দেবারুণ ব্যানার্জী

ক্লাইমেট ফিকশনের নাম আগে কখনও শুনিনি, তাই নাম শুনে পড়ার একটা কৌতূহল ছিল। অপারেশন ব্ল্যাক অ্যারো পড়ার সুবাদে লেখক সুদীপ চ্যাটার্জীর লেখনীর সঙ্গে পরিচিত হয়েছিলাম আগেই। তাই যখন জানতে পারলাম অনলগর্ভা ওঁরই লেখা ক্লাইমেট ফিকশন, তখন পড়ার লোভটা সামলাতে পারলাম না। অবশেষে কিনেই ফেলা গেল। পড়াও শুরু হল। হ্যাঁ, বলতে হবে বইয়ের মতো বই লিখেছেন বটে লেখক। প্রকৃতি কীভাবে ধ্বংস হচ্ছে প্রতিনিয়ত সেই নিয়েই এই বই। ব্রাজিলের আমাজন অরণ্যকে ঘিরে গড়ে উঠেছে গল্পের ছায়ায় মেশানো কঠিন সত্য ও অ্যাডভেঞ্চার। সঙ্গে অ্যাকশন বা থ্রিলেরও কমতি নেই। বর্তমান যুগে কর্পোরেট লবিবাজি কতটা শক্তিশালী এবং মুনাফাপ্রেমী হলে এবং একটা দেশের নির্বাচিত সরকার কতটা ক্ষমতালোভী হলে অরণ্য ধ্বংস করতে অনুমতি দেয় তার সুস্পষ্ট দিক ফুটে উঠেছে গল্পে। সরকারের এই স্বেচ্ছাচারীতা রুখতে এবং প্রকৃতিকে বাঁচাতে এগিয়ে আসে একদল সমাজসেবী ও মিডিয়া। সরকারের বিরুদ্ধাচারণ করার জন্য ইতিমধ্যেই সরকার তাদের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের তালিকাভুক্ত করেছে। যদিও তারা বিন্দুমাত্র দমে না গিয়ে দ্বিগুণ উৎসাহ নিয়ে সরকারের যাবতীয় অন্যায় পদক্ষেপের বিরূদ্ধে তদন্ত চালিয়ে যেতে উদ্যত হয়। ইতিমধ্যে আমাজন অরণ্যে কেউ বা কাদের ষড়যন্ত্রে ভয়ংকর আগুন লাগে। সেই আগুন নেভাতে গিয়ে একাধিক কর্মী এক ভয়ংকর রোগে আক্রান্ত হন। শুধুমাত্র কর্পোরেট স্বার্থ কীভাবে প্রকৃতির ক্ষতি প্রতিনিয়ত করে চলেছে তার সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় এই লেখায়, উপরন্তু গোদের উপর বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে লাইভ স্টক ফার্মিং। গল্প পড়লে বোঝা যায় এই গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর যুগে স্কট, লিওনার্দো, এলিজা, জোসেফিন, আরিফ, মার্সেলো এদের মতো ব্যক্তিত্ব খুব দরকার, যাতে কর্পোরেট চক্রান্ত এর হাত থেকে প্রকৃতি বাঁচতে পারে অন্তত মানবসভ্যতার খাতিরে। লেখনী যথেষ্ট সাবলীল ও চমৎকার। তবে কাহিনির ইতিটা লেখক একটু তাড়াতাড়ি টেনেছেন বা অতি সরলীকরণ করে ফেলেছেন বলে মনে হল।

প্রকাশককেও অনেক ধন্যবাদ সাধারণ গড়পড়তা ধারণার বাইরে গিয়ে এরকম ভিন্ন স্বাদের কাহিনি পাঠককুলের সামনে তুলে ধরার জন্য। লেখক আর প্রকাশকের কাছে আশা রইল ভবিষ্যতেও যেন এরকম আনকমন বই পাব।

আর স্কট, এলিজা এরা কারা এবং কোন মাইক্রো-অর্গানিজম কীভাবে ওই ভয়ংকর রোগের জন্য দায়ী, তা জানতে হলে পড়ে ফেলতে হবে বইটা।


রেটিং: ৭.৫/১০