ভ্রমণকথা
FREE SHIPPING IN INDIA
ভ্রমণকথা
৮২০ খ্রিস্টাব্দে বাগদাদের শাসক আল-মামুন ঢোকার রাস্তা খুঁজে না পেয়ে পিরামিডের গায়ে গর্ত খুঁড়তে শুরু করেন, আর ভাগ্যক্রমে সেই গর্ত গিয়ে মেশে একটা গোপন সুড়ঙ্গে।
শংকর লাল সরকার
মিশরে আমাদের গাইডের নাম ছিল আহমেদ। বিমানবন্দর থেকে আমরা সবে কায়রোর বাসে উঠেছি, তিনি বললেন, “ভালো করে জানালার দিকে তাকিয়ে থাকো, মিশর তোমাদের সঙ্গে কথা বলবে।”
সত্যিই বলল। রাস্তার মাঝখানে উঁচু মঞ্চের ওপর পাথরের বিরাট এক মূর্তি। বাস পেরিয়ে যাচ্ছে, ঘাড় ঘুরিয়ে তাকিয়ে রইলাম। আহমেদ বললেন, “ইনি ফারাও দ্বিতীয় রামেসিস। সাড়ে তিন হাজার বছর ধরে এই পাথরের চোখ দুটো খোলা।”
বাইরে সবকিছু হলদে—বালি হলদে, ধুলো হলদে, বাড়ির দেওয়াল হলদে। অথচ মিশরীয়রা নিজেদের দেশকে বলত ‘কেমেট’, মানে কালো মাটির দেশ। কারণ, নীলনদের পাশের সরু জমিটুকুর মাটি কালো, আর ফসল ফলে কেবল সেখানেই।
বাঙালির কাছে মিশর-ভ্রমণ বোধ হয় স্বপ্নের আর এক নাম। ইতিহাসের পাতায় দেখা পিরামিড, তুতানখামেনের মমি হাতছানি দিয়ে ডাকে অন্য এক রহস্যময় দুনিয়ায়। সেই মিশরে যাওয়ার সুযোগ হল ২০২৩ সালে।
সাক্কারা: পৃথিবীর প্রথম পিরামিড
প্রাচীন মিশরের রাজধানী ছিল মেমফিস। মিশরীয়রা বিশ্বাস করত, সূর্য পশ্চিমে অস্ত যাওয়ার পর দেবতা মাটির নীচের জগতে চলে যান, আর মৃত মানুষের আত্মাও সেখানেই যায়। তাই শহর গড়ল তারা নদীর পুবে, কবরখানা বানাল পশ্চিমে। সেই কবরখানার নাম সাক্কারা। গোড়ার দিকে কবরগুলো ছিল নীলনদের কাদামাটির ইট দিয়ে বানানো একতলা বাক্সের মতো ঘর। মিশরীয়রা বলে ‘মাস্তাবা’। আরবিতে মাস্তাবা মানে বেঞ্চ।
আহমেদ বললেন, “তারপর এলেন ইমহোটেপ।”
বাসের ভিতরে গুঞ্জন উঠল। আমরা সবাই নাম চিনি—‘দ্য মমি’ সিনেমার সেই টাকমাথা ভিলেন!
আহমেদ হেসে ফেললেন।— “না, না। আসল ইমহোটেপ ভিলেন নন। তিনি একই সঙ্গে স্থপতি আর ডাক্তার ছিলেন। মিশরের লোকে তাঁকে প্রায় দেবতার মতো মানত।”
ইমহোটেপ ফারাও জোসারের সমাধি বানানোর সময় অদ্ভুত এক বুদ্ধি বের করলেন। একটা মাস্তাবার ওপর আর একটা মাস্তাবা। তার ওপর আরও একটা। প্রতিটা ধাপ তার নীচেরটার চেয়ে ছোটো। ছয়টা ধাপ বসিয়ে তৈরি হল ষাট মিটার উঁচু এক সৌধ। খ্রিস্টপূর্ব ২৬৮০ অব্দে তৈরি হল পৃথিবীর প্রথম পাথরের পিরামিড।
চত্বরটাকে ঘিরে ছিল বিরাট এক পাথরের প্রাচীর, তাতে চোদ্দটা দরজা। মজার কথা, তার তেরোটাই নকল—দেওয়ালেই দরজার আকার কেটে রাখা, খোলে না। ঢোকার আসল পথ কেবল একটাই। সেখান দিয়ে ঢুকতেই সামনে পড়ল চল্লিশটা পাথরের থাম; প্রতিটা ছয় মিটার উঁচু, দেখতে প্যাপিরাস গাছের কাণ্ডের গোছার মতো। গায়ে হাত বুলিয়ে দেখলাম, এত মসৃণ যে জোড়ের ফাঁক খুঁজে পাওয়া যায় না। অথচ যারা এগুলো কেটেছিল, তারা তখন খনিজ লোহার ব্যবহারই জানত না, হাতে ছিল কেবল তামার সাধারণ যন্ত্রপাতি। সেই যুগের কারিগর শিল্পীরা কতটা দক্ষ ছিল ভাবো তো।
পিরামিডের ভিতরে নামা যায়, কিন্তু তার জন্য আলাদা টিকিট লাগে— দেড়শো ইজিপশিয়ান পাউন্ড। কথাটা জানতাম না। আহমেদ মাথা নেড়ে বললেন, “আগে বললে একবারেই কেটে আনা যেত।”
কিন্তু আমরাও নাছোড়। ফলে তাঁর সহকারী মহম্মদকে ছুটতে হল টিকিট কাটতে।
কুড়ি মিটার সিঁড়ি নেমে গেছে নীচে। কিছুদিন আগেও ভিতরে আলো ছিল। আমাদের কপাল, সেদিন আলো নেই। মোবাইলের টর্চ জ্বেলে ঢুকলাম। একটা সোঁদা, গুমোট গন্ধ নাকে এল। ঢালু সরু সুড়ঙ্গ ধরে নামতে হয়, আরও তিরিশ মিটার নীচে। বাইরের থামগুলো যেখানে আয়নার মতো মসৃণ, এখানে ছাদ আর দেওয়াল খরখরে, অমসৃণ। কেউ পালিশ করার চেষ্টাই করেনি। আসলে ভিতরে তো জীবিত মানুষের ঢোকার কথাই নয়।
হঠাৎ পথ শেষ। সামনে বিরাট একটা কুয়ো। রেলিং না থাকলে সোজা পড়ে যেতাম। মোবাইলের আলো ফেলতেই ও-পাশের দেওয়ালে ঝিকমিক করে উঠল সবুজ-নীল টালি। আর কুয়োর ভিতরে পাথরের বিশাল এক শবাধার।
ভিতরটা দেখতে বড়োজোর দশ মিনিট লাগে। বেরোনোর সময় রোদে চোখ ধাঁধিয়ে গেল।
নিরাপত্তারক্ষী বসির মোবাইলে একটা ভিডিও দেখালেন—আলো জ্বললে ভিতরটা কেমন দেখায়। ভালো লাগল না। অন্ধকারে একটা ছমছমে ভাব আছে, ইতিহাস যেন ফিসফিস করে। আলো জ্বললে সে-সব উবে যায়।
বসির তারপর যা বললেন, শুনে সবাই থমকে গেলাম। এত কাণ্ড করে বানানো পিরামিডের ভিতরে জোসারের মমিটাই রাখা হয়নি! সেটা হয়তো রাখা ছিল দক্ষিণ মিশরের বেট খালাফে, সাধারণ একটা মাস্তাবার মধ্যে। বোঝো কাণ্ড! ফারাওদের অদ্ভুত-সব খেয়াল।
পিরামিডের গা ঘেঁষে একটা ছোট্ট ঘর। চৌকো, চারদিক বন্ধ, একটা মাত্র জানালা। ভিতরে জোসারের মূর্তি, কিন্তু তার সামনেটাও নিরেট পাথরে ঢাকা। তারপর প্রায় আড়াই হাজার বছর পরে টলেমিদের আমলে সেই পাথরে দুটো ছোটো গর্ত করা হয়। কেন?
আহমেদ বললেন, ওই গর্ত দিয়ে মৃত ফারাওকে পুজোর উপাচার দেওয়া হত। ঠিক শুনেছি তো? আবার জিজ্ঞাসা করলাম। একই উত্তর।
ভাবো তো ব্যাপারটা। পিরামিডটা তৈরি হয়েছিল চার হাজার সাতশো বছর আগে। তার প্রায় আড়াই হাজার বছর পরেও লোকে নিয়ম করে এখানে এসে পুজো দিয়ে যেত। আজকের কোনও জিনিস কি আড়াই হাজার বছর পরেও কেউ মনে রাখবে?
গিজার পিরামিড
পরদিন সকালে বাস আমাদের নামাল গিজার পিরামিড থেকে কিছুটা দূরে। মরুভূমির ওপর দিয়ে হেঁটে যেতে হয়। এই হাঁটাটুকুই সবচেয়ে অদ্ভুত। প্রতিটা পা ফেলার সঙ্গে সঙ্গে জিনিসটা বড়ো হচ্ছে, আরও বড়ো হচ্ছে। আহমেদ কী বলছেন কানে ঢুকছিল না। ক্যামেরা বার করতেও ইচ্ছে করল না।
খুফুর গ্রেট পিরামিড। খ্রিস্টপূর্ব ২৫৬০ অব্দে তৈরি। তেইশ লক্ষ পাথরের চাঁই। এক-একটার ওজন দুই টন থেকে সত্তর টন পর্যন্ত। টানা তিন হাজার আটশো বছর ধরে এটাই ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু মনুষ্যনির্মিত জিনিস।
কাছে গিয়ে একটা পাথরে হাত রাখলাম। রোদে গরম, খরখরে। সাড়ে চার হাজার বছর ধরে পাথরটা ঠিক এইখানেই গ্যাঁট হয়ে বসে আছে। আরবিতে একটা প্রবাদ আছে— মানুষ ভয় পায় সময়কে, আর সময় ভয় পায় পিরামিডকে। ছোটোবেলায় একটা বইয়ে পড়েছিলাম, ভিনগ্রহের এলিয়েনরা নাকি পিরামিড বানাতে সাহায্য করেছিল। পিরামিডের সামনে দাঁড়িয়ে সে-কথা আর বিশ্বাস হয় না। অঙ্কে আর বিজ্ঞানে ওরা এত এগিয়ে ছিল যে কারও সাহায্য লাগেনি। মামুলি কিছু যন্ত্রপাতি আর উন্নত কারিগরি জ্ঞান দিয়ে বানিয়েছিল অত্যাশ্চর্য সৌধগুলো।
আর একটা গল্পও ভুল প্রমাণিত হয়েছে। গ্রিক ঐতিহাসিক হেরোডোটাস লিখেছিলেন, এক লাখ ক্রীতদাসকে চাবুক মেরে খাটিয়ে পিরামিড বানানো হয়। কিন্তু ১৯৯০ সালে প্রত্নতাত্ত্বিক জাহি হাওয়াস গিজাতেই খুঁজে পেলেন শ্রমিকদের কবরখানা, তাদের আস্ত গ্রাম। তারা ক্রীতদাস ছিল না। মাইনে পেত, রেশনে নিয়মিত মাংস পেত, গ্রামে ডাক্তার ছিল, হাড় ভাঙলে প্লাস্টারও হত।
গিজার চত্বরের তিনটি প্রধান পিরামিডের ভিতরেই পর্যটকরা প্রবেশ পারেন। তবে ভিতরে ঢোকার টিকিট আলাদা। এবার আর ভুল করিনি, গ্রেট পিরামিডের ভিতরে প্রবেশের টিকিট আগেই কেটে রেখেছিলাম।
মজার ব্যাপার, আজ আমরা যে-পথে ঢুকি, সেটা মিশরীয়দের বানানো নয়। ৮২০ খ্রিস্টাব্দে বাগদাদের শাসক আল-মামুন ঢোকার রাস্তা খুঁজে না পেয়ে পিরামিডের গায়ে গর্ত খুঁড়তে শুরু করেন, আর ভাগ্যক্রমে সেই গর্ত গিয়ে মেশে একটা গোপন সুড়ঙ্গে।
সেই পথেই ঢুকলাম। প্রথমে সমতল সাতাশ মিটার, তারপর অ্যাসেন্ডিং প্যাসেজ—উনচল্লিশ মিটার লম্বা ঢালু সুড়ঙ্গ। উচ্চতায় চার ফুট, চওড়ায় তিন। সোজা হয়ে দাঁড়ানোই যায় না। ওই একই সরু পথে লোক ঢুকছে আর বেরোচ্ছে, কোনোরকমে গা ঘেঁষে পাশ দিতে হচ্ছে।
কষ্টটা উশুল হয়ে গেল গ্র্যান্ড গ্যালারিতে পৌঁছে। ছেচল্লিশ মিটার লম্বা, ন’মিটার উঁচু এক ঢালু হলঘর, দু-পাশে লাল গ্রানাইটের দেওয়াল। ওপরের দিকে ক্রমশ সরু হয়ে উঠে গেছে। সাড়ে চার হাজার বছর পরেও পাথরের মসৃণতা এতটুকু নষ্ট হয়নি।
তারপর আবার নীচু হয়ে, প্রায় হামাগুড়ি দিয়ে, কিংস চেম্বার। মাঝখানে গ্রানাইটের বিশাল শবাধার। ফাঁকা। কোনও মমি সেখানে পাওয়া যায়নি, চোরেরা হাজার হাজার বছর আগেই সব নিয়ে গেছে।
হলঘরে কান পাতলে কতরকম ভাষা শোনা যায়—ইংরেজি, ফরাসি, স্প্যানিশ, আরবি। বাংলাও। কলকাতা থেকে আসা কয়েকজনের সঙ্গে দেখা হয়ে গেল ওই ভিতরেই।
বেরিয়ে এসে বাসে উঠতেই আহমেদ একটা কথা বললেন যা আমার আজও মনে আছে।— “সময় বড়ো রসিক। যে মানুষটা পৃথিবীর সবচেয়ে বড়ো জিনিসটা বানালেন, গোটা মিশর খুঁজে তাঁর একটাও বড়ো মূর্তি পাওয়া যায়নি।”
খুফুর একটা মাত্র মূর্তি আছে। হাতির দাঁতের তৈরি, সাড়ে সাত সেন্টিমিটার লম্বা। ক্রেডিট কার্ডের চেয়েও ছোটো। ছেলে খাফরে আর নাতি মেনকাউরে— কেউ বাবার চেয়ে উঁচু পিরামিড বানাননি। তবে খাফরে চালাকি করে নিজেরটা দশ মিটার উঁচু জমির ওপর বসিয়েছিলেন যাতে দেখতে সবচেয়ে উঁচু লাগে।
স্ফিংস
গিজার চত্বরে সবচেয়ে রহস্যময় মূর্তি, স্ফিংস। একটাই বিরাট চুনাপাথর কেটে বানানো—সিংহের শরীর, মানুষের মুখ। তিয়াত্তর মিটার লম্বা, কুড়ি মিটার উঁচু। পৃথিবীর সবচেয়ে বড়ো একশিলা মূর্তি। মুখ করে আছে ঠিক পুবদিকে, ওঠা সূর্যের দিকে।
আহমেদ একটা গল্প শোনালেন। হাজার বছর আগে রাজপুত্র চতুর্থ থুতমোস মরুভূমিতে শিকার করতে করতে ক্লান্ত হয়ে একটা বড়ো পাথরের ছায়ায় ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। স্বপ্নে দেখলেন, দেবতা হোরাস এসে বলছেন—বালিতে ডুবে থাকা আমার মূর্তিটাকে উদ্ধার করো, তুমি ফারাও হবে। থুতমোস ধড়মড় করে উঠে বসলেন। তিনি রাজার চতুর্থ ছেলে। তিন-তিনজন বড়ো ভাই থাকতে তিনি ফারাও হবেন কী করে? তবুও তিনি কাজে লেগে গেলেন। কয়েক মাস ধরে শ্রমিকরা বালি সরাল। বেরিয়ে এল স্ফিংস। থুতমোস তার ভাঙা পা সারালেন, লাল-নীল-হলুদ রঙ করালেন, আর দুই পায়ের মাঝখানে একটা পাথর বসিয়ে তাতে নিজের স্বপ্নের কথা লিখিয়ে রাখলেন।
সেই পাথরটার নাম ড্রিম স্টেলা। আজও ওখানেই আছে।
আর থুতমোস? তিন বড়ো ভাইকে টপকে সত্যিই ফারাও হয়ে গেলেন।
স্ফিংসের নাক নেই, দাড়ি নেই। কেউ বলে কামানের গোলায় ভেঙেছে, কেউ বলে অন্য কথা। রোমান ঐতিহাসিক প্লিনি লিখে গেছেন, তাঁর সময়ে স্ফিংসের মুখ লাল রঙে রাঙানো থাকত, আর সেই মুখে ছিল মিষ্টি হাসি। এখন বালির ঝাপটায় ক্ষয়ে যাওয়া মুখটা দেখে কেন জানি বড়ো বিষণ্ণ লাগে।
কায়রো মিউজিয়াম
মিশরের রাজধানীতে আমাদের পরের দ্রষ্টব্য কায়রো মিউজিয়াম। লাল রঙের দোতলা বাড়ি, তৈরি হয়েছিল ১৮৯৭ সালে। ঢুকতেই রোসেটা পাথরের প্রতিরূপ। একই কথা তাতে তিনরকম লিপিতে লেখা—হায়রোগ্লিফ, ডেমোটিক আর গ্রিক। এই পাথরের সূত্র ধরেই পণ্ডিতেরা হাজার বছরের অপঠিত হায়রোগ্লিফ পড়তে শিখেছিলেন। আসল পাথরটা অবশ্য মিশরে নেই, ব্রিটিশ মিউজিয়ামে। মিশর বহুবার ফেরত চেয়েছে, ব্রিটিশরা দেয়নি।
আহমেদের কথা শেষ হওয়ার আগেই আমরা প্রায় সবাই একসঙ্গে বলে উঠলাম—কোহিনূর!
একটা কাচের বাক্সে রাখা ছিল নারমার প্যালেট, খ্রিস্টপূর্ব ৩১০০ অব্দের একটা পাথরের প্লেট। মিশরের প্রথম রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা নারমারের ছবি খোদাই করা তাতে। প্লেটের মাঝখানে মুখোমুখি দুটো অদ্ভুত জন্তু—শরীরটা চিতাবাঘের, কিন্তু গলা আর মুখ সাপের মতো লম্বা। ওদের নাম সারপোপার্ড। আমার তো দেখেই মনে হল, এ তো সুকুমার রায়ের হাঁসজারুর মিশরীয় ভাই!
সারপোপার্ড
মিউজিয়ামের দোতলার একটা ঘরে তুতানখামেন। খাঁটি সোনার শবাধার, পাথর বসানো গয়না, ভাঁজ করা খাট, রথ, তলোয়ার—এমনকি ধান, গম, সবজি আর রসুন পর্যন্ত। সবই তিন হাজার তিনশো বছরের পুরোনো। সোনার মুখোশটার রঙ আজও এমন ঝকঝকে যে মনে হয় কালকেই বানানো।
কিন্তু আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছিল অন্য একটা জিনিস। বালক রাজার মূর্তির পাশে রাখা তাঁর একজোড়া চটি। কাঠ, চামড়া আর সোনার পাত দিয়ে তৈরি, তিন হাজার তিনশো বছরের পুরোনো, আর এখনও নতুনের মতো চকচক করছে। তলার দিকটা উলটে দেখলে আরও মজা। সোলে আঁকা আছে বন্দিদের ছবি, আর সামনে-পিছনে চারটে করে ধনুক। মানে, ফারাও যখনই হাঁটতেন, তাঁর শত্রুরা থাকত তাঁর পায়ের নীচে।
পাঁচটা বাজতেই নিরাপত্তারক্ষীরা এসে বললেন, সময় শেষ। যাদুঘরে আছে এক লক্ষ কুড়ি হাজার জিনিস, আমরা দেখেছি তার সামান্য কয়েকটা। বেরিয়ে আসতে-আসতেই আরও কুড়ি মিনিট লেগে গেল। বাইরে দোকানের প্লাস্টিকের ছাউনি চুঁইয়ে নামছিল বিকেলের মরচে-পড়া আলো।
মিশর থেকে আমি কোনও মমি নিয়ে ফিরিনি, ফারাওয়ের ধনরত্নও না। ফিরেছি কতগুলো গল্প নিয়ে। আর একটা কথা নিয়ে, যেটা আহমেদ বলেননি, পিরামিডই বলেছিল—মানুষ বাঁচে খুব অল্প দিন, কিন্তু মানুষের মাথা আর হাত যা বানায়, তা হাজার হাজার বছর দাঁড়িয়ে থাকতে পারে।
শুভাঞ্জন ব্যানার্জী ▪ প্রবাহনীল দাস
লিও তলস্তয় ▪ নলিনাক্ষ ভট্টাচার্য
তাপস মৌলিক ▪ অংশু পাণিগ্রাহী ▪ বাণীব্রত গোস্বামী ▪অরিন্দম ঘোষ ▪ রঞ্জন দাশগুপ্ত ▪ সিদ্ধার্থ দাশগুপ্ত ▪শাশ্বত কর ▪ রাজীব রায় গোস্বামী ▪ সায়নদীপা পলমল ▪ প্রদীপ কুমার দাস
বদ্রীনাথ পাল ▪ তাপস বাগ ▪ বসন্ত পরামানিক ▪ গোবিন্দ মোদক ▪ সুব্রত দাস ▪ অর্ণব ভট্টাচার্য ▪ সুজাতা চ্যাটার্জী ▪ মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় দাস ▪ মধুমিতা ভট্টাচার্য ▪ ড. রমলা মুখার্জী ▪ সনৎকুমার ব্যানার্জী ▪ বিদ্যুৎ মিশ্র ▪ রাজর্ষি মণ্ডল ▪ রূপালী মুখোপাধ্যায় ▪ শক্তিপদ পণ্ডিত ▪ শম্ভু সরকার ▪ সুব্রত চৌধুরী
অদিতি ভট্টাচার্য ▪ দীপঙ্কর চৌধুরী ▪ মৌসুমী রায় ▪ সবিতা রায় বিশ্বাস ▪ সহেলী রায় ▪ কিশোর ঘোষাল
অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় ▪ অরিন্দম দেবনাথ ▪ কমলবিকাশ বন্দ্যোপাধ্যায় ▪ দীপক দাস ▪ ড. উৎপল অধিকারী ▪ চন্দ্রানী মজুমদার
সায়ন্তনী পলমল ঘোষ ▪ সোমা দে ▪ শংকর লাল সরকার ▪ সন্দীপন সাহা
অলংকরণ
মায়াসখা নন্দী ▪ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ▪ একপর্ণিকা ক্রিয়েটিভস
দু-হাজার তিনশো বছর আগে পাটলিপুত্র থেকে তক্ষশিলা পর্যন্ত বাণিজ্যদলের সংঘাতবহুল রোমাঞ্চকর যাত্রাপথ শেষে এক তরুণ পৌঁছল তক্ষশিলায়। সেই নগরীর রাজনৈতিক পরিস্থিতি তখন উত্তাল। একদিকে গ্রিক বীর আলেকজান্ডার, অন্যদিকে আচার্য কৌটিল্যের অখণ্ড ভারতের স্বপ্নে মশগুল একদল যোদ্ধা। অসংখ্য চরিত্রের ঘনঘটা, ষড়যন্ত্র, কাপুরুষতা আর রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে কিছু মানুষের আত্মমর্যাদা আর স্বাধীনতা রক্ষার সাহসী সংগ্রামের আখ্যান এই উপন্যাস।
বিশেষ মুহূর্তে মন্ত্রের মাধ্যমে উচ্চারিত নির্দিষ্ট কম্পাঙ্কের ধ্বনি, তরঙ্গের আকারে যে-কোনো প্রাণীর মস্তিষ্ককে জড়বস্তুতে পরিণত করতে পারে, তাকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা থেকে মস্তিষ্কের মধ্যে রক্তক্ষরণ বা দুরারোগ্য ব্যাধির মাধ্যমে তাকে হত্যা করা, দীর্ঘ সময়ের জন্য নিজের শরীরের বার্ধক্যজনিত পরিবর্তনগুলিকে আটকে দেওয়া, ভবিষ্যৎ দর্শন, এ সবই সম্ভব। শুরু হয়েছে সেই আদিম তন্ত্রের দেবতা 'কাবাক্রব্যাদ'কে জাগিয়ে তোলার খেলা। কে জিতবে সেই খেলায়? আদিম তন্ত্রগুরু, না আধুনিক বিজ্ঞান? একটি ছোট্ট মেয়ে কীভাবে হয়ে উঠল সেই যজ্ঞের আহুতি?
মানস সরোবরে যাওয়ার জন্য লিপুলা-পাস পেরিয়ে তিব্বতে প্রবেশ করলে প্রায় সবুজ বিহীন বিস্তীর্ণ রুক্ষ প্রান্তর পড়ে, যেটার গড় উচ্চতা প্রায় ১৪ হাজার ফিট। সেখান থেকে মানসের হ্রদ প্রায় পঞ্চাশ কিলোমিটার উত্তরে। তার বাঁয়ে আছে 'ভয়াল রাক্ষসতাল'। স্থানীয় যাযাবরদের মতে রাক্ষসতালের নীচে থাকে সিরিঞ্জুরা। কারা এরা? এখনও কোনো প্রাণী বিজ্ঞানী নাকি এদের সনাক্ত করতে পারেননি। যারা নিজের চোখে দেখেছে, বেঁচে ফেরেনি। কেউ বিশ্বাস করে, কেউ করে না। অনেকে বলেন মানুষের অনেক আগে পৃথিবীর বাইরে থেকে এসেছে এরা। কিন্তু তারা কি এখনও আছে?