, “কী হল রে? ওরকম চমকে গেলি কেন?”
বাবাই ততক্ষণে সামলে নিয়েছে। জবাব দিল, “কিছু না, পায়ে একটা মশা কামড়াল বোধ হয়।”
তারপর যতক্ষণ খেতে থাকল, আমি ওর পায়ে সুড়সুড়ি দিয়ে বিরক্ত করে গেলাম। বেচারা মাঝে মাঝে হেসে ওঠে আর মায়ের কাছে বকুনি খায়।
বাগানে বল নিয়ে খেলার সময় আবার একটা কাণ্ড হল। আগেই আমরা দেখে নিয়েছিলাম সবাই ঘরের ভিতরে আছে। না-হলে আপনা-আপনি বল এদিক-সেদিক ছুটছে দেখলে সবাই ঘাবড়ে যাবে, আর আমরা ধরা পড়ে যাব। বাবাইর এক শটে বল ছিটকে গিয়ে পড়ল পুকুরের মাঝখানে। ওর ভ্যাবাচ্যাকা মুখ দেখে আমি নামলাম পুকুরে। জলে ভাসা বেগুনি-গোলাপি শালুক ফুলের জঙ্গল পেরিয়ে গিয়ে বলটা কুড়িয়ে নিয়ে ছুড়ে দিলাম পাড়ে।
তারপর ওরা যে-দু’দিন ছিল, আমরা দুজনে এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়ালাম। ওর সঙ্গে ওদের ঘরেও কয়েকবার গিয়েছিলাম সবার চোখ এড়িয়ে। বাবাইর জন্য ওই ক’দিনে অনেক কিছু এনে দিয়েছিলাম। উঁচু ডালের ওপর থেকে পেড়ে আনা কাঁচামিঠে আম, নদীর বালি থেকে খুঁজে নিয়ে আসা রঙিন শামুকের খোল আর পাথর, বেগুনি আর গোলাপি শালুক ফুল এবং খেজুরগাছের ওপর থেকে ঝোলা বাবুই পাখির একটা ফেলে যাওয়া খালি বাসা।
ওরা চলে যাওয়ার সময় বিরক্তির সুরে বাবাইর মা বলেছিল, “এসব জঞ্জাল নিয়ে যাবি নাকি তুই?”
“সব কিছু।” বাবাই হেসে বলেছিল, “এসব আমার এক বন্ধু দিয়েছে আমায়।”
“বাবা! এর মধ্যে এখানে তোর বন্ধুও জুটে গেল?” গাড়িতে সুটকেস তুলতে তুলতে অবাক হয়ে বলেছিল ওর বাবা।
বাবাইরা চলে গেল। গাড়ির জানালা দিয়ে হাত বাড়িয়ে দিতে আমি আলতো করে ওর হাতটা ধরে বললাম, “বিদায় দোস্ত! আবার এসো।”
একগাল হেসে বাবাই বলল, “আবার আসব।”
কী জানি, শুনতে পেল নাকি!
লেখকের অন্যান্য লেখা
শুভাঞ্জন ব্যানার্জী ▪ প্রবাহনীল দাস
লিও তলস্তয় ▪ নলিনাক্ষ ভট্টাচার্য
তাপস মৌলিক ▪ অংশু পাণিগ্রাহী ▪ বাণীব্রত গোস্বামী ▪অরিন্দম ঘোষ ▪ রঞ্জন দাশগুপ্ত ▪ সিদ্ধার্থ দাশগুপ্ত ▪শাশ্বত কর ▪ রাজীব রায় গোস্বামী ▪ সায়নদীপা পলমল ▪ প্রদীপ কুমার দাস
বদ্রীনাথ পাল ▪ তাপস বাগ ▪ বসন্ত পরামানিক ▪ গোবিন্দ মোদক ▪ সুব্রত দাস ▪ অর্ণব ভট্টাচার্য ▪ সুজাতা চ্যাটার্জী ▪ মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় দাস ▪ মধুমিতা ভট্টাচার্য ▪ ড. রমলা মুখার্জী ▪ সনৎকুমার ব্যানার্জী ▪ বিদ্যুৎ মিশ্র ▪ রাজর্ষি মণ্ডল ▪ রূপালী মুখোপাধ্যায় ▪ শক্তিপদ পণ্ডিত ▪ শম্ভু সরকার ▪ সুব্রত চৌধুরী
অদিতি ভট্টাচার্য ▪ দীপঙ্কর চৌধুরী ▪ মৌসুমী রায় ▪ সবিতা রায় বিশ্বাস ▪ সহেলী রায় ▪ কিশোর ঘোষাল
অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় ▪ অরিন্দম দেবনাথ ▪ কমলবিকাশ বন্দ্যোপাধ্যায় ▪ দীপক দাস ▪ ড. উৎপল অধিকারী ▪ চন্দ্রানী মজুমদার
সায়ন্তনী পলমল ঘোষ ▪ সোমা দে ▪ শংকর লাল সরকার ▪ সন্দীপন সাহা
অলংকরণ
মায়াসখা নন্দী ▪ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ▪ একপর্ণিকা ক্রিয়েটিভস